যে আমানতের অর্থ একটি সময় মেয়াদে সাধারণত সপ্তাহে দুবার ওঠানো যায়, তাকে সঞ্চয়ী আমানত বলে।
যে আমানত থেকে যেকোনো সময় অর্থ উঠানো যায় তাকে চলতি হিসাব বলে।
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যখন মনে করেন যে, তার জমাকৃত অর্থ যে কোনো সময় উত্তোলনের প্রয়োজন হতে পারে তখন তারা ব্যাংকে যে আমানত করে সেটাই চলতি হিসাব। এই হিসাবের ক্ষেত্রে আমানতকারী যে কোনো সময় আমানতের অর্থ উত্তোলন করতে পারে। ফলে এ ধরনের আমানত নগদ অর্থের গুণসম্পন্ন। চলতি হিসাবের জন্য ব্যাংক কোনো সুদ দেয় না।
জনাব কবির ব্যাংকে প্রতিমাসে ৫০০ টাকা জমানোর জন্য একটি স্থায়ী হিসাব খুলেছেন।
যে আমানতের অর্থ একটি নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তোলা যায় না তাকে স্থায়ী আমানত বলে। সাধারণত নিরাপত্তার সাথে অধিক মুনাফার আশায় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের আমানতে অর্থ সঞ্চয় করেন। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বে এ আমানতের অর্থ উত্তোলন করা যায় না। মেয়াদের পূর্বে উত্তোলন করলে আমানতকারীকে কম সুদ প্রদান করা হয়, এক্ষেত্রে আমানতের সর্বনিম্ন মেয়াদ ১ মাস, সর্বোচ্চ ১০ বছর হতে পারে। মূলত স্বল্পবিত্ত মানুষের মধ্যে সঞ্চয় অভ্যাস গড়ে তোলা, সঞ্চয় সুরক্ষিত রাখা এবং সঞ্চয় ধীরে ধীরে বাড়ানোই হলো এ ধরনের হিসাবের মুখ্য উদ্দেশ্য। উদ্দীপকে জনাব কবির একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বল্প বেতনে চাকরি করেন। তিনি ব্যাংকে একটি হিসাব খুলেন। যেখানে তিনি প্রতিমাসে ৫০০ টাকা জমা রাখেন। দশ বছর পর তিনি উক্ত টাকা সুদসহ পাবেন। সুতরাং বলা যায়, জনাব কবির ব্যাংকে যে হিসাবটি খুলেন সেটি একটি স্থায়ী আমানত
রাজিব তার বন্ধু জনাব কবিরকে অর্থ সঞ্চয়ের পরামর্শ দেন। তার এই পরামর্শ যদি সবাই গ্রহণ করে তবে মূলধন গঠনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।
দেশের বিভিন্ন ব্যাংকগুলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা সঞ্চয় সংগ্রহ করে। এ ব্যাংকগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে মূলধন গঠন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। সঞ্চয় বৃদ্ধির মাধ্যমে মূলধন গঠন বাড়লে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। ব্যাংকসমূহ জনগণের সঞ্চয়কৃত অর্থ দ্বারাই বিনিয়োগকারীদের ঋণ প্রদান করে থাকে যা বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তাছাড়া সবার মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস সৃষ্টি হলে তারা অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর দ্রব্যের ভোগ করা থেকে বিরত হবে এবং এক্ষেত্রে বেঁচে যাওয়া অর্থ সঞ্চয় করা যাবে। ব্যক্তিবর্গ অধিক সঞ্চয়ে প্রবৃত্ত হলে দেশে সঞ্চয় দ্রুত বাড়বে। সঞ্চিত অর্থ ব্যাংক ও বিমা কোম্পানির মাধ্যমে একত্রিত করে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করলে দেশে মূলধন গঠন দ্রুততর হবে। দেশে অধিক মূলধন গঠিত হলে তা দিয়ে উৎপাদন অনেক বাড়ানো যাবে। ফলে দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। রাজিব তার বন্ধুর মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস সৃষ্টি করার লক্ষ্যেই তাকে স্থায়ী হিসাব খোলার পরামর্শ দেন। সবাইকে এ ধরনের পরামর্শ দিয়ে সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করা গেলে দেশের মূলধন গঠন প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে - বৃদ্ধি পাবে যা সার্বিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
Related Question
View Allমানুষের এক দ্রব্যের পরিবর্তে সরাসরি অন্য দ্রব্য বিনিময় করে অভাব পূরণ করার ব্যবস্থাকে বিনিময় প্রথা বলে।
অধিকাংশ দ্রব্যসামগ্রী পচনশীল এবং দীর্ঘকালে সংরক্ষণ উপযোগী না হওয়ায় সঞ্চয়ের বাহন হিসেবে অর্থকেই অধিক উপযুক্ত বলে বিবেচনা করা হয়।
আবার এমন কিছু দ্রব্যসামগ্রী রয়েছে (স্বর্ণ, রূপা) যেগুলো মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হলেও সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এদের মূল্যমানের পরিবর্তন ঘটে। এমতাবস্থায় সঞ্চিত দ্রব্যের বর্তমান মূল্য ও ভবিষ্যৎ মূল্যের মধ্যে তারতম্য দেখা দিতে পারে। কিন্তু অর্থ দ্বারা সবকিছু ক্রয়-বিক্রয় তথা সহজেই বিনিময় করা যায়। তাছাড়া সময়ের বিবর্তনের সাথে এর বিনিময় মূল্যের সামঞ্জস্যতা বজায় থাকায় সঞ্চয়ের বাহন হিসেবে অর্থকেই অধিকতর নিরাপদ ও সুবিধাজনক বলা যায়। তাই অর্থ সঞ্চয়ের উৎকৃষ্ট বাহন হিসেবে কাজ করে।
রত্না যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে পরিচিত।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো একটি দেশের শ্রেষ্ঠতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যা সরকারি মালিকানার অধীনে দেশের মুদ্রা বাজারের প্রাণকেন্দ্র রূপে কাজ করে। এটি একটি দেশের সকল ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক, পরিচালক ও অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। এ ব্যাংক নোট ও ধাতব মুদ্রা প্রচলন, সরকার ও অন্যান্য ব্যাংকের ব্যাংকার, বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ কর্তৃক সৃষ্ট ঋণ নিয়ন্ত্রণ, আন্তঃব্যাংকের দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি, অর্থের অভ্যন্তরীণ ও বহির্মুল্যের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সরকারের আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে। অন্যান্য ব্যাংকের মতো কেবল মুনাফা অর্জনই এ ব্যাংকের উদ্দেশ্য নয়; বরং দেশের উন্নয়নের স্বার্থে মুদ্রা ও ঋণ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণ সাধনই এর মুখ্য উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকের রত্নার কর্মরত প্রতিষ্ঠানটি জনগণকে ঋণ দিতে পারে না, কিন্তু এটি অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিচালনার ক্ষেত্রে পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে। তার ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকের ঋণ তদারকি করে। অন্যান্য ব্যাংকগুলো তারল্য সমস্যার মুখোমুখি হলে এ ব্যাংক ঋণ আকারে অর্থ প্রদান করে এসব সমস্যা সমাধান করে।
রত্না যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তা হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক; আর তার বান্ধবী যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তা হলো একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
নিচে এ দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করা হলো-কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশে কাগজি নোট ও ধাতব মুদ্রা প্রচলনকারী একমাত্র আর্থিক প্রতিষ্ঠান; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংক কাগজি নোট ও ধাতব মুদ্রা বাদে বিনিময়ের অন্যান্য মাধ্যম তথা চেক, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার ইত্যাদি প্রচলন করতে পারে। প্রত্যেক দেশে একটি মাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক থাকে; কিন্তু একটি দেশে অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক থাকতে পারে। জনসেবা ও দেশের সার্বিক কল্যাণ সাধন করাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ সৃষ্টি করে না; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংক নিজেদের কাছে গচ্ছিত আমানতের বিপরীতে ঋণ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো পরস্পর প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান। তাছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনগণের সাথে প্রত্যক্ষ লেনদেন করে না; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংক জনসাধারণের সাথে আর্থিক লেনদেনের জন্যই সৃষ্ট। এভাবে রত্নার প্রতিষ্ঠানের সাথে তার বান্ধবীর প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা যায়। এক্ষেত্রে রত্নার প্রতিষ্ঠান তার বান্ধবীর প্রতিষ্ঠানের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক হয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
যে অর্থ দেশের জনসাধারণ গ্রহণ করতে আইনগতভাবে বাধ্য থাকে তাকে বিহিত অর্থ বলে।
নিকাশ ঘর হলো এমন একটি স্থান বা প্রতিষ্ঠান, যেখানে একটি নিকাশ পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা অঞ্চলের ব্যাংকসমূহ পরস্পরের মধ্যে দেনা-পাওনা সংক্রান্ত হিসাবের নিষ্পত্তি করে। নিকাশ ঘর বলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক বিভিন্ন ব্যাংকের দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে বোঝায়। বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ বিভিন্ন চেক, ড্রাফট, হুন্ডি প্রভৃতি ভাঙানোর মাধ্যমে একে অন্যের নিকট পাওনাদার হয়। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ লেনদেনের 'নিকাশ ঘর' হিসেবে পারস্পরিক দেনা- পাওনার হিসাব পরিশোধ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!