যিনি চেক প্রস্তুত করে ব্যাংকের ওপর অর্থ পরিশোধের শর্তহীন আদেশ দেয় তাকে আদেষ্টা বলে।
অর্থ উত্তোলনে ব্যবহৃত ব্যাংক কর্তৃক সরবরাহকৃত ছাপা কাগজকে চেক বলা হয়।
আমানতকারী কর্তৃক ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের জন্য লিখিত শর্তহীন নির্দেশনাকে চেক বলে। এটি একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল। চেক যথাযথ নিয়মে প্রস্তুত ও উপস্থাপিত হলে এবং হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ থাকলে ব্যাংক চাহিবামাত্র চেকের অর্থ পরিশোধে বাধ্য থাকে।
উদ্দীপকে জনাব কায়েসের ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলিত অতিরিক্ত অর্থ জমাতিরিক্ত ঋণের অন্তর্ভুক্ত।
চুক্তি মোতাবেক ব্যাংক তার চলতি হিসাবের গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের যে সুযোগ দেয় তাকে জমাতিরিক্ত ঋণ বলে। ব্যাংক যদি মক্কেলের আর্থিক 'সচ্ছলতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট থাকে অথবা যথোপযুক্ত জামিন বা জামানত পায়, তবে ব্যাংক চলতি হিসাবের গ্রাহককে জমাকৃত অর্থের অতিরিক্ত টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেয়। এ ঋণের সুদের হার বেশি।
উদ্দীপকে জনাব কায়েস একজন টায়ার ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক কাজে তার হঠাৎ অর্থের প্রয়োজন হয়। তিনি পাওনাদার থেকে প্রাপ্ত চেকের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে নিজের ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থের অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করেন। এক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহককে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে দেয়। ব্যাংকের সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে এমন গ্রাহকদের সাধারণত জমাতিরিক্ত ঋণের সুবিধা দেওয়া হয়। গ্রাহক প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময়ে এই ঋণ নিতে পারবেন। পরবর্তীতে সুদসহ ঋণের টাকা নির্দিষ্ট নিয়মে ফেরত দিতে পারবেন। এজন্য জনাব কায়েসের ব্যাংক থেকে গৃহীত অতিরিক্ত অর্থ জমাতিরিক্ত ঋণের আওতায় পড়ে।
উদ্দীপকে চেকটি বাসি চেক হওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তা কর্তৃক চেকটি প্রত্যাখ্যাত করার বিষয়টি পুরোপুরি যৌক্তিক। কোনো চেক প্রস্তুতের তারিখের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভাঙানো না হলে ঐ চেককে বাসি চেক বলে। বাংলাদেশে এই সময়কাল ৬ মাস বা ১৮০ দিন।
উদ্দীপকে জনাব কায়েস টায়ারের ব্যবসায় করেন। তিনি তার পাওনাদার থেকে একটি চেক পান। পরবর্তীতে তিনি চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপন করলে ব্যাংক কর্মকর্তা চেকটি প্রত্যাখ্যান করে।
উদ্দীপকে জনাব কায়েসের চেকটির ইস্য তারিখ ছিল ৩০.০১.২০২২। কিন্তু তিনি চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপন করেন ৩০.০৭.২০২২ তারিখে। অর্থাৎ ৬ মাস বা ১৮০ দিন পার হয়ে যাওয়ায় চেকটি বাসি চেকে পরিণত হয়েছে। বাসি চেকের অর্থ ব্যাংক পরিশোধে বাধ্য নয়। তাই ব্যাংক কর্মকর্তা এ বাসি চেকটিকে প্রত্যাখ্যান করেন। সুতরাং, চেকটি বাসি চেক হওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তা কর্তৃক চেকটি প্রত্যাখ্যান করা যৌক্তিক সিদ্ধান্ত ছিল।
Related Question
View Allযে ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংক তার গ্রাহককে অগ্রিম ঋণ মঞ্জুর করে, কিন্তু সরাসরি নগদে সেই টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেয় না তাকে নগদ ঋণ বলে।
ব্যাংক অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উৎস থেকে যে অর্থ সংগ্রহ করে তাই ব্যাংক তহবিল।
ব্যাংক একটি আর্থিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। ব্যাংক ব্যবসায়ের সফলতা অর্জনে এ তহবিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকের নিজস্ব অর্থ ও ধার করা অর্থের সমন্বয়ে এ তহবিল গঠিত হয়।
জনাব রানার ব্যাংক জামানতটি পণ্য বন্ধক।
ঋণগ্রহীতা জামানত হিসেবে পণ্যের দখল ঋণদাতাকে দিলে তাকে পণ্য বন্ধক বলা হয়। এক্ষেত্রে পণ্যের মালিকানা ঋণগ্রহীতার, আর দখলস্বত্ব ঋণদাতার কাছে থাকে। ঋণ পরিশোধ করলে ঋণগ্রহীতা পণ্য ফিরে পায়। অন্যথায়, ঋণদাতা তা বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে।
উদ্দীপকের জনাব রানার মোটরসাইকেল তৈরির কারখানা আছে। ব্যবসায়িক কাজে তার বড় অঙ্কের ঋণের প্রয়োজন হয়। তাই তিনি তার তৈরিকৃত মোটরসাইকেল জামানত রেখে ৪ কোটি টাকা ঋণ নেয়। পণ্য বন্ধকের ক্ষেত্রেও প্রস্তুতকৃত পণ্য জামানত রেখে ঋণ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে মোটরসাইকেল হলো জনাব রানার জন্য প্রস্তুতকৃত পণ্য। এটা বন্ধক রেখে সে ৪ কোটি টাকা ঋণ পায়। জনাব রানার জামানতটি পণ্য বন্ধকের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়। তাই বলা যায়, জনাব রানা পণ্য বন্ধক রেখে ঋণ নিয়েছিলেন।
উদ্দীপক অনুযায়ী সমতা বন্ধক অর্থাৎ কারখানার জায়গাটির দলিল জামানত হিসেবে বেশি উপযুক্ত।
যে সম্পত্তির দলিলপত্র নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণদাতা জামানত হিসেবে রাখেন, তাকে সমতা বন্ধক বলে। এক্ষেত্রে সম্পত্তির দখল ঋণগ্রহীতার কাছেই থাকে। উত্তম জামানত ব্যাংকের ঋণের বিপরীতে ক্ষতির আশঙ্কা কমায়।
উদ্দীপকে জনাব রানা ও জনাব সবুজ দুজনেরই মোটরসাইকেল তৈরির কারখানা রয়েছে। তাদের বড় অঙ্কের ঋণের প্রয়োজন। জনাব রানা তার তৈরিকৃত মোটরসাইকেল জামানত রেখে ৪ কোটি টাকা ঋণ নেয়। অন্যদিকে, জনাব সবুজ কারখানার জায়গাটির দলিল বন্ধক রেখে ৬ কোটি টাকা ঋণ নেয়। ঋণের জামানতের ক্ষেত্রে ব্যাংক কতগুলো বিষয় বিবেচনা করে। উল্লিখিত ক্ষেত্রে জামানতের মূল্যের স্থিতিশীলতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচ্য বিষয়।
জনাব রানার জামানত হলো পণ্য বন্ধক। অন্যদিকে, জনাব সবুজের জামানত হলো সমতা বন্ধক। মোটরসাইকেলের মূল্য চাহিদা অনুসারে ভিন্ন হয়। তবে জায়গার মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল। আবার আইনগত দিক বিবেচনায়ও জায়গার দলিল বেশি গ্রহণযোগ্য। তাই জনাব সবুজের সমতা বন্ধক ব্যাংকের কাছে বেশি উপযুক্ত।
ব্যাংক যে হিসাবের মাধ্যমে গ্রাহককে ঋণের টাকা প্রদান করে তাকে ঋণ হিসাব বলে।
গ্রাহক সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে KYC ফর্ম গ্রাহকের লেনদেনের সচ্ছতা নিশ্চিত করে।
KYC-এর পূর্ণরূপ হলো Know Your Customer। এ ফর্মে ব্যাংক গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, পেশা, কাজের ধরন ও অন্যান্য যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে। ফলে গ্রাহক সহজে কোনো অবৈধ লেনদেন করতে পারে না। এভাবে লেনদেনের সচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!