স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সরকার হলো এমন এক ধরনের সরকারব্যবস্থা, যা ছোট ছোট এলাকায় স্থানীয় প্রয়োজন মেটাবার জন্য জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত ও আইনের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থা।
পরিবার, সমাজ ও জাতীয় ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ, মতামত প্রকাশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাই নারীর ক্ষমতায়ন।
অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ সব ক্ষেত্রে নারী- পুরুষের অধিকারের সমতা প্রতিষ্ঠাই নারীর ক্ষমতায়নকে নির্দেশ করে। বস্তুত নারী সমাজ যখন সব ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে তখনই নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে বলে মনে করা হয়।
জনাব তৈয়বের সংস্থাটি বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদের অনুরূপ।
ইউনিয়ন পরিষদ এ দেশের সবচেয়ে প্রাচীন স্থানীয় প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে গড়ে ১০-১৫টি গ্রাম নিয়ে একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত। এটি ১ জন চেয়ারম্যান, ৯ জন সাধারণ সদস্য ও ৩ জন মহিলা (সংরক্ষিত) সদস্য নিয়ে গঠিত। এরা প্রত্যেকেই জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় পর্যায়ে সব সমস্যার সমাধান, রাস্তাঘাট ও কালভার্ট নির্মাণ; কৃষির উন্নয়নে উন্নতমানের বীজ ও সার সরবরাহ এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কমিউনিটি দাতব্য হাসপাতাল নির্মাণসহ নানাবিধ জনকল্যাণমূলক কাজ করে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যকাল ৫ বছর।
উদ্দীপকের জনাব তৈয়ব ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি। তার সংস্থায় আরও ৯ জন সাধারণ সদস্য ও ৩ জন নারী সদস্য রয়েছেন। তিনি এলাকার উন্নয়নে ভাঙা রাস্তায় কালভার্ট নির্মাণ ও কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের বীজ ও সার সরবরাহ করেন। জনাব তৈয়বের সংস্থার গঠন ও কার্যাবলি ইউনিয়ন পরিষদের অনুরূপ। তাই বলা যায়, জনাব তৈয়বের সংস্থাটি বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদকেই প্রতিফলিত করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত কাজগুলো জনাব তৈয়বের সংস্থা অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদের জন্য যথেষ্ট নয়।
ইউনিয়ন পরিষদ বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার পরিচালনায় সর্বনিম্ন স্তর। ইউনিয়ন পরিষদ পাঁচশালা ও বিভিন্ন মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি।
করে। শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে। মহামারী নিয়ন্ত্রণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ ও কর, ফি, টোল ইত্যাদি ধার্যকরণ ও আদায় করে। পরিবেশ উন্নয়ন ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খেলাধুলা, সামাজিক উন্নয়ন, সংস্কৃতি ইত্যাদি কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও সহযোগিতা করে। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধীকরণ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের অর্পিত দায়িত্ব পালন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করে।
উদ্দীপকের জনাব তৈয়ব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রনিতিধি হিসেবে এলাকার উন্নয়নে ভাঙা রাস্তায় কালভার্ট নির্মাণ, উন্নতমানের বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু উল্লিখিত আলোচনায় বোঝা যায়, এসব কাজ ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের আরও অনেক, কাজ রয়েছে যেগুলো জনাব তৈয়ব সম্পাদন করেন না।
উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, ইউনিয়ন পরিষদের হিসেবে জনাব তৈয়ব কিছু কাজ করলেও অনেক কাজই তিনি সম্পাদন করেন না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত কাজগুলো জনাব তৈয়বের সংস্থা তথা ইউনিয়ন পরিষদের জন্য যথেষ্ট নয়।
Related Question
View Allবাংলাদেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনগুলো হলো ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও বগুড়া। দেশের সর্বশেষ ১৩তম সিটি কর্পোরেশন বগুড়া।
পাঠাগার স্থাপন পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজ।
পৌরসভা নানারকম উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকে। পাঠাগার স্থাপন তার মধ্যে অন্যতম। এটি পৌরসভার শিক্ষাসংক্রান্ত কাজের অন্তর্গত। পৌর এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য পৌরসভা পাঠাগার স্থাপন করে।
জনাব রমিজ আলীর কাজগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো তার এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষা করা।
পৌরসভার মেয়র হিসেবে জনাব রমিজ আলী মনে করেন, মহল্লার মোড়ে মোড়ে ডাস্টবিন স্থাপন করলে এলাকার লোকজন তাতে ময়লা-আবর্জনা ফেলবে। এতে পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকবে এবং জনগণ বিভিন্ন রকম রোগ থেকে রক্ষা পাবে। নর্দমা ও পুকুর পরিষ্কার করে মশার ওষুধ ছিটালে মশার বংশ ধ্বংস হবে। এতে এলাকাবাসী ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ইত্যাদি রোগ থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়া মাতৃসদনে বিনামূল্যে শিশু ও প্রসূতি মায়েরা সেবা লাভ করলে তারা সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। অকালে কোনো শিশু মারা যাবে না। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো মায়ের মৃত্যু হবে না। মা ও শিশুর জীবন নিরাপদ ও সুন্দর হবে।
উদ্দীপকে জনাব রমিজ আলী পৌরসভার একজন মেয়র। কেননা উপজেলা শহরের স্থানীয় সরকার হলো পৌরসভা। আর পৌরসভার প্রধান হলেন মেয়র। একজন মেয়র হিসেবে জনাব রমিজ আলী তার এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষার উদ্দেশ্যেই অনুচ্ছেদে উল্লেখিত কাজগুলো সম্পাদন করেছেন।
অনুচ্ছেদে উল্লেখিত পৌরসভার প্রধান জনাব রমিজ আলীর কাজগুলো তার এলাকার উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়।
পৌরসভা প্রধান জনাব রমিজ আলীর সম্পাদিত কাজগুলো হলো মহল্লার মোড়ে মোড়ে ডাস্টবিন নির্মাণ, নর্দমা ও পুকুর পরিষ্কার করে মশার ওষুধ ছিটানো, মাতৃসদন স্থাপন করে বিনামূল্যে শিশু ও প্রসূতি মায়েদের সেবা প্রদান প্রভৃতি। রমিজ আলীর এলাকার উন্নয়নের জন্য উক্ত কাজগুলো ছাড়াও আরও কাজের প্রয়োজন।
জনাব রমিজ আলীর পৌর এলাকার উন্নয়নের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রয়োজন। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য অনুদান প্রদান, হোস্টেল নির্মাণ, মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, পাঠাগার স্থাপন প্রভৃতি কাজ রমজান আলীর সম্পাদন করতে হবে। পৌর এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও জনগণের বিনোদনের জন্য উদ্যান নির্মাণ, মিলনায়তন স্থাপন করতে হবে। আবার পৌর এলাকার জনগণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য নৈশপ্রহরী নিয়োগ করতে হবে। এছাড়া সুপরিকল্পিত শহর গড়া এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য পৌরসভায় মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিকল্পিত শহর গড়ার জন্য বাড়িঘর নির্মাণের অনুমতি প্রদানসহ অননুমোদিত ও বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দিতে হবে। এছাড়া পৌরসভায় প্রধান জনাব রমজান আলীকে পৌর এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার জন্য সন্ত্রাস দমনসহ শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক শহর গড়ার ক্ষেত্রে পৌরসভার উল্লিখিত কাজগুলোর বাস্তবায়ন জরুরি।
১৯৯৭ সালে প্রণীত আইনে ইউনিয়ন পরিষদে ১৩,৪৫২টি নারী সদস্যপদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
পরিবার, সমাজ ও জাতীয় ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ, মতামত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাই নারীর ক্ষমতায়ন।
অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অধিকারের সমতা প্রতিষ্ঠাই নারীর ক্ষমতায়নকে নির্দেশ করে। যেমন- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী হলেন নারী। এছাড়াও নারীরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন সবক্ষেত্রে নির্বাচনে জয়লাভ করে সমাজ ও রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!