সরকারের অনুমতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইস্যু করা কাগজী মুদ্রা বা নোটকে ব্যাংক নোট বলে। বর্তমানে বাংলাদেশে দশ টাকা, বিশ টাকা, পঞ্চাশ টাকা, একশত টাকা, পাঁচশত টাকা এবং এক হাজার টাকার নোট হচ্ছে ব্যাংক নোট।
বৈদেশিক বিনিময় হারের উঠা-নামা বা পরিবর্তনের জন্য যে সব কারণ দায়ী তার মধ্যে একটি হলো শেয়ার বাজারের প্রভাব।
বর্তমানে প্রতিটি শেয়ার বাজারে বিদেশি গ্রাহকদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। বিদেশিরা যদি দেশীয় শেয়ার বাজারে বেশি পরিমাণ শেয়ার কিনে তবে দেশে-বিদেশি মুদ্রার আগমন বাড়ে। আবার শেয়ার বাজার থেকে তারা পুঁজি তুলে নিলে বিরূপ প্রভাব পড়ে। সর্বাবস্থায় বিনিময় হারে পরিবর্তন আসে। অর্থাৎ শেয়ার বাজারে অধিক লেনদেন ও বৈদেশিক কোম্পানির উপস্থিতি এর চাঙাভাব এবং কম লেনদেন মন্দাভাব প্রকাশ করে। এর ফলে বিনিময় হার প্রভাবিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দলিলটি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আবশ্যকীয় শর্তগুলো হলো-অর্থের পরিমাণ, অর্থ পরিশোধের তারিখ, পরিশোধকারীর নাম, প্রস্তুতকারীর স্বাক্ষর ও তারিখ ইত্যাদি উল্লেখ করা।
হস্তান্তরযোগ্য দলিলের আবশ্যকীয় শর্তাবলি বলতে সেই সব শর্তকে বোঝায়, যা পালন করা অপরিহার্য। এক্ষেত্রে কোনো একটি শর্ত মানা না হলে হস্তান্তর অবৈধ বলে গণ্য হবে।
উদ্দীপকে জনাব ফারুক মি. রিচার্ডের কাছ থেকে তিন কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেন। পণ্যের বিপরীতে তিনি একটি দলিল পাঠান। মি. রিচার্ড এই দলিলের পেছনে স্বাক্ষর করে তার পাওনাদার মি. জর্জকে দেন। অর্থাৎ জনাব ফারুক একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল ইস্যু করেছেন। এ দলিলে তাকে অবশ্যই স্বাক্ষর করতে হয়েছে। এতে দলিলটি প্রস্তুতের তারিখ, অর্থ পরিশোধের তারিখ উল্লেখ করতে হয়েছে। আবার, মি. রিচার্ড যখন এটি তার পাওনাদারকে হস্তান্তর করেছেন তখনও তাকে স্বাক্ষর দিয়ে হস্তান্তর করতে হয়েছে। এক্ষেত্রে হস্তান্তরযোগ্য দলিলের সব শর্ত মেনে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বিনিময় হার নির্ধারণে চাহিদা ও যোগান তত্ত্বটির কথা বলা হয়েছে।
চাহিদা ও যোগান তত্ত্ব অনুযায়ী, দু'দেশের মুদ্রার বিনিময় হার তাদের মুদ্রার পারস্পরিক চাহিদা ও যোগান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও যোগান যে পর্যায়ে সমপরিমাণ হয় সেখানে বিনিময় হার নির্ধারিত হয়। এ তত্ত্বকে বিনিময় হার নির্ধারণের আধুনিক তত্ত্বও বলা হয়।
উদ্দীপকে জনাব ফারুক মি. রিচার্ডের কাছ থেকে তিন কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেন। তিনি মূলত হস্তান্তরযোগ্য দলিলের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। কিন্তু বিনিময় হার নির্ধারণে ব্যবহৃত তত্ত্বটি অবাধ বাণিজ্যের ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দেনা-পাওনা দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিপত্তি দেখা দিয়েছে। এখানে, বিনিময় বিলের লিখিত মূল্য দ্বারা মি. রিচার্ড তার দেনা পরিশোধ করতে পারবে কিনা তা অনিশ্চিত। কেননা অবাধ বাণিজ্যের মাধ্যমে নির্ধারিত বিনিময় হার সবসময় পরিবর্তনশীল। এক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়লে এবং যোগান কমলে দেশীয় মুদ্রার মান বাড়ে। অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা কমলে এবং যোগান বাড়লে দেশীয় মুদ্রার মান কমে। এসব বিষয় বিবেচনা করে বলা যায়, এখানে বিনিময় হার নির্ধারণের চাহিদা ও যোগান তত্ত্বের কথা বলা হয়েছে।
Related Question
View Allবিদেশে কর্মরত শ্রমিক-কর্মী বিদেশ থেকে দেশে যে অর্থ পাঠায় তাকে রেমিটেন্স বলে।
কোনো প্রত্যয়পত্র জামানত হিসেবে জমা রেখে ব্যাংক যে নতুন প্রত্যয়পত্র ইস্যু করে তাকে ব্যাক টু ব্যাক প্রত্যয়পত্র বলা হয়।
এটি একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল। এ ধরনের প্রত্যয়পত্রে গ্রহীতা জামানত হিসেবে আরেকটি প্রত্যয়পত্র জমা রাখে। তবে কোনো নগদ টাকা জমা রাখতে হয় না। এ ধরনের প্রত্যয়পত্র বেশি জনপ্রিয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যাংক দলিলযুক্ত প্রত্যয়পত্র ইস্যু করে।
যে প্রত্যয়পত্রে রপ্তানিকারককে মালের চালানি রসিদ, বহনপত্র, বিমাপত্র ইত্যাদি সংযুক্ত করে বিল উপস্থাপন করা হয় তা-ই দলিলযুক্ত প্রত্যয়পত্র। এসব দলিল যুক্ত না থাকলে বিলে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। এটি আমদানিকারকের পক্ষে এবং রপ্তানিকারকের অনুকূলে ব্যাংক ইস্যু করে থাকে।
উদ্দীপকে জনাব মামুন একজন রপ্তানিকারক। তিনি আমেরিকার একজন আমদানিকারকের কাছ থেকে ১,০০০ পিস শার্টের অর্ডার পেয়েছেন। ব্যাংক ক্রেতার পক্ষে ও মামুনের অনুকূলে একটি দলিল ইস্যু করে। দলিলের শর্ত ছিল বিল উপস্থাপনের সময় মালের চালানি রসিদ, বহনপত্র ও বিমাপত্র সংযুক্ত করতে হবে। উদ্দীপকে বর্ণিত দলিলটির সাথে 'দলিলযুক্ত প্রত্যয়পত্রের' বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ মিলে যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের দলিলটি একটি দলিলযুক্ত প্রত্যয়পত্র ছিল।
পণ্যের মূল্য গ্রহণে জনাব মামুনের ক্রয়ক্ষমতার সমতা তত্ত্ব থেকে চাহিদা ও যোগান তত্ত্ব সমর্থন করা সম্পূর্ণ যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
বিনিময়ের হার নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। ক্রয়ক্ষমতার সমতা তত্ত্বে পণ্যের ক্রয়ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়। আবার চাহিদা ও যোগান তত্ত্বে দুটি দেশের বিনিময় হার তাদের মুদ্রার পারস্পরিক চাহিদা ও যোগানের ওপর নির্ভর করে।
উদ্দীপকে জনাব মামুন আমেরিকার একজন ক্রেতার কাছ থেকে শার্টের ক্রয়াদেশ পান। তিনি ডলারের সাথে টাকার ক্রয়ক্ষমতার হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে পণ্যের মূল্য পরিশোধকে পছন্দ করেন না। বরং মূল্য পরিশোধে মুদ্রার চাহিদা ও যোগানের পরিমাণ হিসাবের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য গ্রহণে আগ্রহী। এক্ষেত্রে জনাব মামুন ক্রয়ক্ষমতা তত্ত্ব থেকে চাহিদা ও যোগান তত্ত্বকে বেশি প্রাধান্য দেন।
চাহিদা ও যোগান তত্ত্ব মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণের সবচেয়ে আধুনিক তত্ত্ব। এ পদ্ধতিতে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান পণ্যের আমদানি-রপ্তানিকে বিবেচনা করা হয়। ফলে লেনদেনে ভারসাম্য থাকে। তাছাড়া সারা বিশ্বে এটি বিনিময় হার নির্ধারণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত। তাই বলা যায়, পণ্যের মূল্য গ্রহণে জনাব মামুনের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ সঠিক।
যে পত্রের মাধ্যমে ব্যাংক আমদানিকারকের পক্ষে রপ্তানিকারকের অনুকূলে আমদানি করা পণ্যের মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তা দেয় তাকে প্রত্যয়পত্র বলে।
বিশ্বায়নের ফলে ব্যবসায় বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার হওয়ায় বৈদেশিক বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বৈদেশিক বিনিময় বলতে এক দেশের সাথে অন্য দেশের অর্থ ও পণ্যের বিনিময়কে বোঝায়। বিশ্বায়নের ফলে পুরো পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয় এসে পড়েছে। ফলে দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক প্রসার ঘটেছে। আর ব্যবসায় বাণিজ্যের এসব লেনদেন নিষ্পত্তিতে বৈদেশিক বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!