নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশিত বিশেষ যে ইবাদত পালন করা হয় তাকে সালাত বলে।
ইবাদত দুই প্রকার: যথা-
১. হাক্কুল্লাহ বা আল্লাহর অধিকার : ইবাদতের মধ্যে কতগুলো ইবাদত শুধু আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত সেগুলোই হাক্কুল্লাহ; যথা-সালাত, সাওম, হজ জিকির, তাসবিহ ইত্যাদি।
২. হাক্কুল ইবাদ বা বান্দার অধিকার: মানুষের প্রতি এবং অন্যান্য সৃষ্টির প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনই হাক্কুল ইবাদ; যথা- মাতাপিতার সেবা, ভাইবোনের সম্পর্ক, প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ক রক্ষা, সৃষ্টির সেবা, শিক্ষককে সম্মান করা ইত্যাদি।
সালাত একটি মৌলিক ইবাদত। মৌলিক ইবাদত হিসেবে সালাত একটি বিশেষ গুরুত্ববহ ইবাদত। সালাত হলো দীনের খুঁটি। খুঁটি ছাড়া যেমন ঘর হয় না তেমনি সালাত ছাড়াও দীন পরিপূর্ণ হয় না। এ কারণে সব কাজের ঊর্ধ্বে সালাত পালন করা আবশ্যক। জনাব আরিফের মধ্যেও এ ইবাদত পালনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের জনাব আরিফ সালাত আদায় শেষে উপার্জনের জন্য জমিনে ছড়িয়ে পড়েন। সালাতের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা সালাত নামক ফরজ ইবাদতটি পালন না করা কবিরা গুনাহ। সালাত ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণ করা ও ইমান নবায়নের বাস্তব প্রমাণ। এ ইবাদতটি কুফর ও ইমানের মধ্যে পার্থক্য রচনা করে। রাসুল (স.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করে সে কুফরি করে।" (সহিহ বুখারি)। সালাত মহান আল্লাহর প্রতি মানুষের আনুগত্যের বাস্তব প্রকাশ। ইবাদতসমূহের মধ্যে এটি সর্বোত্তম ও সার্বজনীন। সালাত আদায়ের মাধ্যমে মানুষ দুনিয়া এবং আখিরাতের সফলতা অর্জন করতে পারে। রাসুল (স) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সালাত হেফাজত করে, কিয়ামতের দিন তার জন্য সালাত হবে জ্যোতি, তার হিদায়াতের দলিল এবং মুক্তির উপায়, ” এ আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয়, সালাত অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি ইবাদত।
ইসহাক সাহেবের উক্তিতে ইবাদতের অপরিহার্যতার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে মানুষ মহান আল্লাহর আদেশ যেমন- সালাত, জাকাত, হল, সাওম পালন করা এবং নিষেধ যেমন- সুদ, ঘুষ, হিংসা, ফিতনা-ফাসাদ, বেপদী, বেহায়াপনা ইত্যাদি পরিহার করে চলাকে ইবাদত বলে। আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ মেনে চলা প্রত্যেকের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। ইহসাক সাহেবের উত্তিতে এ বিষয়টি ফুটে ওঠেছে।
উদ্দীপকের ইসহাক সাহেব ইবাদতের গুরুত্বারোপ করে আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্যের পরামর্শ দেন। মানুষের জীবন ধারায় ইবাদতকে উপেক্ষা বা অস্বীকার করা যায় না। ইবাদত ছাড়া বান্দা মুমিন বা মুসলিম থাকতে পারে না। ইমানের অপরিহার্য অঙ্গ হচ্ছে সৎকর্ম করা, ইবাদত বন্দেগী করা। অপরদিকে ইবাদতের পূর্বশর্ত হলো আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য। এ ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ, 'হে মুহাম্মদ (স) বলুন, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো ও রাসুলের অনুগত হও। আর যদি তোমরা এ আনুগত্য থেকে বিমুখ হও, তাহলে জেনে রেখো আল্লাহ কাফিরদের ভালোবাসেন না' (সুরা আলে ইমরান: ৩২)। এ আয়াতের মর্মার্থ হলো আল্লাহ ও তার রাসুল (স) এর নির্দেশিত পথ অনুসরণই ইবাদতের মূল কথা। সেজন্য আনুষ্ঠানিক ইবাদত যেমন-সালাত, সাওম, হজ, জাকাত প্রভৃতি সম্পাদনের পর যে ব্যক্তি যে পর্যায়ের দায়িত্বশীল, যিনি যেক্ষেত্রে নিয়োজিত, আল্লাহ ও তার রাসুল (স) এর নির্দেশিত পথ অবলম্বন করা তার জন্য সেক্ষেত্রে ইবাদত। আর আল্লাহ তায়ালা ও তার রাসুলের নির্দেশিত পথের বিপরীত পথ অবলম্বন করা বা এর পরিপন্থি জীবনযাপন করা স্পষ্টত আল্লাহ ও রাসুলের (স) আনুগত্য থেকে বিমুখ হওয়া।
সুতরাং আমাদের উচিত জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগীর মধ্যে নিয়োজিত থাকা।
Related Question
View Allযেসব ইবাদতের ওপর ইসলামের মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে রয়েছে তাই মৌলিক ইবাদত।
মহানবি (স) ইসলামের মৌলিক ইবাদত হিসেবে চার রকমের ইবাদতের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, মুহাম্মদ (স) তাঁর বান্দা ও রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, হজ করা ও রমজানের রোজা পালন করা। এ পাঁচটি ইবাদতের মধ্যে প্রথমটি আকিদাগত বিষয়। বাকি চারটি হলো আনুষ্ঠানিক ইবাদত। আর মৌলিক ইবাদত বলতে সাধারণত এ চারটি ইবাদতকেই বোঝায়।
জনাব মিরাজের এরূপ অস্বীকৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে কুফর। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম সাওম। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ, স্থায়ী অধিবাসী বা মুকিম এবং সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম নারী, পুরুষের ওপর রমজান মাসের রোজা রাখা ফরজ। জনাব মিরাজের মধ্যে এই ফরজ ইবাদতটি অস্বীকারের দৃষ্টান্ত লক্ষ করা যায়। জনাব মিরাজ নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করেন। কিন্তু ক্ষুধা সহ্য করতে না পারার কারণে তিনি রোজা পালন করতে রাজি নন। অথচ শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণ ছাড়া সাওম পালন না করা কবিরা গুনাহ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর সাওম পালন ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর (আল বাকারা-১৮৩)।
কুরআনের এ আয়াতের আলোকে বোঝা যায়, এটি অবশ্যপালনীয়। শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণে এটা পালন সম্ভব না হলেও পরে কাযা করতে হবে বা ফিদইয়া দিতে হবে। কেউ যদি ইসলামের এই ফরজ বিধানকে অস্বীকার করে তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। জনাব মিরাজ ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত এবং বুনিয়াদি স্তম্ভ সাওম পালনে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাই তার মনোভাব কুফরির শামিল।
'আমি ক্ষুধা সহ্য করতে পারি না'- সাওম সম্পর্কে জনাব মিরাজের এরূপ মন্তব্য সম্পূর্ণরূপে শরিয়তসম্মত নয়। মানুষের অনন্ত ও স্থায়ী জীবন হলো পরকালীন জীবন। এই জীবনের সফলতাই প্রকৃত সফলতা। আর পরকালীন জীবনে সফলতার অন্যতম মাধ্যম হলো সাওম পালন করা। এ বিষয়টিই ইমাম সাহেবের মন্তব্যে পরিলক্ষিত হয়।
ইমাম সাহেব জনাব মিরাজের সাওম পালনে অস্বীকৃতির জবাবে বলেছেন, "হাশরের ময়দানে সাফল্য লাভ করতে হলে অন্যান্য মৌলিক ইবাদতের পাশাপাশি তোমাকে অবশ্যই সাওম পালন করতে হবে।” কথাটি অবশ্যই শরিয়তসম্মত এবং যৌক্তিক। এ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবার পর সব মানুষ কিয়ামতের ময়দানে একত্রিত হবে। সূর্য অত্যন্ত নিকটবর্তী হওয়ায় এর প্রচণ্ড তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কোনো ছায়া থাকবে না। এমতাবস্থায় সাওম পালনকারীরা পাবে আরশের ছায়া। সেখানে তারা অত্যন্ত নিরাপদে থেকে বিচারের অপেক্ষায় থাকবে আর বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। কারণ সাওম সেদিন মহান আল্লাহর কাছে তাদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করবে এবং আল্লাহ সেই সুপারিশ কবুল করবেন। অবশ্যই এজন্য সাওম পালনের পাশাপাশি অন্যান্য ফরজ ইবাদতগুলোও পালন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স) ইরশাদ করেন, সাওম ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। সাওম বলবে, হে প্রভু! আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও যৌন কামনা থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে, হে প্রভু! আমি তাকে রাতের বেলায় ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন তাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে।
উপরের আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, ইসলামের দৃষ্টিতে জনাব মিরাজ সাহেবের এরূপ মন্তব্য যথার্থ নয়।
ইবাদত প্রধানত দুই প্রকার। যথা: হাক্কুল্লাহ এবং হাক্কুল ইবাদ।
হাক্কুল ইবাদ বলতে মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে বোঝায়। মানুষ সামাজিক জীব। তাই সমাজবদ্ধ হয়েই তাদেরকে বসবাস করতে হয়। আমরা পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া- প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিকভাবে এক সাথে বসবাস করি। একজনের দুঃখে অন্যজন সাড়া দিই। আপদে-বিপদে একে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করি। পরস্পরের প্রতি এ সহানুভূতি ও দায়িত্বই হাক্কুল ইবাদ তথা বান্দার হক বা অধিকার।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!