হ্যাঁ, জনাব আ. হালিমের মধ্যে ইসলাম ও নৈতিকতার সমন্বয় ঘটেছে।
নৈতিকতা হলো ঐ সকল মাপকাঠি যা দ্বারা মানুষের স্বাভাবিক, ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংঘটিত কাজগুলোকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ন্যায়, নাকি অন্যায় তা পরিমাপ করা যায়। খুব স্বাভাবিকভাবেই জনাব হালিমের কাজের দ্বারা ইসলামি নৈতিকতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ইসলাম শিক্ষা মূলত ইসলামি নৈতিক শিক্ষা। এ শিক্ষা মানুষকে শাশ্বত সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করে। মানুষ মিথ্যা, প্রতারণা, পাপাচার, খিয়ানত, জুলুম, পরনিন্দা, ফিতনা ফ্যাসাদ প্রভৃতি থেকে মুক্ত হয়ে উন্নত নৈতিক চরিত্রে ভূষিত হয়। ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার দায়ে আ. হালিম সাহেব তার ছেলেকে বেদম প্রহার করেছেন, আর এটি ইসলামি নৈতিক শিক্ষার সাথে পুরোপুরিই মিলে যায়। ইসলাম শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হলো মানুষের নিকট ইসলামের দাওয়াত দেওয়া, মন্দ কাজ থেকে বিরত রেখে ভালো কাজে উৎসাহিত করা। কেননা এটা মুসলমানের অন্যতম দায়িত্ব। ইসলামি নৈতিক শিক্ষার বলে বলীয়ান আ. হালিমের কণ্ঠেও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে- 'রাসুল (স) তো আমাদের এ শিক্ষাই দিয়েছেন। আমি চেষ্টা করছি সত্য দীন প্রচার ও প্রসারের। একজন প্রতিনিধি হিসেবে এটা আমার কর্তব্য।'
উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, আব্দুল হালিম সাহেবের মধ্যে ইসলাম ও নৈতিকতার সুসমন্বয় ঘটেছে। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত ইসলামি নৈতিকতার শিক্ষা নিয়ে বাস্তব জীবনে অনুশীলন করা।
'ইসলাম সকল নবি-রাসূলের ধর্ম ছিল' প্রমাণ করতে পারবেন
ইসলামের মূলভিত্তি কয়টি ও কী কী তা বর্ণনা করতে পারবেন
ইসলামের মূলভিত্তিগুলোর পরিচয় বর্ণনা করতে পারবেন।
১. ইসলামের পরিচয়
ইসলাম আল্লাহ তাআলার একমাত্র মনোনীত ধর্ম। ইসলাম আরবি শব্দ। এটি )سِمٌ( শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ আত্মসমর্পণ করা, আনুগত্য প্রকাশ করা, শান্তির পথে চলা, মুসলমান হওয়া। পরিভাষাগত অর্থ বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, জীবনদাতা ও মৃত্যুদাতা আল্লাহ তাআলার কাছে বিনা দ্বিধায় আত্মসমর্পণ করে তার আদেশ নিষেধ মেনে চলা। তাঁর দেয়া বিধান অনুসারে জীবন যাপন করা। আর যিনি ইসলামের বিধান অনুসারে জীবন যাপন করেন তিনি হলেন মুসলিম। ইসলাম সকল নবি রাসূলের দ্বিন বা জীবন বিধান। আল্লাহ তাআলা বলেন,
"তিনি তোমাদের জন্যে দ্বিনের ক্ষেত্রে সে পথই নির্ধারিত করেছেন যার আদেশ দিয়েছিলেন নূহকে, যা আমি প্রত্যাদেশ করেছি আপনার প্রতি এবং যার আদেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে তোমরা দ্বিনকে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং পার্থক্য সৃষ্টি করবে না” (সূরা আশ শুরা-৪২: ১৩)। সকল নবি যেমন মুসলিম ছিলেন, তেমনি হযরত নূহ (আ) ইসলামের অনুসারি ছিলেন, যা তাঁর কথার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। পবিত্র কুরআনে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, হযরত মূসা (আ) বলেন-
وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ
"আমি মুসলিম হওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছি।" (সূরা ইউনুস ১০:৭২)
এ কারণেই হযরত ইরবাহীম (আ) নিজেকে ও নিজ উম্মতকে 'উম্মতে মুসলিমা' বলেছিলেন। আল-কুরআনে এসেছে-
"হে আমাদের পালনকর্তা। আমাদের উভয় কে মুসলিম করো এবং আমাদের বংশধর থেকে একটি মুসলিম তথা আত্মসমর্পণকারী দল বানাও"। (সূরা বাকারা২: ১২৮) হযরত ইবরাহীম (আ.) তাঁর সন্তানদের উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছেন
فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُّسْلِمُونَ
"তোমরা মুসলমান হওয়া ছাড়া কখনও মৃত্যুবরণ করো না"। (সূরা বাকারা ২:১৩২) মোট কথা, প্রত্যেক নবি-রাসূল কর্তৃক আনীত দ্বিন বা ধর্ম হলো ইসলাম।
২. ইসলামের মূল ভিত্তি
ইসলাম পাঁচটি মূল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। রাসূল (স.) এর বাণী-
"ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মদ (স.) তাঁর বান্দা ও রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের রোযা রাখা এবং হজ্জ করা। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম) ইসলামের এই পাঁচটি ভিত্তির বর্ণনা নিম্নে দেওয়া হল-
১. তাওহিদ ও রিসালাতে বিশ্বাস
এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসূল। অর্থাৎ তাওহিদ ও রিসালাতে বিশ্বাস করা। আল্লাহর প্রভুত্ব জীবনের সর্বক্ষেত্রে মেনে নিয়ে সে অনুযায়ী কাজ করা। আল-কুরআনের উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁর অনুসরণ করা এবং মুহাম্মদ (স.) কে সর্বশেষ নবি ও রাসূল হিসেবে স্বীকার করা।
২. সালাত কায়েম করা
ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ হল সালাত। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকসম্পন্ন মুসলমান নর-নারীর উপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা ফরয। কোন মুসলমান সালাতকে অস্বীকার করলে সে আর মুসলমান থাকেনা। সালাত একজন মুমিনকে সকল প্রকার অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করে।
৩. যাকাত আদায় করা যাকাত ইসলামের অন্যতম ভিত্তি। যাকাত হলো- কোন মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বৎসরান্তে তার সম্পদের শতকরা ২.৫ ভাগ কুরআন বর্ণিত ৮টি নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাকে যাকাত বলে। যাকাত দিলে সম্পদ বিশুদ্ধ ও পবিত্র হয়। সম্পদ বাড়ে ও সমাজ দারিদ্র মুক্ত হয়।
৪. সিয়াম পালন করা
সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিয়তের সাথে পানাহার ও যৌন ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থাকার নাম সাওম বা রোযা। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ, মুসাফির নয় এমন ব্যক্তির উপর রমজান মাসের সিয়াম পালন করা ফরয। সিয়াম ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ। রমজানের সিয়াম বা রোযা ছাড়াও শাওয়াল মাসের ছয়টি রোযা, মান্নত রোযা এবং বৎসরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিনসমূহে রোযা রাখার বিধান রয়েছে। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তাকওয়ার অধিকারী হতে পারে।
৫. হজ্জ পালন করা
ইসলামের পাঁচটি বুনিয়াদের মধ্যে হজ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। হজ্জ দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় হজ্জের মাসের নির্ধারিত দিনসমূহে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বায়তুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ ও সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ যিয়ারত এবং জিলহজ্জ মাসের নয় তারিখে আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ইবাদত করাকে হজ্জ বলে। আর্থিকভাবে সামর্থবান ব্যক্তিদের উপর জীবনে একবার হজ্জ করা ফরয।
৩. ইসলাম মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম
ইসলাম মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম। আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিকর্তা হিসেবে তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য বিধি বিধান দিয়েছেন। সৃষ্টিকর্তা হিসেবে তিনি জানেন মানুষের জীবন যাপনের জন্য বিধি বিধান কেমন হওয়া উচিত। তাই, তিনি মানুষের ইহকাল ও পরকালে মুক্তির জন্য বিধান দিয়েছেন। উক্ত বিধি-নিষেধ পালনের মাধ্যমে মানুষ ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি লাভ করতে পারে। আল্লাহ তাআলা মানুষ সৃষ্টি করার সময়ই তাকে সেই সহজাত প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স.) বলেন- "প্রতিটি শিশুই সহজাত প্রকৃতি তথা ইসলামের উপর জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু তাদের পিতা মাতার কারণে ইহুদির সন্তানেরা ইহুদি ধর্মে, খ্রিস্টানরা খ্রিস্টান ধর্মে এবং অগ্নি পুজকরা মাজুসী ধর্মে দীক্ষিত হয়ে থাকে"। (আবু দাউদ, তিরমিযি) মানুষের মনের মধ্যে ইসলামি ফিতরাত থাকার কারণেই সে নিজেকে অসীম শক্তির কাছে সঁপে দিতে চায়
সারসংক্ষেপ
ইসলাম আল্লাহ তাআলার একমাত্র মনোনীত ধর্ম। ইসলাম শব্দের অর্থ-আত্মসমর্পণ আর মুসলিম শব্দের অর্থ হচ্ছে-আত্মসমর্পণকারী। হযরত আদম (আ.) থেকে নিয়ে সকল নবি-রাসূল ইসলাম প্রচার করেছেন। ইসলামের মূল ভিত্তি পাঁচটি। যথা- ১। এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং হযরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসূল ২। সালাত কায়েম করা ৩। যাকাত আদায় করা ৪। সিয়াম পালন করা ৫। হজ্জ পালন করা। যারা ইসলামের অনুশাসন মেনে প্রতিটি আদেশ নিষেধ পালন করবে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ ও সাফল্য দান করবেন।
অ্যাকটিভিটি (নিজে করি) /শিক্ষার্থীর কাজ
শিক্ষার্থীগণ, ইসলামের পাঁচটি ভিত্তি বিষয়ক হাদিসটি মুখস্ত করবেন এবং টিউটরকে শোনাবেন।
ইসলাম শিক্ষা-১ম পত্র-ড. মোঃ আমির হোসেন সরকার স্যারে লেখা বই
ইসলাম শিক্ষা আল্লাহর একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় একে তাওহিদভিত্তিক শিক্ষা বলা হয়।
'তাওহিদ' শব্দের অর্থ একত্ববাদ। ইসলাম শিক্ষার মূলকথা হলো- لا اله الا الله অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা এবং ইবাদত ও আনুগত্যের যোগ্য এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে মুখে স্বীকার ও অন্তরে বিশ্বাস করার নাম তাওহিদ। পৃথিবীতে যত নবি- রাসুল এসেছেন তাদের প্রত্যেকেই এই তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন। তাওহিদে বিশ্বাস ছাড়া কোনো ব্যক্তিই মুমিন বা মুসলমান হতে পারে না। এজন্যই ইসলাম শিক্ষা তাওহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ছকে 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলো ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যকে বোঝায়।
ইসলাম শিক্ষায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয়। এ শিক্ষার সাধারণত দুই ধরনের উদ্দেশ্য রয়েছে। যথা- ধর্মীয় ও সামাজিক। ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলো হলো- আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করা, তাঁর ওপর ইমান আনা এবং ইবাদতের পদ্ধতি ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানা। যথাযথভাবে আল্লাহর ইবাদত করা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। ছকে 'ক' 'দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় এ বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে।
ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো ইসলামকে সঠিকভাবে জানা এবং বাস্তব জীবনে তা মেনে চলার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা, আইন প্রণেতা এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র সত্তা। তিনি অনাদি এবং অনন্ত। আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ এবং তার পূর্ণ আনুগত্যের শিক্ষা দেওয়াও ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলোই বোঝানো হয়েছে।
'খ' দলের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার দু'ধরনের উদ্দেশ্যের মধ্যকার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আর আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে মানুষের বিশেষ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ সেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করতে পারে। যা ছকের 'খ' দলের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর দীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করা। তাছাড়া এ শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া, ভালো কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা মুসলমানদের পবিত্র দায়িত্ব। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, 'তোমরা উত্তম জাতি। মানুষের কল্যাণের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে ও মন্দকাজে নিষেধ করবে' (সুরা আলে ইমরান: ১১০)। ইসলাম শিক্ষার অন্যতম সামাজিক উদ্দেশ্য হলো হালাল-হারাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন করা। এর ফলে ব্যক্তি হালাল উপার্জন করতে উৎসাহিত হবে এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকবে। কেননা হালাল উপার্জন, ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত। ইসলামের শিক্ষা সঠিকভাবে মেনে চলার মাধ্যমে পরকালীন মুক্তির পাশাপাশি দুনিয়ার জীবনেও কল্যাণ লাভ করা যায়।
উদ্দীপকের 'খ' দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় উপরের বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, তাদের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে।
দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতের মুক্তির জন্য ইসলামে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম।
ইসলামে জ্ঞানার্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত মানুষ ও পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হওয়ার জন্য জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই। আল-কুরআনের বহু আয়াতে এবং রাসুলুল্লাহ (স)-এর বিভিন্ন হাদিসে জ্ঞানার্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ। সৃষ্টির শুরুতে ফেরেশতাদের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার মূলেও ছিল জ্ঞান। ইসলামের সঠিক জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে পাপমুক্ত করে জান্নাতের উপযুক্ত করে গড়ে তোলে।