জনাব করিম ও তার দুই বন্ধু মিলে সমঝোতার ভিত্তিতে ও মুনাফা ভাগাভাগির উদ্দেশ্যে 'সমতা প্রিন্টিং প্রেস' নামে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সর্বসম্মতিক্রমে মি. করিম পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন এবং বাৎসরিক ১.০০ লক্ষ টাকা বেতন গ্রহণ করেন কিন্তু কোনো মূলধন সরবরাহ করেন না। কয়েক বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি আশানুরূপ মুনাফা অর্জন করায় সফলতার সাথে চলতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ করিম অসুস্থ হয়ে পড়লে সে আর ব্যবসায় চালিয়ে যেতে পারবে না বলে জানান।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

অংশীদারদের মধ্যকার চুক্তির বিষয়বস্তু দলিলে লিপিবদ্ধ করা। হলে, তাকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে।

উত্তরঃ

অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বলতে নিবন্ধকের অফিসে। প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকাভুক্ত করাকে বোঝায়।

অংশীদারি আইনের ৫৮(১) ধারায় নিবন্ধন পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এ ব্যবসায় নিবন্ধনের জন্য যে স্থানে ব্যবসায় স্থাপিত বা স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে উক্ত এলাকায় সরকার নিযুক্ত নিবন্ধকের অফিসে নির্ধারিত ফি প্রদানপূর্বক নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হবে। এ ধারার বর্ণনা অনুযায়ী আবেদনপত্রে যা যা উল্লেখ থাকতে হয় তা হলো- অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, শাখা থাকলে তার ঠিকানা, উদ্দেশ্য, অংশীদারদের নাম, ঠিকানা ইত্যাদি। এরূপ আবেদনপত্র সকল অংশীদার অথবা তাদের পক্ষ হতে বিশেষ অধিকারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হয়। আইনের ৫৯ ধারায় বলা হয়েছে, আইনের ৫৮ ধারা যথাযথভাবে অনুসৃত হয়েছে কিনা নিবন্ধক তা পরীক্ষা করবেন এবং সন্তুষ্ট হলে নিবন্ধন বইতে ব্যবসায়ের নাম তালিকাভুক্ত করবেন। এরূপ তালিকাভুক্তির পর হতেই অংশীদারি ব্যবসায়টি নিবন্ধিত হয়েছে বলে ধরা হয়।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব করিম একজন কর্মী অংশীদার।

অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না শুধু নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রাখে তাকে কর্মী অংশীদার বলে। এরা ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে এজন্য তাদের নির্দিষ্ট হারে বেতন বা লাভের অংশ দেওয়া হয়। সাধারণত ব্যবসায় পরিচালনায় যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে এ ধরনের অংশীদার হিসেবে নেওয়া হয় যাতে ব্যবসায় সুষ্ঠুভাবে চলতে ও অধিক মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়। এতে মূলধন বিনিয়োগকারী অংশীদাররা লাভবান হতে পারে।

উদ্দীপকের জনাব করিম ও তার দুই বন্ধু সমঝোতার ভিত্তিতে ও মুনাফার ভাগাভাগির উদ্দেশ্যে 'সমতা প্রিন্টিং প্রেস' নামক একটি অংশীদারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সর্বসম্মতিক্রমে মি. করিম পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে এবং বাৎসরিক ১ লাখ টাকা বেতন গ্রহণ করেন। কিন্তু কোনো মূলধন সরবরাহ করেন না। এ ধরনের অংশীদারকে বলা হয় কর্মী অংশীদার।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত 'সমতা প্রিন্টিং প্রেস' আদালতের নির্দেশে পরিসমাপ্তি হতে পারে, আবার নতুন অংশীদার নিয়ে নব উদ্যমে ব্যবসায় পরিচালনা করতে পারে।

সকল অংশীদারদের মধ্যকার অংশীদারি সম্পর্কের বিলোপকে অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন বলে। উদ্দীপকে ব্যবসায়টিতে জনাব করিম একজন অংশীদার। সে অসুস্থ হয়ে পড়লে অংশীদারি ব্যবসায়ে সে তার কর্তব্য পালনে অপারগতা জানায়। কোনো অংশীদার যেকোনো কারণে তার কর্তব্য পালনে অসমর্থ হলে বা অপারগতা প্রকাশ করলে উক্ত প্রতিষ্ঠান আদালতের মাধ্যমে বিলোপসাধন করার প্রয়োজন পড়ে। আবার, অংশীদারদের কেউ ব্যবসায় থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারে। এজন্য ব্যবসায় বন্ধ হয়ে যাবে এমনটা নাও হতে পারে। অংশীদারি সম্পর্ক বিলুপ্ত হলেই ব্যবসায় বন্ধ হয়ে যাবে এমন নাও হতে পারে। নতুন সম্পর্ক গঠন ও তার ভিত্তিতে ব্যবসায় আবার নতুন করে চলতে পারে। তাই বলা যায়, অংশীদারি সম্পর্ক শেষ হয় গেলেও ব্যবসায়ের বিলোপসাধন না ঘটে নতুন আঙ্গিকে চলতে পারে।

উদ্দীপকের মি. করিম ও তার দুই বন্ধু মিলে 'সমতা প্রিন্টিং প্রেস' নামক একটি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করে। সর্বসম্মতিক্রমে মি. করিম মূলধন বিনিয়োগ না করে ১.০০ লক্ষ টাকা বেতনের বিনিময়ে কর্মী অংশীদার হিসেবে ব্যবসায় পরিচালনা করেন। কয়েক বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি সফলতার সাথে চলতে থাকে। কিন্তু মি. করিম হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে গেলে তিনি ব্যবসায় চালাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমতাবস্থায় ব্যবসায়টি তো আর বন্ধ হয়ে যেতে পারে না। এই ব্যবসায়ের অন্য দুই অংশীদার তাদের ব্যবসায় বন্ধ না করে নতুন কোনো অংশীদার নিয়ে তাদের ব্যবসায় পুনর্গঠন করতে পারে এবং নতুন আঙ্গিকে তাদের ব্যবসায় পরিচালিত হতে পারে। আবার আদালতের মাধ্যমে বিলোপসাধন হতে পারে।

উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, একজন অংশীদারের অপারগতার দরুন 'সমতা প্রিন্টিং প্রেস' আইনের মাধ্যমে বিলোপসাধন হতে পারে। আবার নতুন অংশীদার নিয়ে তারা নবউদ্যমে ব্যবসায় পরিচালনা করতে পারবে বলে আমি মনে করি।

81

ব্যবসায় পরিবারের দ্বিতীয় সদস্য হলো অংশীদারি সংগঠন। একমালিকানা ব্যবসায়ে একক মালিকের পুঁজি ও সামর্থের সীমাবদ্ধতার কারণে এক পর্যায়ে বড় ধরনের সংগঠনের প্রয়োজন অনুভূত হয়। ফলশ্রুতিতে একাধিক ব্যক্তির মালিকানা ও তত্ত্বাবধানে সৃষ্টি হয় অংশীদারি সংগঠন। এ ব্যবসায়ে ন্যূনতম ২ জন এবং সর্বাধিক ২০ জন সদস্য থাকে। তবে ব্যাংকিং ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সর্বাধিক ১০ জন সদস্য থাকে। ১৯৩২ সালের ভারতীয় অংশীদারি আইন অনুযায়ী, “সকল ব্যক্তির দ্বারা বা সকলের পক্ষে একজন দ্বারা পরিচালিত ব্যবসায়ের মুনাফা নিজেদের মধ্যে বণ্টনের নিমিত্তে কতিপয় ব্যক্তিবর্গের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কই হলো অংশীদারি ব্যবসায়। বাংলাদেশে বর্তমানে ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনটি প্রচলিত রয়েছে।


এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা জানতে পারব—

  • অংশীদারি ব্যবসায়ের বৈশিষ্ট্যসমূহ।
  • অংশীদারি ব্যবসায়ের গঠন প্রণালি ।
  • অংশীদারি ব্যবসায়ের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা/অসুবিধা ।
  • অংশীদারি ব্যবসায়ের প্রকারভেদ।
  • অংশীদারি ব্যবসায়ের চুক্তিপত্রের নমুনা ও বিষয়বস্তু ।
  • অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন পদ্ধতি এবং নিবন্ধন না করার পরিণাম ।
  • অংশীদারদের ধরন।
  • অংশীদারদের যোগ্যতা ।
  • অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন প্রক্রিয়া ।
  • বাংলাদেশে অংশীদারি ব্যবসায়ের বর্তমান অবস্থা ।

সূত্র: ক্যামব্রিয়ান পাবলিকেশন্স

Related Question

View All
উত্তরঃ

সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ের ন্যূনতম সদস্যসংখ্যা ২ জন।

894
উত্তরঃ

অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারদের দায় ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে অসীম।

অসীম দায় বলতে ব্যবসায়ে নিয়োজিত মূলধনের বাইরেও অংশীদারদের দায় সৃষ্টি হওয়াকে বোঝায়; যা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে দায়বদ্ধ করে এবং ব্যক্তি দেউলিয়া হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তা বিস্তৃত থাকে। এরূপ অসীম দায়ের কারণেই অংশীদারি ব্যবসায় গঠনে সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা উৎসাহিত হয় না। যে কারণে সকল দেশেই এরূপ ব্যবসায়ের সংখ্যা কম। তাই বলা যায়, অংশীদারি ব্যবসায়ের দায় অসীম।

2.3k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের জনাব সফিক একজন কর্মী অংশীদার।

যে অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করে না, শুধু নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রাখে তাকে কর্মী অংশীদার বলে। চুক্তি অনুযায়ী কর্মী অংশীদার অন্যান্য অংশীদারের ন্যায় ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে এবং অসীম দায় বহনে বাধ্য থাকে। অবশ্য ব্যবসায় পরিচালনার জন্য এদেরকে নির্দিষ্ট হারে বেতন বা লাভের অংশ দেওয়া হয়। সাধারণত ব্যবসায় পরিচালনায় যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে এ ধরনের অংশীদার হিসেবে নেওয়া হয় যাতে ব্যবসায়ে অধিক মুনাফা অর্জন করতে সমর্থ হয়।

উদ্দীপকের জনাব সফিক একজন প্রকৌশলী। তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে করিম, রহিম ও মিজান তাকে বিনা মূলধনে অংশীদার হিসাবে নেয়। যেহেতু জনাব সফিক ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ না করেও শুধু নিজস্ব শ্রম ও দক্ষতাকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রাখার কারণে উক্ত ব্যবসায়ের অংশীদারিত্ব লাভ করেছে। তাই বলা যায়, জনাব সফিক একজন কর্মী অংশীদার।

605
উত্তরঃ

উদ্দীপকের আলোকে আমি মনে করি মি. মিজান অন্যদের মতো সমান মুনাফা পাবে।

অংশীদারি ব্যবসায়ের সকল অংশীদার একই রকম হবে এমন নয়। বিভিন্ন ধরনের অংশীদারের মধ্যে অন্যতম হলো ঘুমন্ত অংশীদার। যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে কিন্তু অধিকার থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায় পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে না তাকে ঘুমন্ত অংশীদার বলে।

মি. মিজান একজন ঘুমন্ত অংশীদার। উদ্দীপকে করিম, রহিম ও মিজান অংশীদারির ভিত্তিতে ব্যবসায় গঠন করেছে। এ ব্যবসায়ে করিম, রহিম ও সফিক পরিচালনায় অংশ নেয় কিন্তু মিজান পরিচালনায় অংশ নেয়নি। তবে বছর শেষে মিজান অন্যদের মতো মুনাফা দাবি করে। মি. মিজানের কার্যক্রম অনুযায়ী তিনি একজন ঘুমন্ত অংশীদার। এ অংশীদারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মিজান সমান মুনাফা পাবেন।

সুতরাং বলা যায়, জনাব মিজান সমান মুনাফা পাবেন।

595
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews