যে মার্কেটিং মতবাদে বর্তমান মার্কেটিং চিন্তা-চেতনা এবং কার্যক্রমে, পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে, পণ্য মোড়কীকরণে এবং পণ্য বইনে পরিবেশের কোনো ক্ষতি করবে না এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, তাকে গ্রিন মার্কেটিং বলে।
কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরবরাহকৃত ক্যাটালগ দেখে ক্রেতারা পণ্য নির্বাচন করে মেইলের মাধ্যমে অথবা টেলিফোনে পণ্য সরবরাহের অর্ডার প্রদান করলে, তাকে ক্যাটালগ মার্কেটিং বলা হয়।
ক্যাটালগ মার্কেটিং পদ্ধতিটি সর্বপ্রথম ১৮৭২ সালের ফ্রান্সের Montgomery Ward এ বসবাসকারী পরিবারের জন্য চালু করা হয়। শুরুতে ক্যাটালগগুলো ছাপানো অবস্থায় সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে প্রচার করা হয়। ক্যাটালগ মার্কেটিং-এ বিজ্ঞাপনের সহায়তা গ্রহণ করা হলে তা অধিক কার্যকরী হয়। আমাদের দেশে মেশিনারি পণ্য বিক্রয়, কোচিং সেন্টারের প্রচার ইত্যাদি ক্ষেত্রে ছাপানো ক্যাটালগ পদ্ধতি ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
মামুনের খাবার ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিপণনের অনলাইন মার্কেটিং পদ্ধতি অনুসরণ করেছে।
অনলাইন মার্কেটিং হলো পরস্পর ক্রিয়াশীল অনলাইন কম্পিউটার পদ্ধতি, যা ইলেকট্রনিক্স উপায়ে ভোক্তার সাথে বিক্রেতার যোগাযোগ সম্পাদিত হয়। অনলাইন মার্কেটিং দু ধরনের যাদের একটি হলো। বাণিজ্যিক অনলাইন সেবা এবং অন্যটি হলো ইন্টারনেট। বাণিজ্যিক অনলাইন সেবার গ্রাহকদের মাসিক ফি'র বিনিময়ে অনলাইন তথ্য ও বিপণন সেবা প্রদান করা হয়। আর ইন্টারনেট হচ্ছে একটি ব্যাপক বিস্তৃত ও বিকশিত কম্পিউটার নেটওয়ার্কের বিশ্বব্যাপী ওয়েব যাতে কোনো কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা বা মালিকানা থাকে না।
উদ্দীপকে জনাব মামুন মার্কেটিং বিভাগের একজন ছাত্র। তার ডিপার্টমেন্টে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় সবসময় বাইরে গিয়ে খাওয়া সম্ভব হয় না। মাঝে মাঝে সে 'খাবার সরবরাহ ডটকম'-এ গিয়ে খাবারে অর্ডার দেয়। যথাসময়ে খাবার তার হাতে পৌঁছায় এবং সে ইন্টারনেটের মাধ্যমে খাবারের মূল্য পরিশোধ করে। উল্লেখ্য, সে ইলেকট্রনিক উপায়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করে খাবার ক্রয় করে থাকে।
সুতরাং মামুন খাবার ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনলাইন মার্কেটিং পদ্ধতি অনুসরণ করেছে।
খাবার সরবরাহ ডটকম' তাদের বিপণন কার্যাবলির মাধ্যমে সফলকাম হতে পারবে বলে আমি মনে করি। কেননা প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন বিপণন পদ্ধতিতে কার্যাবলি সম্পাদন করে।
বর্তমান ব্যবসায় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যোগাযোগ সৃষ্টিতে অনলাইন বিশেষ ভূমিকা রাখছে। অনলাইন ব্যবস্থা বিপণন কার্যক্রমকে গতিশীল করেছে। পারস্পরিক ক্রিয়াশীল অনলাইন কম্পিউটার পদ্ধতির মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে ইলেকট্রনিক উপায়ে যোগাযোগের প্রক্রিয়াই হলো অনলাইন বিপণন। অনলাইন বিপণনের মাধ্যমে একদিকে যেমন ক্রেতারা উপকৃত হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি বিক্রেতাগণও উপকৃত হচ্ছে। উদ্দীপকে 'খাবার সরবরাহ ডটকম' ক্রেতাদের কাছ থেকে অনলাইনে
খাবারের অর্ডার নেয়। প্রতিষ্ঠানটি যথাসময়ে অর্ডারপ্রাপ্ত খাবার ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দেয়। ক্রেতারাও ইন্টারনেটের মাধ্যমে দ্রুত খাবারের মূল্য পরিশোধ করে। অর্থাৎ অনলাইন বিপণনের মাধ্যমে ক্রেতা এবং বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটির সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা পায়। এতে ক্রেতাদের সাথে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের একটি সুসম্পর্কের সৃষ্টি হয়। বিশ্বব্যাপী একটি মাধ্যম হিসেবে এ পদ্ধতিতে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে অবস্থানরত ভোক্তার সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ সম্পন্ন করা যায়। এতে প্রচুর ক্রেতা সৃষ্টি হয় যা দীর্ঘকালীন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করে।
পরিশেষে বলা যায়, অনলাইন বিপণন পদ্ধতি বিপণন কার্যক্রমকে সহজ ও গতিময় করে তোলে যা কোনো প্রতিষ্ঠানের সফলতার জন্য আবশ্যকীয়। সুতরাং 'খাবার সরবরাহ ডটকম' অনলাইন বিপণন কার্যাবলির মাধ্যমে ব্যবসায়িক সফলতা অর্জন করতে পারবে বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allআন্তঃক্রিয়াশীল অনলাইন কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যে যোগাযোগ স্থাপিত হয় তাকে অনলাইন মার্কেটিং বলে।
যে বিপণন মতবাদে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় তাকে গ্রিন মার্কেটিং বলে।
গ্রিন মার্কেটিং পরিবেশবান্ধব পণ্য বিপণনকে উৎসাহিত করে। এটি এমন একটি ধারণা বা মতবাদ যেখানে পণ্য বিপণনের ক্ষেত্রে পরিবেশের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। এই মতবাদে পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়াটি এমন হতে হবে যেন তা পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে। আবার পণ্যের মোড়কীকরণ এমন হবে যেন তা পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে। অন্যদিকে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয় এ দিকটিকে লক্ষ রেখে পণ্যের বণ্টনকার্য পরিচালনা করতে হয় বলে বলা যায় গ্রিন মার্কেটিং পরিবেশবান্ধব বিপণনকে উৎসাহিত করে।
উদ্দীপকের 'জিপান' একটি চেইন স্টোর।
একই মালিকানা ও পরিচালনায় দেশের বা শহরের বিভিন্ন স্থানে শাখা খুলে উৎপাদনকারীর উৎপাদিত পণ্য ভোক্তাদের নিকট বিক্রয়কারী
প্রতিষ্ঠানকে চেইন স্টোর বা বিপণিমালা বলে। যেমন- স্বপ্ন, আগোরা, মীনা বাজার ইত্যাদি।
উদ্দীপকের মি. জিতু বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর বাণিজ্যিক কেন্দ্রে 'জিপান' নামে ২৫টি বিপণি প্রতিষ্ঠা করেন; যার পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান তিনি নিজেই করেন। তিনি 'জিপান' বিপণিতে বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন ব্র্যান্ডের উন্নতমানের পণ্যসামগ্রী একই নীতি অনুসরণ করে বিক্রয় করেন। অর্থাৎ 'জিপান' বিপণির সকল কর্মকান্তই চেইন স্টোরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই 'জিপান' বিপণি একটি চেইন স্টোর।
উদ্দীপকের মি. জিতুর বিভাগীয় বিপণি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যবসায় সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত সঠিক ও বাস্তবসম্মত।
একই দালানে অবস্থিত ও একই মালিকানায় পরিচালিত বিভিন্ন পণ্য পৃথক পৃথক বিভাগের মাধ্যমে কোনো বৃহদায়তন খুচরা বিপণির মাধ্যমে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হলে তাকে বিভাগীয় বিপণি বলে। যেমন- বাংলাদেশের আড়ং একটি বিভাগীয় বিপণি।
উদ্দীপকের মি. জিতু জাপান থেকে এসে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে 'জিপান' নামে ২৫টি চেইন স্টোর প্রতিষ্ঠা করেন। তার দক্ষ পরিচালনার ফলে 'জিপান' অল্পদিনের মধ্যেই বেশ লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। পরবর্তীতে তিনি ব্যবসায় সম্প্রসারণের চিন্তা করেন এবং ঢাকা শহরে নতুন একটি বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে পৃথক পৃথক বিভাগের মাধ্যমে পণ্যসামগ্রী বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অর্থাৎ তিনি চেইন স্টোরের মাধ্যমে সফলতা অর্জনের পর একটি আধুনিক বিভাগীয় বিপণি প্রতিষ্ঠা করে ব্যবসায়কে আরও সম্প্রসারণ ও লাভজনক করতে চাচ্ছেন। এক্ষেত্রে যেহেতু 'জিপান' বিপণির ব্যাপক - সুনাম রয়েছে, তাই নতুন বিভাগীয় বিপণিটিও ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সুনাম অর্জন করতে পারবে এবং ব্যবসায়িকভাবেও সফল হবে বলে আশা করা যায়।
সুতরাং, সার্বিক বিষয়াদি বিবেচনায় মি. জিতুর ব্যবসায় সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তটি সঠিক ও বাস্তবসম্মত হয়েছে।
যে মার্কেটিং মতবাদে বর্তমান মার্কেটিং চিন্তা-চেতনা এবং কার্যক্রমে, পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে, পণ্য মোড়কীকরণে এবং পণ্য বইনে পরিবেশের কোনো ক্ষতি করবে না এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, তাকে গ্রিন মার্কেটিং বলে।
কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরবরাহকৃত ক্যাটালগ দেখে ক্রেতারা পণ্য নির্বাচন করে মেইলের মাধ্যমে অথবা টেলিফোনে পণ্য সরবরাহের অর্ডার প্রদান করলে, তাকে ক্যাটালগ মার্কেটিং বলা হয়।
ক্যাটালগ মার্কেটিং পদ্ধতিটি সর্বপ্রথম ১৮৭২ সালের ফ্রান্সের Montgomery Ward এ বসবাসকারী পরিবারের জন্য চালু করা হয়। শুরুতে ক্যাটালগগুলো ছাপানো অবস্থায় সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে প্রচার করা হয়। ক্যাটালগ মার্কেটিং-এ বিজ্ঞাপনের সহায়তা গ্রহণ করা হলে তা অধিক কার্যকরী হয়। আমাদের দেশে মেশিনারি পণ্য বিক্রয়, কোচিং সেন্টারের প্রচার ইত্যাদি ক্ষেত্রে ছাপানো ক্যাটালগ পদ্ধতি ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!