আল-হাসাদ اَلْحَسَدُ শব্দের অর্থ হিংসা।
ঋণের অশুভ পরিণতি সম্পর্কিত হাদিসটি দ্বারা রাসুল (স) আমাদেরকে ঋণ গ্রহণে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ঋণ হলো এমন এক ধরনের দায়বদ্ধতা, যার জন্য নিজের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হতে হয়। একজন ঋণগ্রহীতা সমাজে স্বাধীনভাবে চলতে পারে না। কারণ সবসময় ঋণদাতার উপস্থিতি তার মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। কখনও কখনও জনসমক্ষে তাকে ঋণের জন্য অপমানিত হতে হয়। এসব লাঞ্ছনা ঋণগ্রহীতাকে স্বস্তিতে থাকতে দেয় না। সে রাতে দুশ্চিন্তার শিকার হয় এবং তার সার্বিক অবস্থার উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়। এরূপ অবস্থা থেকে বাঁচার জন্যই রাসুল (স) ঋণ গ্রহণ থেকে সাবধান থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব তারিফের আচরণ ইসলামে ভ্রাতৃত্ববোধ সম্পর্কিত হাদিসটির শিক্ষার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা হলো দেশ, কাল, জাতি, বর্ণ- নির্বিশেষে সব মুসলিম ইসলামি আদর্শের ভিত্তিতে এক অবিচ্ছেদ্য ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। মুমিনের ভ্রাতৃত্ব ইমানের অনিবার্য দাবির ফল। পরস্পরের সুখ-দুঃখ উপলব্ধি এবং আচার-আচরণ, বিশ্বাস ও চিন্তার ঐক্যে মুমিনরা যেন এক অভিন্ন দেহ। একজন মুমিন অসুস্থ হলে অপর মুমিন তার সেবা করবে, পরস্পরের সাথে সর্বদা সদ্ভাব বজায় রাখবে। এটাই ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা। রাসুল (স) বলেন, 'তুমি মুমিনদেরকে তাদের পারস্পরিক দয়া, তাদের মধ্যস্থিত ভালবাসা ও পারস্পরিক সহানুভূতি প্রদর্শনে একটি দেহসদৃশ দেখতে পাবে' (বুখারি ও মুসলিম)। তারিফের আচরণে এই হাদিসের শিক্ষাই প্রতিফলিত হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব বশির ও তারিফ একই মহল্লার অধিবাসী। তারিফ বশিরের সাথে সৎভাব বজায় রাখেন। বশির অসুস্থ হলে তাঁকে দেখতে যান এবং দেখা হলে সালাম দেন। জনাব তারিফ মনে করেন, বশির তারই দেহের একটি অংশ। তার এই শিক্ষাটি এসেছে রাসুল (স)-এর ভ্রাতৃত্ববোধ সম্পর্কিত হাদিস থেকে। কারণ ভ্রাতৃত্ববোধ সম্পর্কিত উক্ত হাদিসটিই সব মুসলিমকে পারস্পরিক দয়া ও কল্যাণকামিতার শিক্ষা দেয়।
উদ্দীপকের জনাব বশিরের শত্রুতামূলক আচরণে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইসলামি ভ্রাতৃত্ব পারস্পরিক দয়া, ভালবাসা ও কল্যাণকামিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। অসদাচরণ করা, সুসম্পর্ক বজায় না রাখা, অন্যের ক্ষতি করা ইত্যাদি ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধের পরিপন্থি। কারণ এসব আচরণ সমাজে বিরূপ প্রভাবের সৃষ্টি করে। সমাজের কেউ যদি অন্যদের সাথে সদাচরণ না করে বরং ক্ষতিসাধন করার চেষ্টা করে, তাহলে সমাজে শান্তি বিরাজ করা সম্ভব হয় না। উপরন্তু এই ধরনের আচরণের প্রভাবে সমাজে পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা, ঠকানোর মানসিকতা, স্বার্থচিন্তা ইত্যাদির সৃষ্টি হয়। ফলে সমাজ থেকে শান্তি দূর হয়ে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। জনাব বশিরের আচরণের সামাজিক প্রভাবও এরকমই।
উদ্দীপকের জনাব বশির ও তারিফ একই মহল্লার অধিবাসী। জনাব তারিফ বশিরের সাথে ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখলেও জনাব বশির তার সাথে সদাচরণ করেন না। উপরন্তু সুযোগ পেলেই ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। বশিরের আচরণ সমাজের শান্তি বিনষ্ট করে। অবিশ্বাস, শত্রুতা, স্বার্থচিন্তা ইত্যাদির জন্ম দেয়। পারস্পরিক কল্যাণ, সহানুভূতি ও ভালোবাসা থেকে সবাইকে বঞ্চিত হতে হয়। অসদাচরণ, স্বার্থচিন্তা, অন্যের ক্ষতি করা ইত্যাদি ইসলামি ভ্রাতৃত্বের প্রতিবন্ধক। সামাজিক অশান্তি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে এগুলো প্রধান ভূমিকা পালন করে। তাই ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধ রক্ষায় এবং সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদেরকে অসদাচরণ ও শত্রুতা পরিহার করে চলতে হবে।
Related Question
View All'সিহাহ সিত্তাহ' হলো- বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থ।
আলোচ্য হাদিসের অর্থ হলো- 'লজ্জাশীলতা ইমানের একটি বিশেষ অঙ্গ'। উল্লেখিত হাদিসটি সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে সংকলিত হয়েছে। এ হাদিসে রাসুল (স) লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। একজন মুমিন তার আচার-আচরণ, কথাবার্তা, কাজকর্মে অবশ্যই লজ্জাশীল হবেন। কারণ লজ্জাশীলতা ইমানের অপরিহার্য একটি দিক। তাই মান-সম্মান রক্ষা করার জন্য ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক মুমিনের লজ্জাশীল হওয়া প্রয়োজন। আলোচ্য হাদিসে ইমানের সাথে লজ্জার সম্পর্কের দিকটিই ফুটে উঠেছে।
হাবিবের বক্তব্যে ওহিয়ে মাতলু তথা পবিত্র কুরআনের পরিচয় ফুটে উঠেছে। কুরআন মাজিদ আল্লাহর বাণী। এটি সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব যা সর্বশ্রেষ্ঠ নবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। উদ্দীপকের হাবিব ওহির বিভিন্ন প্রকার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। উদ্দীপকের তিন বন্ধু ইসলামি শরিয়ার উৎস সম্বন্ধে আলোচনা করছিল। হাবিব এ সময় বলে, কিছু ওহির ভাব ও ভাষা সরাসরি আল্লাহর, যা পাঠ করা ইবাদত এবং নামাজেও এর তিলাওয়াত আবশ্যক। এর মাধ্যমে হাবিব পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। ওহি দুই প্রকার। যথা- ওহিয়ে মাতলু ও ওহিয়ে গায়রে মাতলু। ওহিয়ে মাতলু বা পঠিত ওহি হলো কুরআন মাজিদ। এটি লাওহে মাহফুজ থেকে জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে নবুওয়তের দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে মহানবি (স)-এর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে।
কুরআন সন্দেহাতীতভাবে অদ্যাবধি অবিকল ও অবিকৃত অবস্থায় সুরক্ষিত হয়ে আসছে। এর শব্দ, অর্থ, মর্ম উপস্থাপনা, বিন্যাস সবই আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া নামাজ আদায় হয় না। নামাজে কুরআন থেকে তিলাওয়াত করা ফরজ। সুতরাং উদ্দীপকের হাবিব প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে কুরআন মাজিদের দিকেই ইঙ্গিত করেছে।
হাসানের উল্লেখিত বিষয়টি ওহিয়ে গায়রে মাতলু তথা হাদিস; যার সাথে হাদিসে কুদসির কতিপয় সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ওহি দুই প্রকার- যার মধ্যে একটি 'ওহি গায়রে মাতলু' অর্থাৎ অপঠিত ওহি বা হাদিস। মহানবি (স)-এর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতি তথা রাসুল (স)-এর বাস্তব জীবনের প্রতিটি কাজ ও সমর্থনই হাদিস। হাসানের বক্তব্যে হাদিসের কথাই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের হাসান ইসলামি শরিয়ার দ্বিতীয় উৎস হাদিসের প্রসঙ্গে কথা বলছিল। সে বলে, হাদিস নামাজে তিলাওয়াত করতে হয় না এবং অপবিত্র অবস্থায়ও এটি স্পর্শ করা যায়। হাসানের উল্লেখিত ওহি গায়রে মাতলু বা হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে হাদিসে কুদসি অন্যতম। হাদিসে কুদসি অন্যান্য হাদিসের মতই, তবে এ প্রকার হাদিসের ভাব স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এবং ভাষা রাসুল (স)-এর নিজের। অপরদিকে সাধারণ হাদিসের ভাব ও ভাষা উভয়টিই রাসুল (স)-এর নিজস্ব। তাছাড়া হাদিসে কুদসিও অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা যায়। 'রাসুল (স) বলেছেন', একথা অন্যান্য হাদিসের প্রারম্ভে থাকে। কিন্তু হাদিসে কুদসি শুরু হয় 'আল্লাহ বলেছেন' এ কথা দিয়ে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, হাসানের উল্লিখিত বিষয়টি হচ্ছে রাসুলের (স) বাণী বা কাজ তথা হাদিস। আর হাদিসে কুদসি এরই একটি ধরন।
সম্পূর্ণ কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষিত হয় লাওহে মাহফুজে।
কুরআনকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করে কুরআন পাঠের অভিন্ন রীতি চালু করায় হযরত উসমান (রা) কে জামিউল কুরআন বলা হয়। হযরত উসমান (রা) এর সময় ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে কুরআন পাঠের ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কুরআনের প্রথম পাণ্ডুলিপিটি থেকে সাতটি কপি তৈরি করা হয়। এবং সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় যাতে সবাই একই রীতিতে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!