কোনো দল বা গোষ্ঠীর আচরণ ও কাজকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে নেওয়ার কৌশলকেই নেতৃত্ব বলে।
যে নেতৃত্ব কৌশলে নেতা সকল কর্তৃত্ব নিজের কাছে না রেখে প্রয়োজনীয় কর্তৃত্ব নিচের জনশক্তির নিকট হস্তান্তর করে তাকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে। এরূপ নেতৃত্ব ব্যবস্থায় নেতা অধস্তনদের প্রয়োজনীয় কর্তৃত্বই শুধু প্রদান করে না তাদেরকে মর্যাদাবান গণ্য করে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয়। ভয়-ভীতি প্রদর্শন বা চাপ সৃষ্টি না করে ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেয়। উন্নয়নের চেষ্টা করে। ফলে দলীয় প্রচেষ্টা জোরদার হয় এবং উত্তম শ্রম-ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যে কারণে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব উত্তম।
জনাব জাহিন প্রতিষ্ঠানে লাগামহীন বা মুক্ত নেতৃত্ব অনুসরণ করছেন। নেতা যখন স্বাধীনভাবে কর্মীদেরকে কাজ করতে দেয় এবং কর্মীর কাজে কোনো প্রকার ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব আরোপ করে না, তখন তাকে লাগামহীন নেতৃত্ব বলে। মুক্ত নেতা কর্মীদের ওপর দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিত থাকেন। এরূপ নেতৃত্বের প্রকৃতি হলো এতে অধস্তনরা অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। এরূপ নেতা নিজে কাজ করতে পছন্দ করে না অর্থাৎ কর্মবিমুখ হয়, কর্মীদের প্রতিও সুনির্দিষ্টভাবে আদেশ-নির্দেশনা দেন না। কর্মীরা নিজের ইচ্ছেমতো কাজকর্ম করে নেয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব জাহিন একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়েও নিজে প্রতিষ্ঠানে খুব একটা সময় দেন না অর্থাৎ তিনি কর্মবিমুখ। তিনি কর্মীদের ওপর দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিত থাকতে চান। এতে কর্মীরা নিজেদের মতো মুক্তভাবে কাজ করে থাকে। ভুল-ত্রুটি হলে তা ধরিয়ে দেওয়া বা সংশোধন করার মতো নেতা নেই। অর্থাৎ লাগামহীনভাবে নেতৃত্ব প্রদান করা হচ্ছে। জনাব জাহিনের নেতৃত্বের ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা যায় তা লাগামহীন নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য বহন করে। অর্থাৎ তিনি মুক্ত বা লাগামহীন নেতৃত্ব অনুসরণ করছেন।
প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সংকট নিরসনে নেতৃত্বের ধরন বিবেচনায় জনাব জাহিন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নেতৃত্ব অর্থাৎ গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে যথার্থ বলে আমি মনে করি। উদ্দীপকে জনাব জাহিন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করলেও সকল দায়িত্ব কর্মীদের ওপর দিয়ে নিশ্চিত থাকেন এবং - তিনি নিজে প্রতিষ্ঠানে সময় দেন না। ফলে প্রতিষ্ঠান মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ে যায়। এক্ষেত্রে আর্থিক সংকট নিরসনের মাধ্যমে লাভজনক করতে জনাব জাহিনকে নেতৃত্বের ধরন পরিবর্তন করে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে। এ ধরনের নেতৃত্বের কাজ শুরুর আগেই কর্মীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। ফলে প্রতিষ্ঠানের কাজের মান বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। তাই বলা যায়, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট নিরসনে জনাব জাহিন কর্তৃক কর্মীদের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অর্থাৎ গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক।
Related Question
View Allঅধস্তনদের আদেশ দান, উপদেশ ও পরামর্শ প্রদান, তত্ত্বাবধান ও অনুসরণ কার্যকে নির্দেশনা বলে।
নির্দেশ দেওয়ার পূর্বে যারা তা বাস্তবায়ন করবে তাদের সাথে পরামর্শ করে নির্দেশনার বিষয়বস্তু ঠিক করা হলে তাকে পরামর্শমূলক নির্দেশনা বলে। গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব ব্যবস্থায় নেতা ও কর্মীদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকে। নেতৃত্ব সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকে। পরামর্শমূলক নির্দেশনায় যারা নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে তাদের সাথে পরামর্শ করে নির্দেশনার বিষয়বস্তু ঠিক ও বাস্তবায়ন করা হয় বিধায় এরূপ নির্দেশনা পদ্ধতি অনেকটা গণতান্ত্রিক।
উদ্দীপকে নির্বাহীর নেতৃত্ব ম্যাকগ্রেগরের X তত্ত্বসংশ্লিষ্ট। X তত্ত্বে ম্যাকগ্রেগর মানব প্রকৃতি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। এক্ষেত্রে মনে করা হয়, কর্মীরা উত্তরাধিকারসূত্রে কাজ অপছন্দ করে, সুযোগ থাকলে কাজে ফাঁকি দেয়। তাই তাদের নিকট থেকে কাজ আদায়ে ভীতি প্রদর্শন, চাপ প্রয়োগ ও প্রয়োজনে শান্তি দিতে হয়। উদ্দীপকে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী তার অধস্তনদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কাজ আদায়ে যচেষ্ট হন। সকল সিদ্ধান্ত নিজেই নেন। আবার অধস্তনদের কাছ থেকে শর্তহীন আনুগত্য প্রত্যাশা করেন। এখানে ম্যাকগ্রেগরের X তত্ত্বের মতো চাপ প্রয়োগ করে কাজ আদায় করতে চায়। সুতরাং উদ্দীপকে নির্বাহীর নেতৃত্ব ম্যাকগ্রেগরের X তত্ত্বসংশ্লিষ্ট।
'স্বৈরাচারী নিদের্শনায় উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে'- উক্তিটি যথার্থ। যে নির্দেশনার ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন নিজস্ব কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার বলে একাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং অধস্তনদের ওপর চাপ সৃষ্টি বা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে কাজ আদায়ে সচেষ্ট হন তাকে স্বৈরাচারী নির্দেশনা বলে। এক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন নির্দেশ প্রদানের ক্ষেত্রে অধস্তনদের মতামত বা চিন্তা- ভাবনাকে কোনো বিবেচনায় আনেন না; বরং অধস্তনদের কাছ থেকে শর্তহীন আনুগত্য প্রত্যাশ করেন। অধস্তনরা ঊর্ধ্বতনকে ভয় পায় এবং ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় হোক কাজ সম্পাদনে চেষ্টা করে। উদ্দীপকে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী তার অধস্তনদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কাজ আদায়ে সচেষ্ট হন। সকল সিদ্ধান্ত নিজেই নেন। আবার অধস্তনদের কাছ থেকে শর্তহীন আনুগত্য প্রত্যাশা করেন। কিন্তু কর্মীরা বসের নেতৃত্বকে ভালোভাবে নেয় না। তারা মানসিক কষ্ট নিয়ে কাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে কর্মীরা দুই- একজন করে চাকরি ছেড়ে দিতে থাকে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি সংকটাবস্থায়। মূলত স্বৈরাচারী নির্দেশনার কারণে কর্মীরা চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বলা যায়, 'স্বৈরাচারী নিদের্শনায় উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।'
কোনো দল বা গোষ্ঠীর আচরণ বা কাজকে যিনি বা যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়াস চালায় তাকে বা তাদেরকে নেতা বলে।
গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে সকলের অংশগ্রহণ বা মতামত প্রতিফলিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়। তাই গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব উত্তম। যে নেতৃত্বে নেতা অধস্তনদের সাথে আলোচনা ও পরামর্শ করে কার্য পরিচালনা করেন, তাকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে। গণতান্ত্রিক নেতা কর্মীদের আদেশ দেন, আদেশ বুঝিয়ে দেন, প্রশ্ন করার সুযোগ দেন এবং প্রশ্নের উত্তর দেন। ফলে কর্মীরা নেতার প্রতি আস্থাশীল হয় এবং নেতা কর্মীদের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ প্রকাশ করেন। এ নেতৃত্বে সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় বলে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বকে উত্তম নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!