মৃত্যুর পর থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত সময়কে বারযাখ বলে।
'অহংকার আমার ভূষণ'- হাদিসটি স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার। এটি হাদিসে কুদসি। প্রতিটি মানুষের কোনো না কোনো অভাব আছে। সুতরাং অহংকার করা মানুষের জন্য শোভা পায় না। অহংকার শুধু তারই শোভা পায়, যার কোনো অভাব নেই।
ময়নুলের বিচারিক সিদ্ধান্তটি হযরত সুলায়মান (আ.)-এর বিচারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
হযরত সুলায়মান (আ.) বিচারকার্য পরিচালনায় নজিরবিহীন বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন। হযরত সুলায়মান (আ.)-এর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ধীশক্তি ছিল খুবই প্রখর। আল্লাহ তাঁকে খুব সূক্ষ্ণভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। বাল্যকাল থেকে বিভিন্ন বিচার কাজের ঘটনায় এর প্রমাণ মেলে। একবার দুজন নারী একটি শিশুর মাতৃত্ব দাবি করল। এর মীমাংসা করার জন্য তিনি শিশুটিকে দু'ভাগ করার জন্য উদ্যত হলেন। এ সময় এ ব্যাপারে একজন আপত্তি জানালে প্রকৃত মা হিসেবে তাকেই শিশুটি দেওয়া হলো। একদা হযরত দাউদ (আ.)-এর নিকট এক কৃষক এক ছাগল রাখালের বিরুদ্ধে শস্যক্ষেত বিনষ্ট করার অভিযোগ করেছিল। হযরত দাউদ (আ.) তার বিচার করেন। কিন্তু বিচারের রায়ে বাদি বিবাদি কেউ খুশি হতে পারেনি। বাদি বিবাদি ফেরার পথে হযরত সুলায়মান (আ.) এ বিষয়টি জানতে পারেন। তখন তিনি দাউদ (আ.)-এর অনুমতি নিয়ে পুনরায় বিচার করেন। হযরত সুলায়মান (আ.) কৃষকের সমস্ত ছাগল শস্যক্ষেতের খালিককে দিয়ে দিতে বললেন। আর শস্যক্ষেত ছাগলের মালিকের নিন্টে অর্পণ করে তাতে চাষ করতে বললেন। যখন শস্যক্ষেত ছাগল বিনষ্ট করার পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে তখন তা তার মালিকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তাঁর পিতা হযরত দাউদ (আ.) এ রায় পছন্দ করে তা কার্যকর করেন। মহান আল্লাহ বলেন, "আমি সুলায়মানকে এ বিষয়ের মীমাংসা বুঝিয়ে দিয়েছিলাম এবং তাদের প্রত্যেককে আমি দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান।" (সূরা আল-আম্বিয়া: ৭৯)
উপরের আলোচনার নিরিখে বলা যায়, সুলায়মান (আ.)-এর বিচারশক্তি নজিরবিহীন প্রজ্ঞার স্বাক্ষর বহন করে, যা উদ্দীপকের ময়নুলের বিচারিক প্রজ্ঞার মাঝে ফুটে উঠেছে। সুতরাং ময়নুলের বিচারিক সিদ্ধান্তটি সুলায়মান (আ.) এর বিচারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সাদিকার চরিত্রটির সাথে হযরত রাবেয়া বসরি (র.) চরিত্রের মিল রয়েছে। তাঁর চরিত্রে বেশকিছু শিক্ষামূলক দিক রয়েছে।
হযরত রাবেয়া বসরি (র.)-এর চরিত্র হতে আমরা যা শিখতে পারি তা হলো- সর্বদা সহজ-সরল জীবনযাপন করতে হবে। উচ্চাবিলাসী হওয়া যাবে না। নিজেকে খুব ছোট মনে করতে হবে। আল্লাহর নিকট বেশি বেশি ক্ষমা চাইতে হবে। সর্বদা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে। সর্বদা আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। মানুষের নিকট সাহায্য চাওয়া অনুচিত। আসলাম সাহেবের বাড়িতে সাদিকা নামক এক মহিলা কাজ করেন। তিনি সারাদিন কাজ করার পরও রাতে নির্জনে ইবাদত বন্দেগি করেন। শত অভাবের মধ্যে তিনি কারও নিকট কিছু চান না।
হযরত রাবেয়া বসরি (র.) ও ক্রীতদাসী হিসেবে বিক্রি হয়ে একজনের বাসায় কাজ করতেন। সারাদিন কাজ করার পর রাত জেগে ইবাদত করতেন। শত অভাবেও তিনি কারও কাছে কিছু চাইতেন না। শুধুমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করতেন। তাই সাদিকার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হযরত রাবেয়া বসরি (র.)-এর চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
Related Question
View Allইসলাম ধর্মজ্ঞানে সুপণ্ডিত ব্যক্তিকে মুজতাহিদ বলা হয়।
অশ্লীলতা সমাজকে কলুষিত করে, পক্ষান্তরে লজ্জাশীলতা সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লজ্জাশীলতা মানুষের পশুত্বকে দূর করে পরিশুদ্ধ করে। এজন্যই রাসুল (স.) বলেছেন, "যার মধ্যে অশ্লীলতা আছে, তা তাকে ত্রুটিযুক্ত করে। আর যার মধ্যে লজ্জাশীলতা আছে, তা তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে।" (তিরমিযি)
লিমন সাহেব হযরত রাবেয়া বসরি (র.)-এর নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তার কন্যার নাম সানিয়া রেখেছেন।
মহান তাপসী রমণী রাবেয়া বসরি (র.) ৯৯ হিজরি মোতাবেক ৭১৭খ্রিষ্টাব্দে ইরাকের বসরা নগরীতে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, চার বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ ছিলেন। তাই তাঁর নাম রাখা হয় রাবেয়া (চতুর্থা)। উদ্দীপকেও বর্ণিত হয়েছে যে, লিমন সাহেব তার দ্বিতীয় কন্যার নাম রাখেন 'সানিয়া'। বন্ধুরা কারণ জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন আরবিতে 'সানিয়া' অর্থ দ্বিতীয়া। সুতরাং বলা যায়, লিমন সাহেব রাবেয়া বসরি (র.)-এর নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তার কন্যার নাম রেখেছেন।
ছাত্র-শিক্ষকের আলোচনায় যে খলিফার কর্মকান্ড ফুটে উঠেছে, তিনি হলেন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.)। তাঁর কৃতিত্ব ও চরিত্র অতুলনীয়।
হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.)-কে দ্বিতীয় উমর ও ইসলামের পঞ্চম খলিফা বলা হয়। তিনি আল্লাহর নির্দেশ পালনকারী, বিনয়ী ও নম্র প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তার অন্তরে এত আল্লাহভীতি ছিল যে, তিনি প্রায় আল্লাহর ভয়ে কাঁদতেন। তাঁর ন্যায়পরায়ণতা, ধর্মপরায়ণতা, সাম্য-মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব ও সকলের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে সক্রিয়তা তা তাঁকে অনেক মর্যাদাবান করেছে। হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.) খলিফা হয়েও অত্যন্ত সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে তিনি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করতেন। তাঁর সময়ে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালনে স্বাধীন ছিল। তিনি সাম্প্রদায়িকতার বিপরীতে উদার চিন্তার মানুষ ছিলেন। তাঁর আমলে ব্যাপকভাবে হাদিস সংকলিত হতে থাকে। উদ্দীপকেও ছাত্রদের উদ্দেশ্যে শিক্ষক বললেন যে, যার শাসনামলে মানুষের আর্থিক বৈষম্য দূর হয়েছে এবং মানুষ গণতান্ত্রিক শান্তি লাভকরেছে, তিনিই রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি হাদিস সংকলনেরও উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
সুতরাং, উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.) হলেন উক্ত খলিফা, যার চরিত্র এবং কৃতিত্ব অতুলনীয়।
খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.) শিক্ষকদের জন্য মাথাপিছু মাসিক ১০০ দিনার ভাতার ব্যবস্থা করেন।
হযরত আয়েশা (রা.) সর্বগুণে গুণান্বিতা ছিলেন। তিনি ছিলেন বিচক্ষণ, বুদ্ধিমতী, সাধারণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারিণী। একইসাথে তিনি গৃহস্থালী বিদ্যায়ও পারদর্শী ছিলেন। শরিয়তের বিভিন্ন মাসয়ালা মাসায়েল সম্পর্কে তিনি জ্ঞান দান করতেন। এজন্য মহানবি (স.) আয়েশা (রা.)-কে সারিদ তথা আরবের শ্রেষ্ঠ খাদ্য যা রুটি, গোশত ও ঝোলের সমন্বয়ে তৈরি হয় তার সাথে তুলনা করে বলেছেন, "নারী জাতির ওপর আয়েশা (রা:)-এর মর্যাদা তেমন, যেমন খাদ্যদ্রব্যের ওপর সারিদের মর্যাদা।" (বুখারি ও ইবনে মাজাহ)
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!