মুজিযা' হলো আল্লাহ প্রদত্ত অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হওয়া।
হুদায়বিয়ার সন্ধিকে আল্লাহ তায়ালা 'ফাতহুম মুবিন' বা 'প্রকাশ্য বিজয়' বলেছেন।
হুদাইবিয়ার সন্ধি ৬ষ্ঠ হিজরিতে সম্পাদিত হয়। এ সন্ধির কিছু কিছু শর্ত আপাতদৃষ্টিতে মুসলমানদের জন্য অপমানজনক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এ সন্ধির গুরুত্ব ও প্রভাব ছিল অপরিসীম ও সুদূরপ্রসারী। এ কারণে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এ সন্ধিকে 'ফাতহুম মুবিন' বা 'প্রকাশ্য বিজয়' বলে উল্লেখ করেছেন।
উদ্দীপকের প্রথমাংশে হযরত ঈসা (আ.)-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা হযরত ঈসা (আ.)-কে অলৌকিক ক্ষমতা দান করেন। হযরত ঈসা (আ.) দোলনায় থাকা অবস্থায় বাকশক্তি লাভ করেন। আল্লাহ তায়ালা মুজিযা হিসেবে তাঁকে মৃতকে জীবিত, জন্মান্ধকে দৃষ্টিদান করা ও শ্বেতকুষ্ঠরোগীকে স্যারোগ্য করার শক্তি দান করেছিলেন। এছাড়া তিনি আল্লাহর হুকুমে মাটির তৈরি পাখিকে ফুৎকার দিয়ে জ্যান্ত বানিয়ে ফেলতেন। আল্লাহ বলেন, "আমি তোমাদের জন্য মাটি দ্বারা পাখির আকৃতি তৈরি করব। অতঃপর তাতে ফুৎকার দিব। ফলে আল্লাহর হুকুমে সেটি পাখি হয়ে যাবে। আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্তকে নিরাময় করব এবং আল্লাহর হুকুমে মৃতকে জীবিত করব।" (সূরা আলে-ইমরান: ৪৯) উদ্দীপকেও বর্ণিত হয়েছে যে, জনাব আরিফুল ইসলাম তার পুত্র জামিলকে একজন মনীষী সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে বলেন, উক্ত মনীষীর জন্মের মধ্য দিয়ে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রকাশ পেয়েছে। যিনি দোলনায় থাকা অবস্থায় বাকশক্তি লাভ করেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের প্রথমাংশের এসব বৈশিষ্ট্য হযরত ঈসা (আ.)-এর প্রতি ইঙ্গিত করে।
উদ্দীপকের শেষাংশে বর্ণিত মহামনীষী বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (স.)। তাঁর জীবনেই রয়েছে মানুষের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আদর্শকে আরবিতে 'উছওয়া' বলে। আদর্শ বলতে অনুকরণীয়, অনুসরণীয় ও গ্রহণযোগ্য চালচলন এবং রীতিনীতিকে বোঝায়। মানুষের সামগ্রিক জীবন সুন্দর ও সফল করতে যেসব মনীষীর জীবনকর্ম অনুসরণ করা হয় তাই হলো জীবনাদর্শ। শেষ নবি ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। যেমন- আল্লাহ তায়ালা বলেন, "অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জীবনে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" (সূরা আল-আহযার: ২১) আদর্শ জীবনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- (১) মানুষের মধ্যে সততা, বিশ্বস্ততা, উদারতা ও পরমতসহিষ্ণুতার সমন্বয় থাকা। (২) আত্মসংযম, পরোপকারিতা, বদান্যতা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা, বিনয় ও নম্রতা থাকা এবং (৩) সুশৃঙ্খলতা, পারস্পরিক সম্প্রীতি, নিরপেক্ষতা, ক্ষমা ও ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদি গুণের অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকা। রাসুল (স.)-এর জীবনে আমরা উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখতে পাই। তাঁর মধ্যে সকল সৎ গুণের সমাবেশ ঘটেছিল। তাঁর চরিত্রে কোনো প্রকার অসৎ চরিত্র, কখনো দেখা যায়নি। তাই তিনি হলেন মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ।
উদ্দীপকের শেষাংশে আরিফুল ইসলাম বলেন যে, একজন মহামনীষী মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে পার্শ্ববর্তী একটি-শহরে আশ্রয় নেন। যেখানে তিনি বিবদমান সম্প্রদায়গুলোকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে একটি আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন।.
উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত মহামনীষী মুহাম্মদ (স.) ছিলেন সকল 'মানুষের আদর্শ। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
Related Question
View Allইসলাম ধর্মজ্ঞানে সুপণ্ডিত ব্যক্তিকে মুজতাহিদ বলা হয়।
অশ্লীলতা সমাজকে কলুষিত করে, পক্ষান্তরে লজ্জাশীলতা সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লজ্জাশীলতা মানুষের পশুত্বকে দূর করে পরিশুদ্ধ করে। এজন্যই রাসুল (স.) বলেছেন, "যার মধ্যে অশ্লীলতা আছে, তা তাকে ত্রুটিযুক্ত করে। আর যার মধ্যে লজ্জাশীলতা আছে, তা তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে।" (তিরমিযি)
লিমন সাহেব হযরত রাবেয়া বসরি (র.)-এর নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তার কন্যার নাম সানিয়া রেখেছেন।
মহান তাপসী রমণী রাবেয়া বসরি (র.) ৯৯ হিজরি মোতাবেক ৭১৭খ্রিষ্টাব্দে ইরাকের বসরা নগরীতে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, চার বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ ছিলেন। তাই তাঁর নাম রাখা হয় রাবেয়া (চতুর্থা)। উদ্দীপকেও বর্ণিত হয়েছে যে, লিমন সাহেব তার দ্বিতীয় কন্যার নাম রাখেন 'সানিয়া'। বন্ধুরা কারণ জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন আরবিতে 'সানিয়া' অর্থ দ্বিতীয়া। সুতরাং বলা যায়, লিমন সাহেব রাবেয়া বসরি (র.)-এর নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তার কন্যার নাম রেখেছেন।
ছাত্র-শিক্ষকের আলোচনায় যে খলিফার কর্মকান্ড ফুটে উঠেছে, তিনি হলেন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.)। তাঁর কৃতিত্ব ও চরিত্র অতুলনীয়।
হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.)-কে দ্বিতীয় উমর ও ইসলামের পঞ্চম খলিফা বলা হয়। তিনি আল্লাহর নির্দেশ পালনকারী, বিনয়ী ও নম্র প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তার অন্তরে এত আল্লাহভীতি ছিল যে, তিনি প্রায় আল্লাহর ভয়ে কাঁদতেন। তাঁর ন্যায়পরায়ণতা, ধর্মপরায়ণতা, সাম্য-মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব ও সকলের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে সক্রিয়তা তা তাঁকে অনেক মর্যাদাবান করেছে। হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.) খলিফা হয়েও অত্যন্ত সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে তিনি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করতেন। তাঁর সময়ে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালনে স্বাধীন ছিল। তিনি সাম্প্রদায়িকতার বিপরীতে উদার চিন্তার মানুষ ছিলেন। তাঁর আমলে ব্যাপকভাবে হাদিস সংকলিত হতে থাকে। উদ্দীপকেও ছাত্রদের উদ্দেশ্যে শিক্ষক বললেন যে, যার শাসনামলে মানুষের আর্থিক বৈষম্য দূর হয়েছে এবং মানুষ গণতান্ত্রিক শান্তি লাভকরেছে, তিনিই রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি হাদিস সংকলনেরও উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
সুতরাং, উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.) হলেন উক্ত খলিফা, যার চরিত্র এবং কৃতিত্ব অতুলনীয়।
খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.) শিক্ষকদের জন্য মাথাপিছু মাসিক ১০০ দিনার ভাতার ব্যবস্থা করেন।
হযরত আয়েশা (রা.) সর্বগুণে গুণান্বিতা ছিলেন। তিনি ছিলেন বিচক্ষণ, বুদ্ধিমতী, সাধারণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারিণী। একইসাথে তিনি গৃহস্থালী বিদ্যায়ও পারদর্শী ছিলেন। শরিয়তের বিভিন্ন মাসয়ালা মাসায়েল সম্পর্কে তিনি জ্ঞান দান করতেন। এজন্য মহানবি (স.) আয়েশা (রা.)-কে সারিদ তথা আরবের শ্রেষ্ঠ খাদ্য যা রুটি, গোশত ও ঝোলের সমন্বয়ে তৈরি হয় তার সাথে তুলনা করে বলেছেন, "নারী জাতির ওপর আয়েশা (রা:)-এর মর্যাদা তেমন, যেমন খাদ্যদ্রব্যের ওপর সারিদের মর্যাদা।" (বুখারি ও ইবনে মাজাহ)
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!