উদ্দেশ্যের ঐক্য নীতি হলো প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের আলোকে বিভিন্ন বিভাগ ও উপবিভাগের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নির্দিস্ট করা।
প্রতিটা ব্যক্তি, দল ও উপদল, বিভাগ ও উপবিভাগ যার যার মতো না চলে দলীয় সমঝোতা অনুযায়ী বা মিলে-মিশে চলার নীতিকেই দলীয় সমঝোতার নীতি বলে।
সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দলীয় সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দল ও উপদলের প্রতিটা সদস্য যদি উপলব্ধি করতে পারে যে, কোনো একক ব্যক্তি বা দলের পক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় এবং সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমেই তা অর্জন সম্ভব- তবে সবাই সম্মিলিত প্রয়াসে লিপ্ত হয়। অর্থাৎ এরূপ নীতি সমন্বয়ে সহায়তা করে।
মধুমতি টেক্সটাইলে বদলির ক্ষেত্রে সমন্বয়ের কার্যসমূহের ভারসাম্যের নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে।
বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের কাজে সমতা বিধানের নীতিকেই ভারসাম্যের নীতি বলে। প্রতিটা বিভাগ ও উপবিভাগের কাজে যদি ভারসাম্য স্থাপন করা যায় তবে সমন্বয় অনেক সহজ হয়। প্রত্যেক ব্যক্তি ও বিভাগের কাজ যদি পরিমিত হয় তবে কারও দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার আবার কারও পিছিয়ে পড়ার সুযোগ থাকে না। ফলে সবাই সমান তালে অগ্রসর হতে পারে। এজন্য কোনো বিভাগ যেনো কখনই কর্মভারগ্রস্ত না হয়ে সেদিকে নজর দেওয়া আবশ্যক। প্রয়োজনে সেখানে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ বা বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে কাজে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
উদ্দীপকে মধুমতি টেক্সটাইল মিলের মানবসম্পদ বিভাগ কোনো কিছু বিবেচনা না করে গণবদলি করে। অথচ প্রতিষ্ঠানে একটি বিভাগের পরিবর্তন অন্য বিভাগের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এতে বিভিন্ন বিভাগে কর্মীসংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। ফলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন হ্রাস পায়। সুতরাং উদ্দীপকে মধুমতি টেক্সটাইলে বদলির ক্ষেত্রে সমন্বয়ের কার্যসমূহের ভারসাম্যের নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের প্রচেষ্টাবলিকে একসূত্রে গ্রথিত, সংযুক্ত ও সুসংহত করার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় বলে। সুষ্ঠু সমন্বিত ব্যবস্থা একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জন ত্বরান্বিত করে।
যেকোনো দলবদ্ধ প্রচেষ্টায় সমন্বয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি সংগঠনের কতিপয় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকে। এরূপ উদ্দেশ্যাবলি অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ ও উপবিভাগ কাজ করে। এরূপ কাজ যদি সমন্বিত না হয়, প্রত্যেকেই যদি যার যার খেয়াল-খুশিমতো কাজ করে তবে কখনই সেই উদ্দেশ্যগুলো অর্জিত হতে পারে না। তাই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সুশৃঙ্খল দলীয় প্রচেষ্টা ও সকল কার্যের যুক্তিযুক্ত সমন্বয়সাধন ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
উদ্দীপকে মধুমতি টেক্সটাইল মিলের মানবসম্পদ বিভাগ কোনোকিছু বিবেচনা না করে গণবদলি করে। অথচ প্রতিষ্ঠানে একটি বিভাগের পরিবর্তন অন্য বিভাগের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এতে বিভিন্ন বিভাগে কর্মীসংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। ফলে দক্ষ ও অদক্ষ কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। কয়েক মাসের মধ্যে উৎপাদন হ্রাস পায়। মূলত প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু সমন্বিত ব্যবস্থার অভাব ছিল, তাই উৎপাদন হ্রাস পায়। সুতরাং উদ্দীপকে সুষ্ঠু সমন্বিত ব্যবস্থার অভাবই মধুমতি টেক্সটাইলের উৎপাদনের অন্তরায়- কথাটি যথার্থ।
Related Question
View Allপূর্বনির্ধারিত ফল লাভের উদ্দেশ্যে যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, তাকে লক্ষ্য বলে।
উদ্দেশ্যের ঐক্য নীতি হলো প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের আলোকে বিভিন্ন বিভাগ ও উপবিভাগের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করা।
উদ্দেশ্যের ঐক্য নীতিতে মূল লক্ষ্যের আলোকে উপবিভাগীয় পর্যায়ে উদ্দেশ্য নিরূপিত হয় এবং সেই সাথে সমান্তরাল বিভাগ ও উপরিভাগের উদ্দেশ্যে একে অপরের সাথে সমন্বিত হয়। এভাবে বিভাগ এবং সার্বিকভাবে প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য অর্জনে সমন্বিত প্রয়াস তৈরি হয়। তাই কার্যকর সমন্বয়ে উদ্দেশ্যের ঐক্য স্থাপন জরুরি।
উদ্দীপকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ফেওলের বিকেন্দ্রীকরণের নীতি অনুসৃত হয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিচের পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলে তাকে বিকেন্দ্রীকরণ বলে।
উদ্দীপকের সিলভার এন্টারপ্রাইজের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা পর্যায়ক্রয়ে ব্যবস্থাপনার নিচের স্তরে প্রদান করেন। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপকরা নিয়ে থাকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ভার পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থাপনার নিচের স্তরে প্রদান করে। সুতরাং উদ্দীপকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ফেওলের বিকেন্দ্রীকরণের নীতি অনুসৃত হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের প্রচেষ্টাবলিতে একসাথে গ্রথিত, সংযুক্ত ও সুসংহত করার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় বলে।
সুষ্ঠু সমন্বয় ছাড়া বর্তমানকালে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই বৃহদায়তন উৎপাদন সম্ভব নয়। কারণ সমন্বয় প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের কাজের মধ্যে সেতুবন্ধ সৃষ্টি করে- যার ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মপ্রয়াস স্বাচ্ছন্দ্যে একক লক্ষ্যপানে ধাবিত হয় এবং লক্ষ্যার্জন নিশ্চিত করে।
উদ্দীপকের সিলভার এন্টারপ্রাইজের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থাপনার নিচের স্তরে প্রদান করেন। আবার প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের কর্মীর কার্যসম্পাদনে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য তিনি একে অন্যের সাথে যোগসূত্র স্থাপনে সহায়তা করেন। ফলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হয়। মূলত প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু সমন্বয় ব্যবস্থার ফলে সকল স্তরের কর্মীর মধ্যে যোগসূত্র তৈরি হয়েছে, যা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ সহজ করেছে। তাই বলা যায়, সুষ্ঠু সমন্বয় ব্যবস্থা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের প্রচেষ্টাবলিকে একসাথে গ্রথিত, সংযুক্ত ও সুসংহত করার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় বলে।
চিন্তা, কাজ ও পদ্ধতিতে প্রয়োজনে পরিবর্তন এনে প্রচেষ্টাকে চিন্তা, লক্ষ্যাভিমুখী করার নীতিকেই নমনীয়তার নীতি বলে।
সমন্বয় কার্যকে ফলদায়ক করার জন্য এ কাজে প্রয়োজনীয় নমনীয়তার সুযোগ থাকা উচিত। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সমন্বয় কৌশল পরিবর্তন করতে হতে পারে। তাই প্রয়োজনে যাতে সমন্বয়ের পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করা যায়, সেদিকে নজর দেওয়া আবশ্যক। প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিক নিয়মনীতিকে এড়িয়ে যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের সাথে দ্রুত সমন্বয়সাধন করতে পারে তার ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!