পদ্ধতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Method |
জৈবিক সাদৃশ্যের তত্ত্বটি বিবর্তনবাদী মতবাদের প্রবক্তা ও বিশিষ্ট ব্রিটিশ দার্শনিক হার্বার্ট স্পেন্সার-এর।
জৈবিক সাদৃশ্য তত্ত্বের মূলকথা হলো সমাজের বিবর্তন হয় জীব জগতের বিবর্তনের মতোই। হার্বার্ট স্পেন্সার জীবদেহের সাথে সমাজসত্ত্বার অনেক সাদৃশ্য খুঁজে পান এবং তিনি মনে করেন প্রত্যেকটি সমাজ হলো এক একটি জীব দেহের মতো। স্পেন্সারের মতে, এক কোষবিশিষ্ট অত্যন্ত সাধারণ একরকম প্রাণী থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে আজকের জীবজগতের বিকাশ ঘটেছে, তেমনি মানবসমাজেও বিবর্তন ঘটছে। সমাজ আদিম অবস্থা থেকে বিবর্তিত হয়ে বর্তমান স্তরে পৌঁছেছে। আর এটিই হলো স্পেন্সারের জৈবিক সাদৃশ্য তত্ত্ব।
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব আলমগীর হোসেন তার গবেষণায় ঐতিহাসিক পদ্ধতি এবং তাঁর বন্ধু সোহেল খান সামাজিক জরিপ পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।
সাধারণত ইতিহাস বা ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে সমাজ গবেষণার বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি হচ্ছে ঐতিহাসিক পদ্ধতি। অতীতকালের সামাজিক ঘটনাবলির ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে বর্তমান সমাজ সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞানলাভ করার পন্থাই ঐতিহাসিক পদ্ধতি। ঐতিহাসিক পদ্ধতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন গ্রন্থ, বার্ষিকী, জীবনী গ্রন্থ, স্মৃতিকথা, দিনলিপি, বংশ তালিকা ইত্যাদি উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সাধারণত জরিপ বলতে কোনো বিষয় বা ঘটনা সম্পর্কে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করাকে বোঝায়। জরিপ পদ্ধতি হলো বিভিন্ন কৌশলে তথ্য অনুসন্ধান, তথ্যাবলি সংগ্রহ, পরিমাপ ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার একটি প্রক্রিয়া। কোনো জনবসতির ধ্যানধারণা, মনোভাব, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, আয়, জীবনযাত্রার মান, সম্পদ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অপরাধ প্রবণতা ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা করতে হলে জরিপ পদ্ধতি সর্বোত্তম বলে বিবেচিত। জরিপের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে প্রশ্নমান প্রণয়নের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত গবেষণা পদ্ধতিদ্বয় অর্থাৎ ঐতিহাসিক পদ্ধতি এবং সামাজিক জরিপ পদ্ধতির গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক। সমাজবিজ্ঞানের গবেষণায় ঐতিহাসিক পদ্ধতির গুরুত্ব অনেক ব্যাপক। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, আধুনিক বাংলাদেশের সমাজকাঠামো বিশ্লেষণে অন্যান্য পদ্ধতির পাশাপাশি ঐতিহাসিক পদ্ধতিকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ বর্তমান বাংলাদেশের সমাজকাঠামো বিগত সমাজের গর্ভেই অঙ্কুরিত হয়েছিল। তাই বাংলাদেশের সমাজ সম্পর্কে জ্ঞান লাভের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক রচনাবলি এবং অন্যান্য সমাজতাত্ত্বিক গ্রন্থ ও পত্র-পত্রিকার সাহায্য একান্তভাবে প্রয়োজন। তাছাড়া, সমাজ পরিবর্তন সম্পর্কিত পাঠ ও গবেষণায় ঐতিহাসিক পদ্ধতি বেশ সহায়ক।
সমাজ গবেষণায় জরিপ পদ্ধতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য যাচাই বাছাই ইত্যাদি ক্ষেত্রে জরিপ একটি কার্যকরী প্রক্রিয়া। বস্তুত জরিপের সাহায্যে কোনো একটি বিষয়ের সামগ্রিক চিত্র লাভ করা সম্ভব। সামাজিক জরিপ পদ্ধতি সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির পূর্বশর্ত হিসেবেও কাজ করে। তাছাড়া সামাজিক জরিপ প্রকল্প প্রণয়ন ও তত্ত্ব উন্নয়নকল্পে ব্যবহৃত পরীক্ষামূলক নকশার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।
পরিশেষে বলা যায়, সামাজিক গবেষণায় উপরের পদ্ধতি দুটি ব্যাপক গুরুত্বের দাবিদার। এ সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা আবশ্যক।
Related Question
View Allহার্বাট স্পেন্সার তার The Principles of Sociology' গ্রন্থে চার ধরনের সমাজের কথা উল্লেখ করেছেন।
গণমাধ্যম আধুনিককালে ব্যক্তির সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবন নিয়ন্ত্রণের এক শক্তিশালী মাধ্যম।
গণমাধ্যম বলতে বোঝানো হয় সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইত্যাদিকে। এসব মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ, বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান শিশুদেরকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। এর ফলে শিশু-কিশোররা নিজেদেরকে সমাজ-সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে চলতে শেখে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, বিজ্ঞানমনস্কতা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকশিত হয়।
উদ্দীপকের আশুর পঠিত বিষয়ের সাথে অর্থাৎ- সমাজবিজ্ঞানের সাথে বিজ্ঞানের ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে।
আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান ঠিক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মতো নয়, তবে এটি গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের পদ্ধতি ও কলাকৌশল প্রয়োগ করে। বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য প্রজ্ঞা, ধীশক্তি, নির্দেশনা বা ধারণার জন্ম দেওয়া নয়, বরং জ্ঞানের উদ্ভাবন। সেদিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, সমাজবিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে। এক্ষেত্রে প্রথমে গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করা হয়। তারপর নির্ধারিত বিষয়ের ওপর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, সংগৃহীত তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস, অনুসিদ্ধান্ত প্রণয়ন এবং তা যাচাইয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয় এবং এর ভিত্তিতে একটি সাধারণ সূত্রে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা নেওয়া হয়। অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞান বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যবেক্ষণলব্ধ তথ্যসমূহের বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক জ্ঞান অন্বেষণের প্রচেষ্টা চালায়। এদিক থেকে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
উদ্দীপকের আশু বলে, সমাজের গতি-প্রকৃতি জানতে হলে একটি বিষয় অধ্যয়ন করতে হয় এবং এ বিষয়টি পদ্ধতিগত দিক থেকে বিজ্ঞানের মর্যাদা পেয়েছে। আশুর এ বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতি ফুটে উঠেছে। আর সমাজবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক মিল বা সাদৃশ্য যা উপরের আলোচনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, আশুর পঠিত বিষয় সমাজবিজ্ঞানের সাথে বিজ্ঞানের মিল বা সম্পর্ক রয়েছে।
উদ্দীপকের আশুর বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠেছে।
সমাজবিজ্ঞান বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান দান করে। সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের সমাজ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা প্রয়োজন। আর সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে এ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা যায়। সমাজের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার কারা কতটা এবং কীভাবে ভোগ করছে, আর কারাইবা সমাজের সম্পদ ও সুযোগ- সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে জানা যায়।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল ও কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের কৃষির বৈশিষ্ট্য, সম্পর্ক, কাঠামো ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নের সমস্যা দূরীকরণে সমাজবিজ্ঞান পথ নির্দেশ করে। বাংলাদেশে দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জন অসন্তোষ, সম্পদহীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য সমাধান সূত্র নির্ণয়ে সমাজবিজ্ঞান বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সমাজ যেহেতু প্রধানত স্তৱায়িত, তাই সমাজ উন্নয়নে কোন শ্রেণির বা অর্থনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর কী ভূমিকা থাকে তা নিয়ে সমাজবিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সমাজকে জানতে ও বুঝতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই। কারণ একমাত্র সমাজবিজ্ঞানই সমাজকে নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করে।
বিজ্ঞান শব্দের আভিধানিক অর্থ বিশেষ জ্ঞান।
যুক্তি বিকাশের ধারাবাহিকতায় মানুষের অগ্রসর চিন্তার ফসল হচ্ছে একেশ্বরবাদ।
যুক্তির ধারাবাহিকতায় বহু ঈশ্বরের ক্ষমতা একজন ঈশ্বরের ওপর আরোপ করা হয়। এখানে মনে করা হয়, সকল প্রাকৃতিক ও সামাজিক ঘটনার সর্বোচ্চ এবং সর্বশেষ পরিণতি হচ্ছে সর্বশক্তিমান একক সত্তা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!