প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে উৎপাদনের উপকরণসমূহকে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সংগ্রহ, সংগঠন ও পরিচালনা করার কৌশলকে ব্যবস্থাপনা বলে।
ব্যবস্থাপনার সাম্যতা নীতি বলতে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল কর্মীদের প্রতি সমান আচরণ প্রদর্শনের নীতিকে বোঝানো হয়।
প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত কর্মীরা নির্বাহীর নিকট হতে ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষতা এবং সমান আচরণ আশা করে। নির্বাহীর চোখে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত সকল কর্মী সমভাবে বিবেচিত হলে তিনি সবার সম্মানের অধিকারী হয়ে ওঠে। সাম্যতা নীতি অনুযায়ী সকল কর্মীকে সমানভাবে মূল্যায়ন বা ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে বিচার করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানে সাম্যতা গড়ে ওঠে।
জনাব LR এবং জনাব AT একই সাথে জনাব টিটুকে দু' ধরনের কাজের নির্দেশ দিলে ব্যবস্থাপনার আদেশের ঐক্যের নীতি লঙ্ঘিত হবে। ব্যবস্থাপনায় আদেশের ঐক্য নীতি অন্যতম মূলনীতি হিসেবে বিবেচিত। এ নীতি অনুযায়ী একজনমাত্র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্বারা কর্মিগণ আদিষ্ট হবেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা বস একাধিক হলে কর্মীর পক্ষে সকলের আদেশ-পালনে সমস্যা দেখা দেয় এবং প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এজন্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আদেশের ঐক্য নীতি মেনে চলা একান্ত আবশ্যক।
সাধারণভাবে যেকোনো প্রতিষ্ঠানেই আদেশের ঐক্য বজায় রেখে কার্যাবলি সম্পাদন করা হলে ঐ প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় থাকে। কিন্তু এখানে উদ্দীপকটিতে একজন সুপারভাইজার পর্যায়ের কর্মকর্তার উপরে এরিয়া ম্যানেজার। এক্ষেত্রে দুজনই সুপারভাইজার জনাব টিটুকে দুই রকমের পরামর্শ দিলে সুপারভাইজার সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি হবেন। ফলে আদেশের ঐক্যের নীতি লংঘিত হবে।
সুতরাং বলা যায়, জনাব LR এবং জনাব AT একই সাথে জনাব টিটুকে দু' ধরনের কাজের নির্দেশ দিলে ব্যবস্থাপনার আদেশের ঐক্যের নীতি লঙ্ঘিত হবে।
ব্যবস্থাপনার স্তরের ভিত্তিতে জনাব চৌধুরীর কাজের প্রকৃতি হলো শীর্ষ ব্যবস্থাপনার কাজ। আর জনাব LR এর কাজের প্রকৃতি হলো মধ্য পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার কাজ।
প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের নির্বাহীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ব্যবস্থাপনাকে উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বা শীর্ষ ব্যবস্থাপনা বলে। এ স্তরে প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণ, উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সাধারণত মালিক, পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, সচিব এ স্তরে অবস্থান করে। পক্ষান্তরে, উচ্চ পর্যায়ে গৃহীত লক্ষ্য, পরিকল্পনা ও নীতি-নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিম্ন পর্যায়ের ব্যবস্থাপকগণকে কাজে লাগাতে ব্যবস্থাপনার যে পর্যায় কাজ করে তাকে মধ্য পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বলে। এরূপ পর্যায় উচ্চ ও নিম্ন পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার মধ্যে সেতুবন্ধকের ভূমিকা পালন করে। সাধারণত বিভাগীয় ব্যবস্থাপক, সহকারী-ব্যবস্থাপক, এরিয়া ম্যানেজার প্রমুখ এ স্তরে অবস্থান করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব চৌধুরী 'PQR' কোম্পানির সচিব। যেহেতু তিনি প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও নীতিনির্ধারণ তথা চিন্তন-মননকার্য প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। তাই বলা যায়, জনাব চৌধুরীর কাজের প্রকৃতি হলো উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার কাজ। অন্যদিকে, জনাব LR কোম্পানির একজন এরিয়া ম্যানেজার। তিনি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও নীতি বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন, নেতৃত্ব প্রদান ও নিয়ন্ত্রণের মতো কার্যাবলি সম্পাদন করেন। যেগুলো মধ্য পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার কাজের আওতাভুক্ত।
সুতরাং বলা যায়, ব্যবস্থাপনার স্তরের ভিত্তিতে জনাব চৌধুরী শীর্ষ ব্যবস্থাপনা হিসেবে প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারনমূলক কাজ করেন এবং জনাব LR মধ্য পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা হিসেবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ করেন।
Related Question
View Allফ্রেডরিক উইনসলো টেলর (Frederick Winslow Taylor)
ফ্রেডরিক উইনসলো টেলর (Frederick Winslow Taylor)
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!