UNICEF-এর পুরো নাম হলো 'United Nations International Children's Emergency Fund' বা আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল।
শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রতি বজায় রাখা প্রয়োজন। পৃথিবী নামের আমাদের এ গ্রহটিতে রয়েছে মোট ১৯৫টি দেশ। দেশগুলো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত। এগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম হলেও, আজকের দুনিয়ায় প্রত্যেকটি দেশ একে অপরের ওপর কমবেশি নির্ভরশীল। বিশ্বশান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং নিজেদের উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের পরস্পরের সহযোগিতা নিতে হয়'। তাই আমাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি বজায় রাখা প্রয়োজন।
উদ্দীপকে আলম সাহেব বিশ্ব খাদ্য সংস্থা তথা FAO-এ কর্মরত।
বিশ্ব খাদ্য সংস্থা এর পুরো নাম Food and Agriculture Organization। এটি ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪টি দেশ এর সদস্য। এর সদর দপ্তর ইতালির রাজধানী রোমে। সংস্থাটি সারা বিশ্বে ক্ষুধার বিরুদ্ধে কাজ করছে। উদ্দীপকের আলম সাহেব 'বিশ্ব খাদ্য সংস্থা'তেই কর্মরত। কারণ বিশ্ব খাদ্য সংস্থাই উদ্দীপকে উল্লিখিত সোমালিয়ার মতো দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্য বিতরণ করে। এছাড়াও বিশ্ব খাদ্য সংস্থা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের 'প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত কৃষকদের মাঝে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে। ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূরীকরণের মাধ্যমে বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা; কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনমান উন্নত করা হচ্ছে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা তথা ফাঁও-এর প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশ এ সংস্থাটির একটি সদস্য রাষ্ট্র। বাংলাদেশের খাদ্য ও কৃষির উন্নয়নে ফাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাংলাদেশ খাদ্যে পুরাপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। উপরন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায়ই আমাদের দেশে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। এ সমস্যার মোকাবিলায় একটি খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ফাও বাংলাদেশ সরকারকে প্রয়োজনীয়-পরামর্শ ও সাহায্য দেয়। এছাড়াও ফাও খাদ্যদ্রব্য সরবরাহে সহায়তা ও কৃষির উন্নয়নে পরামর্শ দিয়ে থাকে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা করে। ঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদে ও প্রান্তিক চাষিদের প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেয় সংস্থাটি। সুতরাং আলম সাহেবের কর্মকাণ্ড বিশ্ব খাদ্য সংস্থার কার্যক্রমেরই বাস্তব প্রতিফলন বলে তাকে বিশ্ব খাদ্য সংস্থারই কর্মী বলা যায়।
টুটুলের সংস্থাটি হলো ইউনেস্কো। আর এ সংস্থাটি বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে 'বলে আমি প্রশ্নোল্লিখিত উক্তিটির সাথে একমত।
ইউনেস্কো জাতিসংঘের একটি সামাজিক সংস্থা। এ সংস্থার পুরো নাম 'United Nations Educational Scientific and Cultural Organization (UNESCO).' উদ্দীপকের টুটুল যে আন্তর্জাতিক সংস্থার কাজ করে তা হলো ইউনেস্কো। বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ২৭অক্টোবর ইউনেস্কোতে যোগ দেয়। ১৯৭৩ সালে সরকার 'বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশন' গঠন করে। এ কমিশন বাংলাদেশে ইউনেস্কোর কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করে। ইউনেস্কো বাংলাদেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণ, বিশেষ করে বয়স্কদের শিক্ষা, নি শিক্ষার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে ১৯৫টি রাষ্ট্র ইউনেস্কোর সদস্য। ইউনেস্কোর প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি. ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জাতির মধ্যে সহযোগিতা সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পৃথিবীর সব মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ইউনেস্কোর মূল কাজের ক্ষেত্র হলো চারটি। যথা- শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ। ইউনেস্কোর উদ্যোগেই আমাদের ভাষাশহিদ দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারি 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে সারা বিশ্বে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এছাড়া বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সুন্দরবন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যেমন বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ ও নওগাঁর পাহাড়পুর বা সোমপুর বৌদ্ধবিহার সংরক্ষণেও ইউনেস্কো সহায়তা করছে। পরিশেষ বলা যায় যে, ১৯৭২ সালের সদস্যপদ লাভের পর থেকেই উদ্দীপকে টুটুলের কর্মরত সংস্থা তথা ইউনেস্কো বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
তাই এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নোল্লিখিত উক্তিটির সাথে একমত পোষণ করতে আমার দ্বিধা নেই।
Related Question
View Allপৃথিবীতে মোট ১৯৫টি দেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম হলেও, আজকের বিশ্বে কোনো দেশের পক্ষেই অন্যের সহযোগিতা ছাড়া একা চলা সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এমন কি রাজনৈতিক দিক দিয়েও দেশগুলো একে অপরের উপর কমবেশি নির্ভরশীল। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিজেদের উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের পরস্পরের সহযোগিতা নিতে হয়।
পৃথিবীর কোনো দেশের পক্ষেই অন্যের সহযোগিতা ছাড়া একা চলা সম্ভব নয়। এজন্য অন্য দেশ ও সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান ও একটি শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে পৃথিবীতে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।
নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলের দেশগুলোকে নিয়ে যে সংস্থা গড়ে ওঠে তাকে আঞ্চলিক সংস্থা বলে। কয়েকটি আঞ্চলিক সংস্থা হলো- সার্ক, আসিয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকান ইউনিয়ন প্রভৃতি।
পুরো পৃথিবীকে কেন্দ্র করে যে সংস্থার বিস্তৃতি ঘটেছে তাকে আন্তর্জাতিক সংস্থা বলে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো- জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ওআইসি, ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, ফাও, ইউএনএফপিএ, ন্যাটো, ইউএনডিপি, হু প্রভৃতি।
UNICEF-এর পূর্ণরূপ হলো- United Nations International Children's Emergency Fund. (জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক জরুরি শিশু তহবিল)।
ইউনিসেফ জাতিসংঘের একটি বিশেষ সংস্থা যা বিভিন্ন দেশের বিশেষ করে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের শিশুদের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করে। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও রোগপ্রতিরোধ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, মৌলিক শিক্ষা, স্যানিটেশন ও নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!