শুধু জিজিয়া প্রদানের শর্তে অমুসলিমরাও ইসলামি রাষ্ট্রের নাগরিক হতে পারে।
রাষ্ট্রপ্রধানসহ ইসলামি রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক শীর্ষপদে মুসলিম ব্যক্তি নিয়োজিত হবেন। মুত্তাকি ও নিষ্ঠাবান মুসলিম ছাড়া কোনো অমুসলিম এ পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না। কেননা আল্লাহর খলিফা হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি কেবল মুসলিমগণ।
জনাব জাহিদুল ইসলাম তার সংগঠনকে ইসলামি রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে পারবে না। এর কারণ হলো ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের উপাদান নির্দিষ্ট ও স্বাধীন ভূখণ্ড থাকা। উক্ত সংগঠনে রাষ্ট্র গঠনের অন্য উপাদানগুলো থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নির্দিষ্ট ও স্বাধীন ভূখণ্ড ছাড়া ইসলামি রাষ্ট্র গঠিত হবে না। যদিও সমস্ত পৃথিবীই ইসলামি রাষ্ট্রের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু বিশ্বব্যাপী ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। রাসুল (স)ও সমগ্র বিশ্বকে ইসলামি রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা করেননি। তিনি মদিনার নির্দিষ্ট ও স্বাধীন ভূখণ্ডে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। কাজেই ছোট হোক বা বড় হোক ইসলামি রাষ্ট্রের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড থাকতে হবে।
অনুচ্ছেদে উল্লিখিত ইসলামি সংগঠনে নির্দিষ্ট স্বাধীন ভূখণ্ড ছাড়া রাষ্ট্রের প্রায় সকল উপাদানই সন্নিবেশিত রয়েছে। যেমন ইসলামি রাষ্ট্রের গঠনপ্রণালির মধ্যে রয়েছে ইসলামি অনুশাসনের অনুসারী একদল লোক নিয়ে ইসলামি রাষ্ট্র গঠিত হবে। ইসলামি রাষ্ট্রে একটি সুসংগঠিত ইসলামি সরকার থাকবে। ইসলামি রাষ্ট্রে সার্বভৌম ক্ষমতার নিরঙ্কুশ অধিকার থাকবে আল্লাহ তায়ালার। যেমন কুরআনে এসেছে-
قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ
অর্থ: 'বলো, হে আল্লাহ তুমি সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক' (সুরা আলে ইমরান: ২৬)।
ইসলামি রাষ্ট্র গঠিত হবে সুনির্ধারিত গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে। ইসলামি রাষ্ট্রে একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান থাকবেন যিনি হবেন মুসলিম পুরুষ, মুত্তাকি এবং জ্ঞানী। ইসলামি রাষ্ট্রের আরেকটি অনিবার্য উপাদান হলো মজলিশে শুরা বা পরামর্শ সভা থাকা। উপরিউক্ত উপাদানগুলো উক্ত ইসলামি সংগঠন এর মধ্যে বিদ্যমান।
Related Question
View Allদুঃখ-কষ্ট ও বিপদে-আপদে বিচলিত না হয়ে আল্লাহর ওপর ভ ভরসা রেখে দৃঢ়তার সাথে তা সহ্য করাকে সবর বলা হয়।
যারা রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, রাষ্ট্রপ্রদত্ত সুযোগ- সুবিধা ভোগ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে তারাই নাগরিক। উৎপত্তিগত অর্থে নগরের অধিবাসীদেরই নাগরিক বলা হয়। কিন্তু আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নাগরিক হতে হলে রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন ও কর্তব্য পালন করাও অত্যাবশ্যক।
রিয়াজ সাহেবের মধ্যে তাওয়াক্কুলের অভাব লক্ষণীয়। তাওয়াক্কুল শব্দের অর্থ ভরসা বা নির্ভর করা। কোনোকিছু অর্জনের জন্য চেষ্টা বা সাধনা করার পর সফলতার জন্য মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা বা নির্ভর করাকে তাওয়াক্কুল বলে। আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, বান্দা আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট। কিন্তু রিয়াজ সাহেবের ক্ষেত্রে তাওয়াক্কুলের অভাব লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের রিয়াজ সাহেবের ছেলে অসুস্থ হলে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে তার আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্যধারণ করা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি তা না করে বলেন, ডাক্তার ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই। রিয়াজ সাহেবের ছেলেকে ভালো করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। যা ডাক্তার সাহেবের কথায় প্রমাণিত হয়েছে। খাঁটি মুমিন হতে হলে জীবনের সবক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতে হবে। যারা আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। তাওয়াক্কুল করলে আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট' (সুরা আত-তালাক: ৩)। রোগ হলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এবং ওষুধ খেতে হবে। আর আল্লাহর কাছে ভালো হওয়ার জন্য প্রার্থনা করতে হবে, ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে। কিন্তু রিয়াজ সাহেব তা করেননি। তাই বলা যায়, তার মধ্যে তাওয়াক্কুলের অভাব রয়েছে।
ডাক্তার সাহেবের উক্তিতে ইসলামি রাষ্ট্রে একজন নাগরিকের অধিকারের বিষয়টি যথাযথভাবে ফুটে উঠেছে। ইসলামি রাষ্ট্রের নাগরিকরা যেকোনো বিষয়ে একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করবে এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাইবে। উদ্দীপকে রিয়াজ সাহেব তার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে বিচলিত হয়ে পড়লে ডাক্তার সাহেব তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করুন। আমরা উসিলা মাত্র। আর একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক ব্যক্তিরই সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের অধিকার আছে। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি মাত্র। এখানে ডাক্তার সাহেব একজন মুমিন ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণিত হন। তিনি তার বক্তব্যে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করা এবং রিয়াজ সাহেবকে বিচলিত না হওয়ার পরামর্শ দেন। ইসলামি রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের সুন্দর ও সুস্থভাবে জীবনযাপনের অধিকার আছে। আর এই সুন্দর সুস্থ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে তিনি তার দায়িত্ব পালন করছেন। কেননা ডাক্তার হিসেবে তার দায়িত্ব রোগীকে সঠিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করা। সুস্থ করার মালিক একমাত্র আল্লাহ। এক্ষেত্রে তার মধ্যে কর্তব্যপরায়ণতার দিকটিও ফুটে ওঠে। তিনি নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ইসলামি রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের সুষ্ঠু, সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। আর এ অধিকার পূরণে রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করবে। ডাক্তার সাহেবের বক্তব্যে এ বিষয়টির প্রতিফলন ঘটেছে।
অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার বলতে ইসলামি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধাকে বোঝায়। ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকদের জান-মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা থাকবে। রাষ্ট্র তাদের স্বাধীনভাবে ধর্মকর্ম পালনের সুযোগ-সুবিধা দেবে। ধর্মের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি করা যাবে না। অমুসলিম নাগরিক যাতে তাদের মৌলিক প্রয়োজন যেমন- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এগুলো নিশ্চিত করতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়া ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকদের চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!