অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে এমন যে কোনো কাজ, সেবা বা বিনিময়কে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বলে।
যে শিল্পে উৎপাদন ও বিপণনের কাজটি প্রধানত মালিক নিজে বা তার পরিবারের সদস্যরা করে থাকেন তাকে কুটিরশিল্প বলে। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের কুটিরশিল্প রয়েছে। তাঁতবস্ত্র, মাটির তৈরি জিনিসপত্র, বাঁশ, বেত ও কাঠের কাজ, শাড়ি বা মিষ্টির প্যাকেট, আগরবাতি ইত্যাদি কয়েকটি কুটিরশিল্পের উদাহরণ।
জনাব হাসানের ব্যবসা বৈদেশিক বাণিজ্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
সাধারণত কোনো দেশই তার চাহিদার সমস্ত জিনিস নিজেরা উৎপাদন করতে পারে না। অন্য দেশ থেকে কিছু কিছু জিনিস তাকে আমদানি করতে হয়। একইভাবে কোনো কোনো দেশে কিছু পণ্য চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়। তখন দেশগুলো নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত পণ্যের একটা অংশ বিদেশে রপ্তানি করে। এভাবে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি এবং বিদেশ থেকে পণ্য রপ্তানি করার নামই হলো বৈদেশিক বাণিজ্য।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে হাসান কাজাখস্তান থেকে প্রচুর পরিমাণে তুলা নিজ দেশে এনে আমাদের দেশের সুতাকল মালিকদের কাছে বিক্রয় করেন। হাসানের অন্য দেশ থেকে এদেশে তুলা আনার কাজটি হলো আমদানি, যা বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্তর্ভুক্ত। তাই বলা যায়, হাসানের ব্যবসা বৈদেশিক বাণিজ্যের সাথে সম্পর্কিত।
জনাব মতিন সাহেব পণ্য রপ্তানি করেন এবং তার মতো ব্যবসায়ীরা দেশকে স্বাবলম্বনের পথে এগিয়ে নিবেন।
যখন কোনো দেশের উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা মিটানোর পরও অতিরিক্ত থাকে তখন সেই অতিরিক্ত পণ্য অন্য দেশের কাছে বিক্রি করা হয়। একেই রপ্তানি বলে। রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জনাব মতিন নারায়ণগঞ্জে কারখানা স্থাপন করে বিভিন্ন পাটজাতদ্রব্য উৎপাদন করে যুক্তরাজ্যের বাজারে বিক্রয় করেন। মতিন সাহেবের এ কাজটি হলো রপ্তানি। মতিন সাহেবের মতো ব্যবসায়ীদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির ফলে প্রচুর মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। এতে বেকারত্ব হ্রাস পাচ্ছে এবং উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আমদানি হ্রাস করে রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশ স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, জনাব মতিন সাহেবের মতো ব্যবসায়ীরা দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি করে আমদানি হ্রাস ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখেন। এতে দেশ স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে।
Related Question
View AllSAFTA-এর পুরো নাম 'South Asian Free Trade Area' বা দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য এলাকা।
মাঝারি শিল্প বলতে সেসব শিল্পকে বোঝায়, যেখানে দেড় কোটি টাকার অধিক মূলধন খাটানো হয়।
মাঝারি শিল্পের উদাহরণ হলো হাল্কা ইঞ্জিনিয়ারিং, সিল্ক, সিরামিক, কোন্ড স্টোরেজ বা হিমাগার ইত্যাদি। দেশের চাহিদা পূরণ ও অনেক লোকের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এ ধরনের শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তমিজ উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের কাজ অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যাবলির আওতাভুক্ত।
সাধারণত যেসব অর্থনৈতিক কাজের জন্য মজুরি নির্ধারিত নেই, করের আওতায় আনা কঠিন এবং যা সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় না তাকে অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজ বলে। যেমন- নিজের জমি, দোকান বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কাজ করা, গৃহস্থালি কর্ম, হকারি, দিনমজুরি ইত্যাদি। আবহমানকাল থেকে চলে আসছে বলে অর্থনীতিবিদরা এসব কাজকে অর্থনীতির প্রথাগত খাতও বলে থাকেন।
উদ্দীপকের তমিজ উদ্দিন ও তার ছেলেরা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করেন। আবার অবসর সময়ে তিনি একটি মুদির দোকান চালান। এ প্রেক্ষিতে বলা যায়, তমিজ উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের কাজ অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজের আওতাভুক্ত। কারণ তাদের এ কাজের জন্য কোনো নির্ধারিত মজুরি নেই, তা করের আওতায় আনা কঠিন এবং সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিতও নয়।
তমিজ উদ্দিনের মতো মানুষের কাজ তথা অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যাবলি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে- বক্তব্যটি যথার্থ।
বিশ্বের অন্য যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও অনানুষ্ঠানিক খাত অন্যতম ভূমিকা পালন করছে। গ্রামের একজন কৃষক ও তার পরিবারের সদস্যরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে কাজ করেন। তাদের এ অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। f এমনিভাবে কামার-কুমোরের কাজসহ বিভিন্ন কুটিরশিল্প, মুদির দোকান ও অন্যান্য ছোটখাটো ব্যবসাও অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজ হিসেবে জাতীয় অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একইভাবে শহরাঞ্চলে বসবাসকারী স্বল্প ও মাঝারি আয়ের অনেক মানুষও অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজে নিয়োজিত থেকে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।
সামগ্রিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার পরও আমাদের অর্থনীতির অগ্রগতিতে প্রথাগত বা অনানুষ্ঠানিক কার্যাবলি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হচ্ছে, শিল্পায়নের মাধ্যমে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন এবং বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা।
অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বলতে এমন অর্থনৈতিক কাজকে বোঝায়, যা করের আওতায় আনা কঠিন এবং সরকার কর্তৃক যাতে কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয় না।
আবহমানকাল থেকে চলে আসছে বলে অর্থনীতিবিদরা একে 'প্রথাগত খাত' হিসেবেও অভিহিত করেন। এ ধরনের কাজের উদাহরণ হচ্ছে-নিজের জমি, দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ, গৃহস্থালি কর্ম, হকারি ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!