বিএসটিআই (Bangladesh Standards & Testing Institution) শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা।
ট্রেডমার্ক হলো পণ্যকে সহজে চিহ্নিত করার জন্য স্বতন্ত্র একটি প্রতীক।
এর মাধ্যমে মালিক নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর স্বতন্ত্র চিহ্ন ব্যবহারের একচ্ছত্রা অধিকার পেয়ে থাকে। এতে একদিকে ক্রেতা-ভোক্তাদের কাছে তার পণ্যের পরিচিতি বাড়ে। আবার, অসাধু ব্যবসায়ীদের জালিয়াতি এর মাধ্যমে রোধ করা যায়। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই এর সুফল লাভ করে।
জনাব তাহসানের নতুন ধানের বীজ আবিষ্কার কাজটি মেধাসম্পদের অন্তর্গত।
সৃজনশীল ব্যক্তি তার মেধা ও মননশীলতা প্রয়োগ করে মেধাসম্পদ সৃষ্টি করেন। এ ধরনের সম্পদ সৃষ্টির জন্য ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন গবেষণা ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। ব্যবসায়, শিল্প ও বাণিজ্যে প্রয়োগ উপযোগী আবিষ্কার, সাহিত্য ও শিল্পকর্ম, নকশা, প্রতীক প্রভৃতি মেধাসম্পদের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকের জনাব তাহসান দীর্ঘদিন গবেষণা করে নতুন এক ধরনের ধানবীজ উদ্ভাবন করেন। এই বীজ থেকে অনেক কম সময়ে ধান উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে জনাব তাহসান গবেষণা কাজটির জন্য মানসিক শ্রম দিয়েছেন। তিনি তার মেধার যথাযথ ব্যবহার করেছেন। তার দীর্ঘ সাধনা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি ধানবীজটি আবিষ্কার করতে পেরেছেন। এভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক কোনো কিছু উদ্ভাবন মেধাসম্পদের অন্তর্গত। তাই বলা যায়, আবিষ্কৃত নতুন ধানবীজটি জনাব তাহসানের একটি মেধাসম্পদ।
পেটেন্ট চুক্তি না থাকার কারণে জনাব তাহসান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে আমি মনে করি।
নতুন আবিষ্কৃত পণ্যের ওপর একক অধিকার লাভের জন্য পেটেন্ট করা হয়। এক্ষেত্রে সরকারের সাথে আবিষ্কারকের চুক্তি হয়। এই চুক্তি না থাকলে আবিষ্কারকের উদ্ভাবিত পণ্য অন্য কেউ নকল করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।
উদ্দীপকের জনাব তাহসান দীর্ঘদিন গবেষণা করে এক ধরনের নতুন ধানের বীজ উদ্ভাবন করেন। এ বীজ থেকে অনেক কম সময়ে ধান উৎপন্ন হয়। সম্প্রতি একটি অসাধু প্রতিষ্ঠান জনাব তাহসানের উদ্ভাবিত বীজের অনুরূপ বীজ বাজারজাত করছে। কিন্তু যথাযথ প্রমাণের অভাবে তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।
জনাব তাহসান প্রকৃত উদ্ভাবক হিসেবে সরকারের সাথে পেটেন্ট চুক্তি করেননি। এ চুক্তি করলে অন্য কেউ এরূপ বীজ উদ্ভাবন বা নকল করতে পারতো না। আর নকল করলেও আদালতের মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায় করা যেত। পেটেন্ট চুক্তি না করার সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু প্রতিষ্ঠান তার উদ্ভাবিত ধানের বীজ নকল করেছে। তাই বলা যায়,
পেটেন্ট চুক্তির অভাবে জনাব তাহসান অসাধু প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেননি।
Related Question
View Allবর্তমানে বাংলাদেশে ২০০৯ সালের ট্রেডমার্কস আইন চালু আছে।
লেখক বা শিল্পীর সৃজনশীল সাহিত্য বা শিল্পকর্ম নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিক্রি, উন্নয়ন ও ব্যবহারের একক আইনগত অধিকারকে কপিরাইট বলে।
এর উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টিকর্ম নকল থেকে রক্ষা করে প্রকৃত লেখক, শিল্পী বা স্বত্বাধিকারীর স্বার্থের সুরক্ষা করা। কপিরাইট আইন অনুযায়ী একজন লেখক বা শিল্পী তার সৃষ্ট কাজের ওপর পূর্ণ অধিকার লাভ করেন। সাধারণত বই, প্রবন্ধ, নৃত্য, সংগীত, চিত্র, চলচ্চিত্র প্রভৃতি কপিরাইট আইনের আওতাভুক্ত।
উদ্দীপকের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়টি ফ্রানসাইজিং (Franchising) ব্যবসায়ের অন্তর্ভুক্ত।
এর মাধ্যমে কোনো খ্যাতনামা কোম্পানির নাম ব্যবহার করে পণ্য তৈরি ও বিক্রি করার অধিকার পাওয়া যায়। এরূপ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে মূল প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নিতে হয়। অনুমতির বিনিময়ে মূল প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট হারে ফি পেয়ে থাকে। কেএফসি, পিজ্জাহাট, ব্যান্ড বকস কোম্পানি ফ্রানসাইজিং ব্যবসায়ের উদাহরণ।
উদ্দীপকের ইসমাম ঢাকায় বেড়াতে এসে তার মামাতো ভাইয়ের সাথে চিড়িয়াখানা, নভোথিয়েটার, জাতীয় জাদুঘরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় এলাকায় ঘোরাফেরা করে। তারা সব জায়গায় একই নামের একটি রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া করে। এই রেস্টুটেন্টটি বিদেশি। কিন্তু এ দেশেও একই নামে এর অনেক শাখা আছে। মূল রেস্টুরেন্টের নাম ব্যবহারের অনুমতি নিয়েই ব্যবসায়ীরা এদেশে শাখা খুলেছে। সব শাখায় একই ধরনের খাবার ও সেবা দেওয়া হয়। এজন্য শাখাগুলো বিক্রীত পণ্যের ওপর নির্দিষ্ট হারে ফি মূল প্রতিষ্ঠানকে দেয়। এসব বৈশিষ্ট্য ফ্রানসাইজিং ব্যবসায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়টি ফ্রানসাইজিং ব্যবসায়ের আওতাভুক্ত।
উদ্দীপকে বর্ণিত ফ্রানসাইজিং ব্যবসায়ের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে আমি মনে করি।
ফ্রানসাইজিং হলো একটি চুক্তিভিত্তিক ব্যবসায়। এখানে দুটি পক্ষের (ফ্রানসাইজর ও ফ্রানসাইজি) মধ্যে চুক্তি হয়। এ ধরনের ব্যবসায়ে সাধারণত ব্রান্ডেড পণ্য বা সেবা বিক্রি করা হয়।
ফ্রানসাইজিং ব্যবসায়ে স্বনামধন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নামেই পণ্য বিক্রি করা হয়। তাই এ ব্যবসায়ে সাফল্য লাভের সুযোগ বেশি থাকে। তারপরও আমাদের দেশে এ জাতীয় ব্যবসায়ের খুব একটা প্রসার ঘটেনি।
ফ্রানসাইজিং ব্যবসায়ের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য দুই পক্ষকেই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ফ্রানসাইজরের (মূল প্রতিষ্ঠান) সুনাম যাতে ক্ষুণ্ণ না হয় সেদিকে ফ্রানসাইজিকে (অনুমোদন গ্রহণকারী) বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। এজন্য কোনো অবস্থাতেই পণ্য ও সেবার বিকৃতি ঘটানো যাবে না। পণ্যের সঠিক মান বজায় রাখতে হবে। দুই পক্ষকেই চুক্তির শর্ত যথাসম্ভব নমনীয় রাখতে হবে। তাছাড়া যথাযথ প্রচারের ব্যবস্থাও করতে হবে। এভাবেই এদেশে ফ্রানসাইজিং ব্যবসায়ের জনপ্রিয়তা বাড়ানো যাবে বলে আমি মনে করি।
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ন্যূনতম প্রবর্তক দুইজন।
যেকোনো ব্যবসায় শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অনুমোদন নেওয়াই হলো লাইসেন্স।
লাইসেন্সকে অনুমোদনপত্র বলা হয়। কোনো ব্যবসায় স্থাপন ও পণ্য বিক্রয়ের বৈধ অধিকারের জন্য উদ্যোক্তাকে লাইসেন্স নিতে হয়। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে তা আবার নবায়ন করা হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
