গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে মানুষের গড় আয়ুস্কালে অভাবনীয় উন্নতি ঘটেছে। ফলে প্রবীণদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শিল্প বিপ্লবোত্তর সমাজের বিভিন্ন প্রতিকূলতা সমাজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে। সেইসাথে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন সমাজে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি করছে। চিকিৎসাব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ হ্রাস পাচ্ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তার সাথে পাল্লা দিয়ে প্রবীণদের সংখ্যাও বাড়ছে।
জনাব ইসতিয়াক যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তা হলো ব্র্যাক।
সেবাগ্রহীতার সংখ্যার মানদণ্ডে বিশ্বের অন্যতম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হলো ব্র্যাক। দারিদ্র্য নিরসন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে তাদের জীবনে অর্থবহ পরিবর্তন আনয়নে সংস্থাটি কাজ করে। ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে স্বল্পপরিসরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের মধ্য দিয়ে ব্র্যাকের কার্যক্রমের সূচনা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের অপর দশটি দেশে দরিদ্র মানুষের কল্যাণে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। যার ফলে এই সংগঠনটি বিশ্বের সর্ববহৃৎ উন্নয়ন সংস্থার সুখ্যাতি অর্জন করেছে।
উদ্দীপকের ইসতিয়াক যে NGO তে কাজ করে ঘূর্ণিঝড় ও যুদ্ধের প্রেক্ষিতে গড়ে ওঠে। ১৯৭২ সালে যে নাম দিয়ে NGOটি যাত্রা শুরু করে ১৯৭৬ সালে গিয়ে সেই নাম ও কর্ম পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসে। সেই সাথে গ্রামের ভূমিহীন জনগোষ্ঠীকে নিয়েও সংস্থাটি কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটির এই বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে ব্র্যাকের প্রেক্ষাপটের মিল পাওয়া যায়। তাই বলা যায়, ইসতিয়াক বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ব্র্যাকে চাকরি করেন।
গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এই NGO অর্থাৎ ব্র্যাকের বিস্তৃত ও পরিকল্পিত কার্যক্রম রয়েছে।
গ্রামীণ ভূমিহীন ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে গ্রুপভিত্তিক সমাবেশের মাধ্যমে সংগঠিত করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্র্যাকের পল্লি উন্নয়ন কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্র্যাক সর্বনিম্ন স্তরের কর্মীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এ সংক্রান্ত কর্মকৌশল নির্ধারণকরে।
ব্র্যাকের পল্লি উন্নয়ন কর্মসূচি সাতটি মূল অঞ্চলে বিভক্ত। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সার্বিক দায়িত্ব একজন এরিয়া ম্যানেজার এবং কর্মসূচি সংগঠকের উপর ন্যস্ত। এছাড়াও ব্র্যাকের চারটি সমন্বিত পল্লি উন্নয়ন কর্মসূচি আছে। মূলত ভূমিহীন মহিলা ও পুরুষদের সংগঠিত করে সমবায়ের মাধ্যমে সার্বিক উন্নয়নে প্রচেষ্টা চালানো এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
এছাড়াও গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক সংস্থার উন্নয়নে ব্র্যাক গ্রাম সংগঠন গড়ে তোলার কৌশল অনুসরণ করে। এটি পল্লি উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্রদের দলীয় ভিত্তিতে ক্ষুদ্রঋণ সরবরাহ করে থাকে। পাশাপাশি বাহ্যিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাসের লক্ষ্যে ব্র্যাক দরিদ্রদের অর্থ সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে উৎসাহিত করে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্র্যাকের বিস্তৃত কার্যপরিধি রয়েছে।
Related Question
View Allগ্রামীণ সমাজসেবা কার্যক্রম সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত হয়।
বিবাহ সমাজে বংশের ধারা বজায় রাখে।
বিবাহিত পিতা-মাতার সন্তান বংশ সুরক্ষায় সক্ষম হয়। সন্তান পিতা-মাতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হয়। বিবাহই সন্তানকে অবৈধ সন্তানের পরিচয়ের গ্লানি থেকে রক্ষা করে এবং পিতৃ পরিচয় দান করে। সন্তানের সামাজিক পরিচিতির নিয়ামক হলো বিবাহ। বিবাহ সমাজে সন্তানের পিতৃত্ব তথা অভিভাবকত্ব নির্ধারণ করে।
রঞ্জ মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
বর্তমান যুগে মানুষকে সভ্য সমাজে সমাজে টিকে থাকতে হয় সমাজে ভালোভাবে টিকে থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন তা পূরণ করাই হলো মৌলিক মানবিক চাহিদা। অন্যভাবে বলা যায়, একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যে সকল চাহিদা পূরণ করতে হয় সেসব চাহিদাকে বলা হয় মৌলিক মানবিক চাহিদা। এ চাহিদাগুলো পূরণ ব্যতীত পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা। প্রতিটি মানুষের এ চাহিদাগুলো পূরণ করা আবশ্যক। যদি কেউ এগুলোর বেশিরভাগ পূরণ করতে না পারে তাহলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
রঞ্জুর ক্ষেত্রেও দেখা যায়, সে প্রায়ই খাদ্যের অভাবে না খেয়ে থাকে এবং স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায় না। এগুলো সবই মৌলিক মানবিক চাহিদার অন্তর্ভুক্ত। তাই বলা যায়, রঞ্জু মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত এনজিওটি হচ্ছে ইউসেপ। ইউসেপের সকল কার্যক্রমে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ করে এর সফলতা আরো বৃদ্ধি করা হয়।
সমাজকর্ম একটি স্বীকৃত পেশা। এ পেশায় একজন সমাজকর্মী তার কর্মক্ষেত্রে সমাজকর্মের বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করে সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চালায়। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকে। ইউসেপ বাংলাদেশে একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থা। এটি দরিদ্র ও দুস্থ ছেলে-মেয়েদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে থাকে। এজন্য নানা ধরনের কর্মসূচি এখানে পরিচালিত হয়ে থাকে। ইউসেপে এর কার্যক্ষেত্রে সমাজকর্মের প্রায় সব কয়টি পদ্ধতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। প্রথমত এখানে দল সমাজকর্মের পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। কেননা সাধারণ স্কুল ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দলগতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। দলীয় গতিশীলতা এখানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া সাধারণ শিক্ষার পর শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে তাদের কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে স্থানান্তর করা হয়।
ব্যক্তি সমাজকর্মের মনো-সামাজিক অনুধ্যানের প্রক্রিয়ায় এটি করাহয়ে থাকে। সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি ইউসেপে এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেননা শহরের বিশেষ একটি গোষ্ঠী বা সমষ্টির ভাগ্য উন্নয়নে ইউসেপে কাজ করে থাকে। এছাড়া ইউসেপের লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে নানা ধরনের গবেষণামূলক কাজ করা হয়ে থাকে। সমাজকর্মের বিভিন্ন কৌশলও ইউসেপে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। মূলত সমাজকর্ম একটি সাহায্যকারী পেশা। এ পেশার প্রতিটি পদ্ধতি প্রণীত হয়েছে সাহায্যার্থীর কল্যাণে। এ জন্য মানবকল্যাণধর্মী সব প্রতিষ্ঠানেই কোনো না কোনোভাবে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ হয়ে থাকে। ইউসেপের কার্যক্রমেও তাই সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহার করা যেতে পারে।
The History of Human Marriage' গ্রন্থের লেখক ফিনল্যান্ডের সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক এডভার্ড ওয়েস্টারমার্ক (Edvard Westermarck) |
পুলিশ সমাজকর্ম সমাজকর্মের একটি বিশেষায়িত শাখা।
সমাজকর্মের এ শাখা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশদের বিভিন্ন মনো-সামাজিক সমস্যা এবং প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান ও মৌলিক চাহিদা পূরণে সাহায্য করে থাকে। বাংলাদেশে পুলিশ সমাজকর্ম বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!