সমাজ সংস্কার হলো সামাজিক কুসংস্কার ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সামাজিক পরিবর্তন।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ হলো এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে সমাজে আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ মূলত কতকগুলো আদর্শ, মূল্যবোধ ও রীতিনীতির সমষ্টি, যা মানুষকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পরিচালিত করে। মূলত মানুষের মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রতকরণ এবং খারাপ আচরণ থেকে তাদেরকে দূরে রাখার বিষয়টি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের দ্বারা পরিচালিত হয়।
উদ্দীপকে অন্যতম সনাতন সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান এতিমখানার কথা বলা হয়েছে।
এতিম বলতে পিতামাতা হারা শিশু-কিশোরদের বোঝায়। পিতৃমাতৃহীন এবং নির্ভরশীল দুস্থ, অসহায় শিশুদের যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লালনপালন, ভরণপোষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং তাদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয় তাকেই এতিমখানা বলে। উদ্দীপকে এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব তৌহিদ একজন আইনজীবী। তিনি যেখানে বড় হয়েছেন সেখানেও পিতৃমাতৃহীন এবং নির্ভরশীল দুষ্প শিশুদের সার্বিক ভরণপোষণ এবং উপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানটি নিরলস পরিশ্রম করে এসব শিশুদেরকে উপযুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে এবং বাস্তব জীবনে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। তার এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এতিমখানার কার্যক্রমেরই অনুরূপ। সুতরাং এটি সনাতন সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান এতিমখানাকেই নির্দেশ করে।
কেবল শিক্ষা ব্যবস্থাই উদ্দীপকে উল্লিখিত ছেলেমেয়েদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনেনি। বরং শিক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াও সনাতন সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এতিমখানার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি দুস্থ ও অসহায় শিশুদের স্বাভাবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।
এতিম ও অসহায় শিশুদের অধিকার প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে সুনাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এতিমখানা বহুমুখী কার্যাবলি সম্পন্ন করে। চরম অনিরাপত্তায় ভোগা শিশুদের রাস্তা থেকে তুলে এনে এতিমখানা তাদেরকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এ স্বীকৃতিবোধই এসব শিশুদের মধ্যে দায়িত্ব কর্তব্যের অনুভূতি সৃষ্টি করে, তাদেরকে আদর্শ নাগরিক হতে উদ্বুদ্ধ করে। তাছাড়া শিশুদের শিক্ষা চাহিদা ছাড়াও অন্যান্য চাহিদা; যেমন- খাদ্য, বিনোদন, বস্তু, বাসস্থান প্রভৃতির ব্যবস্থা করে এতিমখানা। এ চাহিদাগুলো পূরণের মাধ্যমে এতিমখানা শিশুদের সভ্য ও আন্তরিকতা সম্পন্ন নাগরিক হওয়ার শিক্ষা দান করে। শিশুদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এতিমখানা নানা ধরনের আয়বর্ধনমূলক কাজে তাদের নিয়োজিত করে। ফলে শিশুরা মাথা উঁচু করে সমাজে টিকে থাকার শিক্ষা পায়।
পরিশেষে বলা যায়, শুধু শিক্ষা ব্যবস্থাই নয়; প্রাকৃতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি নানা ধরনের কর্মসূচি এতিমখানার শিশুদের স্বাভাবিক জীবন দান করে।
Related Question
View Allসমাজকর্মের বিকাশের ধারা দুই ভাগে বিভক্ত।
আপদকালীন সময়ে আর্তদের বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করার ব্যবস্থার নাম লঙ্গরখানা।
লজ্জার শব্দটি ফার্সি শব্দ। এর অর্থ সমাজের দুস্থ ও নিঃস্বদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। সমাজের যেকোনো শ্রেণির মানুষের জন্যই লঙ্গরখানার খাবারের ব্যবস্থা উন্মুক্ত থাকে।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত নারীকল্যাণ সাধন, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার কথা বলা হয়েছে।
সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নারীদের উন্নয়ন সাধন, সমাজে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বার্থ সংরক্ষণ করা। এ লক্ষ্যে সমাজকর্ম কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। পাশাপাশি মেয়েদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়। সমাজে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণেও সমাজকর্ম বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম বিভিন্ন সামাজিক আইনের প্রয়োগ করে। আবার, সমাজে উদ্ভূত বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন- জনসংখ্যা সমস্যা, বেকারত্ব, কিশোর অপরাধ, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুকপ্রথা, মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস প্রভৃতি সমস্যা সমাধানেও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
উদ্দীপকে স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের সদস্যরা কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য অধিকার ও সেবা সহজলভ্য করা, দক্ষতা বৃদ্ধি, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ, যৌতুক প্রথার অবসান প্রভৃতিনিয়ে কাজ করে। আর এ কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধিভুত্ব নারীকল্যাণ সাধন, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সমস্যা দূরীকরণের অন্তর্ভুক্ত।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সামাজিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিস্ট।
সমাজের বিভিন্ন প্রথা, প্রতিষ্ঠান, রীতিনীতি, আইন, সামাজিক মূল্যবোধ ও আদর্শ যেগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর সেগুলো দূর করার জন্য জনগণের সুসংগঠিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টাকে সামাজিক আন্দোলন বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণের সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ যৌতুক প্রভৃতি দূর করতে জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা হলো সামাজিক আন্দোলন। উদ্দীপকের স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ডেও তাই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও তাদের জীবনমানের উন্নয়নের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। সেই সাথে সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ, যৌন নিপীড়ন ও যৌতুক প্রথা প্রভৃতি সমস্যা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ থেকে এগুলো দূর করতে ভূমিকা পালন করছে। কারণ এই সমস্যাগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর আর এগুলো দূর করার জন্য জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। আর সমাজের জন্য ক্ষতিকর রীতিনীতি দূর করতে জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হলো সামাজিক আন্দোলন। স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে সুসংগঠিত করে এসব সমস্যা দূর করতে কাজ করছে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সামাজিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট।
সমাজকর্ম পেশাগত সম্পর্ক স্থাপনে বিশ্বাসী।
সমাজকর্মের পরিধি বলতে মূলত এর ব্যবহারিক দিকের প্রয়োগক্ষেত্র বা প্রয়োগ উপযোগিতাকে বোঝানো হয়।
সমাজকলা পূর্ববজেতাদের অশ্রণির জনগণের সামাজিক সমস্যা মোকাবিলাপূর্বক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সম্ভাব্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে প্রচেষ্টা চালায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে গোটা সমাজই সমাজকর্মের পরিধি বা ক্ষেত্রের আওতাভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!