টাকা পয়সা তথা মুদ্রার বিনিময়ে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করাকে বাই মুতলাক বলে।
ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সব লেনদেন সুদমুক্ত। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় কোনো ক্ষেত্রেই সুদের লেনদেন হালাল রাখা হয়নি। সুদ নিষিদ্ধ করে শোষণের পথ বন্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আল্লাহ ব্যবসায় হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।' ইসলামি অর্থব্যবস্থায় তাই সুদের প্রচলন নেই। রাসুলুল্লাহ (স) সুদ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য আল্লাহর অভিশাপ কামনা করেছেন।
উদ্দীপকে মায়মুনার উল্লিখিত জাকাত ফরজ হওয়ার ২য় ও ৩য় শর্তসমূহ হলো নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া ও ঋণমুক্ত থাকা। জাকাত প্রদান করা আল্লাহ তায়ালার একটি ফরজ বিধান। জাকাত আদায় করা হলে ব্যক্তির ধন-সম্পদ হতে মানুষের হক আদায় হয়। ফলে সম্পদ হালাল এবং পবিত্র হয়। আর জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শরিয়াহ সম্মত শর্ত রয়েছে। মায়মুনার আলোচনায় সে শর্তগুলো প্রকাশ পেয়েছে।
মায়মুনার উপস্থাপিত বিষয়ে উদ্দীপকে দেখতে পাই জাকাত ফরজ হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ব্যক্তির নিজস্ব মালিকানায় নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকতে হবে। নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকলে জাকাত দিতে হবে না। ব্যক্তির কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেও যদি তার এমন ঋণ থাকে যা পরিশোধ করলে আর উদ্বৃত্ত সম্পদ নিসাব পরিমাণ হয় না তাহলেও ব্যক্তিকে আর জাকাত দিতে হবে না। জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য ব্যক্তিকে অবশ্যই ঋণমুক্ত হতে হবে। কিন্তু ঋণের পরিমাণ যদি এমন হয় যে, ঋণ পরিশোধ করলেও নিসাব অক্ষুণ্ণ থাকবে তাহলে ঋণগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিকে জাকাত দিতে হবে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য উল্লিখিত শর্ত ছাড়া আরও শর্ত রয়েছে। জাকাত শব্দের অর্থ পবিত্রকরণ, বৃদ্ধিকরণ ইত্যাদি। ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পদের নিসাব পূর্তির পর যেকোনো মুসলিম দরিদ্রকে শরিয়তের নির্ধারণ অনুযায়ী সেখান থেকে ধনসম্পদ দেওয়াই জাকাত। জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত আবশ্যক। উদ্দীপকের মায়মুনা কর্তৃক উপস্থাপিত শর্তগুলো অতি সামান্য। এগুলো ছাড়াও আরো কতগুলো শর্ত রয়েছে। উদ্দীপক অনুসারে জাকাত ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ হলো- প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া, জ্ঞান সম্পন্ন হওয়া, স্বাধীন হওয়া ও সম্পদ পূর্ণ এক বছর মালিকানায় থাকা। অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু-কিশোর সম্পদ আয় ও ব্যয়ে দায়িত্বশীল নয়। তাই তাদের প্রাপ্ত বয়স্ক অভিভাবক থাকলে তারা দায়িত্বশীল হবেন। জ্ঞানহীন ও বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষের সংগত মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না। তাছাড়া তারা শরিয়তের কোনো বিধান পালনে বাধ্য নয়। তাই শিশু বা পাগলকে জাকাত দিতে হবে না। জাকাত দিতে হলে ব্যক্তি মালিকানায় সম্পদ থাকতে হবে। দাস-দাসিরা স্বাধীন থাকে না তাই তাদের ওপর জাকাত ফরজ হয় না। আর জাকাত ফরজ হতে হলে নিসাব পরিমাণ সম্পদ তা পূর্ণ এক বছর মালিকানায় থাকতে হয়। তাই আমি মনে করি উদ্দীপকে উল্লিখিত শর্তসমূহ ছাড়াও জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য উপরের শর্তাবলি ও বিদ্যমান।
Related Question
View Allআল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য ।
দ্বিতীয় স্তরের তাকওয়া অনুশীলনকারী ব্যক্তিকে বলা হয় সুলাহা।
তাকওয়ার দ্বিতীয় সোপান হলো এমন হালাল কথা, কাজ, বিষয় ও বস্তু বর্জনের স্তর, যে হালালের হালাল হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে। কেননা, সন্দেহযুক্ত হালাল বর্জন না করলে সন্দেহাতীতভাবে হারাম থেকে মুক্ত থাকা যায় না। রাসুলুল্লাহ (স) যা সন্দেহযুক্ত তা বর্জন করতে এবং যা সন্দেহযুক্ত নয় তা গ্রহণ করার কথা বলেছেন।
অর্থনীতিবিদ রফিকুল ইসলামের আলোচনায় ইসলামি অর্থব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ইসলামি অর্থব্যবস্থা হলো কুরআন-সুন্নাহর আলোকে মানুষের সম্পদ উপার্জন, বণ্টন ও ব্যয়ের নির্দেশনা। এটি একটি মানবকল্যাণময় ও প্রগতিশীল অর্থব্যবস্থা। জাকাত, হালাল উপার্জন ও ইসলামি শরিয়তের অনুসরণ এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা রফিকুল ইসলামের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের রফিকুল ইসলাম এমন একটি অর্থব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেখানে হালাল উপার্জন এবং জাকাতের বিষয়টি বাধ্যতামূলক। তার আলোচিত অর্থব্যবস্থার সাথে ইসলামি অর্থব্যবস্থার মিল রয়েছে। ইসলামি অর্থব্যবস্থা একটি আদর্শিক অর্থব্যবস্থা। এ অর্থব্যবস্থায় সম্পদের প্রকৃত মালিক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। মানুষ তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে তা ব্যবহার করেন। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় যা খুশি এব উৎপাদন করা যায় না, যেভাবে খুশি উপার্জনও করা যায় না। এ অর্থব্যবস্থায় হালাল পন্থায় উপার্জন বাধ্যতামূলক। এ ব্যবস্থায় সম্পদের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টননীতি অনুসরণ করা হয়। এ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- হালাল-হারাম নির্ধারণ। সম্পদ উপার্জন, ব্যয় ও ভোগের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের নির্ধারিত সীমা- পরিসীমা মেনে চলা অত্যাবশ্যক। এ অর্থব্যবস্থার অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- জাকাতভিত্তিক ও সুদমুক্ত। এ অর্থব্যবস্থায় ধনীদের সম্পদে গরিবদের জন্য নির্ধারিত অংশ রয়েছে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী সঠিকভাবে জাকাত প্রদানের মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যকার বৈষম্য কমে আসে।
ইবাদত কবুলের জন্য আমাদের হালাল উপার্জন করতে হবে এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকতে হবে- মাওলানা মুহিবুর রহমানের উক্তিটি ইসলামের আলোকে যথার্থ। ইসলামি শরিয়তে যেসব বিষয়ের অনুমতি রয়েছে এবং যা সম্পর্কে কোনো নিষেধ বাণী নেই তাকে হালাল বা বৈধ বলে। আর শরিয়তে যেসব বিষয় নিষেধ করা হয়েছে তা হারাম বা অবৈধ। জীবনের সবক্ষেত্রে হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা ইসলামের বিধান। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় এ বিধানটি মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম। হালাল উপার্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। এটি ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। মানুষ যদি হালাল উপার্জন করে এবং হালাল জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে। আর যদি হারাম উপায়ে উপার্জন ও হারাম জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা একজন মুমিনের জন্য অত্যাবশ্যক। হালাল- হারামের বিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পালন করা হয়। হালাল উপার্জনকারীর ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হন আর হারাম উপার্জনকারীর প্রতি অসন্তুষ্ট হন।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও ইবাদত কবুলের জন্য ইসলামি শরিয়তের আলোকে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলা মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যক। তাই মাওলানা মুহিবুর রহমানের উক্তিটি ইসলামের দৃষ্টিতে যথার্থ।
ইসলাম পাঁচটি বুনিয়াদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
স্বত্ব ত্যাগ করে কাউকে বিশেষ করে অভাবগ্রস্ত ও নিঃস্ব লোকদের কিছু দান করাকে সাদাকাত বলে। সাদাকাত অর্থ হলো দান। এটি দুই প্রকার। যথা- ১. নফল বা ঐচ্ছিক সাদাকাত এবং ২. ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক সাদাকাত। অর্থাৎ বাধ্যবাধকতা ছাড়া অথবা বিশেষ শর্তসাপেক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে যে দান করা হয় তাই ওয়াজিব সাদাকাত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!