ইলমুল আহকাম্' হলো বিধিবিধান সম্পর্কিত জ্ঞান।
লাইলাতুল কদর বা কদর রাত্ অত্যন্ত মর্যাদাবান ও মহিমান্বিত রাত। আল্লাহ তায়ালা এ রাতে পবিত্র কুরআন নাযিল করেন। এ রাতের ইবাদত হাজার মাস একাধারে ইবাদত করার চাইতে উত্তম। আমাদের আয়ুষ্কাল খুবই সীমিত। এ অবস্থায় এ রাতে ইবাদত করলে আমাদের নেকির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এটি আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নিয়ামতস্বরূপ। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদেরকে রহমত, বরকত ও শান্তির সওগাত দিয়ে প্রেরণ করেন। এ রাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুখ-শান্তি ও রহমত বিরাজ করতে থাকে।
জনাব তসলিমের কর্মকান্ড সূরা যিলযালের শিক্ষার পরিপন্থি।
ইসলাম
একদা একব্যক্তি একজন ফকিরকে সামান্য পরিমাণ দান করে সওয়াবের বিষয়ে জানতে চায়। তেমনই অপর এক ব্যক্তি যে কিনা খুব ছোট ছোট গুনাহ করত এবং তা থেকে নিজেকে বিরত রাখত না। এ দুই অবস্থার প্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা এ সূরাটি নাযিল করেন। তাছাড়া এ সূরার ৭ ও ৮নং আয়াতে বলা হয়েছে- কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে তা দেখবে। আবার কেউ অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করলে, তাও সে দেখতে পাবে। অর্থাৎ মানুষ দুনিয়াতে যেসব ভালো কাজ করবে তার প্রতিদান পাবে আর যেসব মন্দ কাজ করবে তারও প্রতিদানসে পাবে। আয়াত দুটির মর্মানুযায়ী মানুষ দুনিয়ার সব কাজকর্মের প্রতিফল পরকালে পাবে। তাই দুনিয়াতে মানুষের ওপর অর্পিত ইসলামের বিধিবিধান যেমন- নামায, রোযা পালন করলেও পরকালে তার পুরষ্কার পাবে।
তসলিমের ধারণাটি সঠিক নয়। কারণ সে মনে করে ছোটখাটো মন্দ' কাজের হিসাব আল্লাহ তায়ালা নিবেন না। তার এ ধারণার বিপরীত বক্তব্য সূরা যিলযালে বর্ণিত হয়েছে।
জনাব রাফির কৃত ইবাদতটি লাইলাতুল কদরের নফল ইবাদত। তার ইবাদত সম্পর্কে আব্দুল করিমের মন্তব্য যথার্থ।
রমজান মাসে পবিত্র লাইলাতুল কদরে ইবাদত করা এক হাজার মাস ইবাদত করা অপেক্ষা উত্তম। এ রাতের ইবাদত নফল। নিয়মিত ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত পালনের পাশাপাশি নফল ইবাদত পালন করলে অনেক সাওয়াব পাওয়া যায়, অন্যথায় সাওয়াব হবে না।
রাফি সারা বছর কোনো ইবাদত 'করে না। অর্থাৎ সে সারা বছর নামায, রোজা ও কোনো প্রকার তাসবিহ তাহলিল আদায় করে না। তবে রমজান মাসের কদরের রাতে সে ইবাদত করে। মূলত নামায, রোজা ফরজ ইবাদত। আর লাইলাতুল কদরের ইবাদত হলো নফল ইবাদত। নিয়মিত ফরজ বাদ দিয়ে বছরে একটিমাত্র রাতে ইবাদত করে মুক্তি পাওনা সম্ভব নয়। এজন্য তার পিতা তাকে নিজস্ব মত পরিত্যাগ করতে বলেছেন। নিয়মিত ফরজ ইবাদত পালন করে নফল ইবাদত করলে তা ফলপ্রসূ হয়। কিন্তু ফরজ ইবাদত বাদ দিয়ে নফল ইবাদতকে অগ্রাধিকার দিলে তা শরিয়তে গ্রহণযোগ্য নয়।
শরিয়তের বিধান অনুসরণ করে ইবাদত করতে হয়। এ বিষয়টি বোঝানোর জন্য রাফির বাবা আব্দুল করিম উপরিউক্ত মন্তব্য করেন, যা সার্বিক বিবেচনায় যথার্থ।
Related Question
View All'ইলমুল আহকাম্' হলো বিধিবিধান সম্পর্কিত জ্ঞান।
লাইলাতুল কদর বা কদর রাত অত্যন্ত মর্যাদাবান ও মহিমান্বিত রাত। আল্লাহ তায়ালা এ রাতে পবিত্র কুরআন নাযিল করেন। এ রাতের ইবাদত হাজার মাস একাধারে ইবাদত করার চাইতে উত্তম। আমাদের আয়ুষ্কাল খুবই সীমিত। এ অবস্থায় এ রাতে ইবাদত করলে আমাদের নেকির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এটি আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নিয়ামতস্বরূপ। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদেরকে রহমত, বরকত ও শান্তির সওগাত দিয়ে প্রেরণ করেন। এ রাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুখ-শান্তি ও রহমত বিরাজ করতে থাকে।
মুহিবের দাদা বিশ্বজগৎ ধ্বংসের তথ্য সূরা আল-যিলযালে পেয়েছেন।
সূরা যিলযালে কিয়ামত বা মহাপ্রলয়ের অভিনব বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ যখন সমগ্র দুনিয়া ধ্বংস করে দেবেন তখন সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাবে। কবর থেকে মানুষ বের হয়ে আসতে থাকবে। সমস্ত মানুষ সেই মহান দিনে নিজ নিজ কৃতকর্মের হিসাব প্রদান করতে থাকবে। প্রত্যেকে দুনিয়াতে করা তার প্রতিটি সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম পাপপুণ্যের হিসাব দিতে থাকবে এবং তা অনুযায়ী প্রতিদানস্বরূপ পুরষ্কার অথবা তিরষ্কারে ভূষিত হবে। উক্ত অবস্থার সাথে মুহিবের দাদার বক্তব্যের মিল রয়েছে। তিনি বলেছেন, "কোনো এক সময় এমন এক ভূমিকম্প সংঘটিত হবে, তখন গাছপালা খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে, পাহাড়গুলো তুলোর মতো উড়বে; সব কিছু চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।" সুতরাং বলা যায়, মুহিবের দাদা বিশ্বজগৎ ধ্বংস সংক্রান্ত তথ্য সূরা আল-যিলযালে পেয়েছেন।
মুহিবের দাদা 'মুক্তির সনদ' বলতে আল-কুরআনকে বুঝিয়েছেন। কেননা আল-কুরআনই বিশ্ববাসীকে হিদায়েতের সুপথ দেখাতে পারে।
মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সার্বিক দিক ও বিভাগের একটি সুসংহত ও সুসমন্বিত বিধান কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। এ মর্মে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- "এ হচ্ছে সমগ্র মানুষের বিধান, মুত্তাকিদের জন্য উপদেশ ও পথনির্দেশনা।" (সূরা আলে-ইমরান: ১৩৮) আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, "আমি এ কিতাবে কিছুই বর্ণনা করা বাদ রাখিনি।" (সূরা আন-আম ৩৮) অন্যত্র আল্লাহ বলেন, "হে বিশ্বমানবতা তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে এসেছে উপদেশ ও তোমাদের অন্তরে যা আছে তার প্রতিকার এবং বিশ্ববাসীদের জন্য পথনির্দেশস্বরূপ।" (সূরা ইউনুস: ৫৭) তিনি আরও
বলেন, "আমি তোমার প্রতি (হে মুহাম্মদ) এ কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা আত্মসমর্পণকারীগণের জন্য সবকিছুর বিশদ বিবরণ সুস্পষ্ট পথনির্দেশক ও সুসংবাদ।" (সূরা আন-নাহল: ৮৯) আল্লাহ তায়ালা আরও বর্ণনা করেন- "এ কিতাব এটি তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানুষদেরকে তাদের পালনকর্তা নির্দেশক্রমে বের করে নিয়ে আসতে পারে অন্ধকার থেকে আলোকময় জীবনে, তাঁর পথে যিনি পরাক্রমশালী, প্রশংসিত।" (সূরা ইবরাহিম: ১) উদ্দীপকের মুহিবের এক প্রশ্নের জবাবে তার দাদা বলেন, আমাদেরকে মুক্তির সনদ হিসেবে যে নির্ভুল গ্রন্থটি দেওয়া হয়েছে, তা অনুসরণ করা উচিত।
অতএব উক্ত আলোচনা হতে বোঝা যায়, আল-কুরআনই বিশ্বমানবতার মুক্তির সনদ। তাই এ গ্রন্থের গুরুত্ব অপরিসীম।
আবাবিল এক ধরনের ছোট ছোট পাখি। যা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে চলে।
আয়াতুল কুরসি অত্যন্ত বরকতময় আয়াত। রাসুল (স.) এ আয়াতকে সবচেয়ে উত্তম আয়াত বলে অভিহিত করেছেন। নবি (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পাঠ করে, তার জন্য বেহেশতে প্রবেশের পথে একমাত্র মৃত্যু ব্যতীত আর কোনো বাধা থাকে না। (নাসাই) অর্থাৎ মৃত্যুর সাথে সাথেই সে বেহেশতের আরাম-আয়েশ উপভোগ করতে শুরু করবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!