উদ্দীপকে জনাব আলীর কার্যক্রম রাষ্ট্রের আইনবিভাগের কাজ।
সরকারের তিনটি বিভাগের একটি হলো আইন বিভাগ। আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন এবং প্রয়োজনবোধে প্রচলিত আইনের সংশোধন বা রদবদল করে থাকে। আইন বিভাগের একটি অংশ হলো আইনসভা বা পার্লামেন্ট। আইনসভা আইন প্রণয়ন করে। নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের নিয়ে কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনোনীত সদস্যদের নিয়ে এটি গঠিত হয়। আইনসভা প্রণীত আইন রাষ্ট্রপ্রধানের সম্মতি লাভের পর কার্যকর হয়। প্রত্যেক রাষ্ট্রের আইনসভা রয়েছে। এসব আইনসভা বিভিন্ন নামে পরিচিত। বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ। উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ জনাব আলী একজন সংসদ সদস্য। অর্থাৎ তিনি আইন বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এ বিভাগটির ক্ষমতা ও কার্যাবলি অনেক। যেমন- আইন প্রণয়ন ক্ষমতা, সরকার গঠন বিষয়ক ক্ষমতা, আর্থসংক্রান্ত ক্ষমতা, বিচার বিষয়ক ক্ষমতা, নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ। সংবিধান সংরক্ষণ ও সংশোধন প্রভৃতি। অতএব বলা যায়, জনাব আলীর কার্যক্রম আইন আইন বিভাগের কাজকেই নির্দেশ করে।
Related Question
View Allপ্রদত্ত উক্তিটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক এরিস্টটলের।
নাগরিকত্ব বলতে বোঝায় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অধিকার ও নাগরিক সুবিধা ভোগ করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে বাধ্য হওয়া। বৃহৎ অর্থে নাগরিক হচ্ছেন তিনি, যিনি তার রাষ্ট্রে স্থায়িভাবে বসবাস করেন এবং ঐ রাষ্ট্রের আইন, সংবিধান ও অন্যান্য নির্দেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন।
জনাব মোবারক হোসেন কর্তৃক শ্রমনীতি প্রণয়ন রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক বা ঐচ্ছিক কাজ।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কর আদায়ের মধ্যেই শুধু রাষ্ট্রের ভূমিকা সীমাবদ্ধ নয় বরং রাষ্ট্রকে অবশ্যই সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্য; নাগরিকদের নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশে কল্যাণমূলক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়; যা কল্যাণমূলক বা ঐচ্ছিক কাজ বলে পরিগণিত। রাষ্ট্রের বিশাল কর্মীবাহিনীকে পরিচালনা করা ও নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শ্রমনীতি প্রণয়ন এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কাজের অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে শ্রমিকদের ন্যূনতম সঠিক মজুরি ও কাজের সময় নির্ধারণ, কাজের পরিবেশ সৃষ্টি, বোনাস, ইন্স্যুরেন্স, পেনশন সুবিধা প্রদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক তৈরি, বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষার জন্য শ্রম অফিসার নিয়োগ প্রভৃতি শ্রমনীতির অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐচ্ছিক কাজ।
হ্যাঁ, অনুচ্ছেদের আলোকে 'ক' রাষ্ট্রকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলা যায়।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্য নাগরিকদের নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশে কাজ করে। উদ্দীপকের অনুচ্ছেদে দেখা যায়, 'ক' নামক রাষ্ট্রটি শ্রমনীতি প্রণয়ন, বয়স্ক ভাতা, পেনশন বৃদ্ধির জন্য আইন, হাসপাতাল নির্মাণ, বিনামূল্যে বই বিতরণ এবং বাল্যবিবাহ রোধে আইন প্রণয়ন করে থাকে; যা কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিলক্ষিত। রাষ্ট্রের জনসাধারণকে। শিক্ষিত করে তোলা কল্যাণ রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ লক্ষ্যে সরকার বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন, নারী শিক্ষার প্রতি গুরুত্বসহ বয়স্ক শিক্ষার ব্যবস্থা করে, নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদেরকে বই প্রদান করে। অপরদিকে, জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং সমস্ত বিদ্যমান বিভিন্ন বৈষম্য ও কুপ্রথা দূরীকরণে রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় এবং অসুস্থদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান (বিনামূল্যে ও স্বল্প খরচে), হাসপাতাল, দাতব্য চিকিৎসালয়, শিশুসদন, মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, দেশব্যাপী অস্থায়ী হেল্থ ক্যাম্পেইন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করে। তাছাড়া জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের সুব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, রোগ প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক টীকা প্রদান প্রভৃতি সেবা রাষ্ট্র প্রদান করে। এছাড়া যৌতুক ও বর্ণপ্রথা দূরীকরণ, বাল্যবিবাহ রোধ, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সুতরাং বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রটি একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
রাষ্ট্রীয় আইনের প্রধান উৎস হলো আইনসভা।
রাষ্ট্রের জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলা রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ। কেননা শিক্ষিত নাগরিক অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতন থাকেন। আর তাই শিক্ষা বিস্তারে রাষ্ট্র অধিক গুরুত্ব প্রদান করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!