যিনি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কার্য পরিচালনা'ও নিয়ন্ত্রণ করেন তাকে ব্যবস্থাপক বলে।
প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনের জন্য এতে নিয়োজিত মানবীয় ও বস্তুগত উপকরণের কার্যকর ব্যবহারের সকল প্রয়াস-প্রচেষ্টাকে ব্যবস্থাপনা বলে।
ব্যবস্থাপনা শব্দটি ইংরেজি Management শব্দের বাংলা পারিভাষিক রূপ। ব্যবস্থাপনা হলো প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত মানবীয় ও বস্তুগত উপকরণাদিকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত করার একটি কৌশল। যার মধ্যে পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা, প্রেষণা, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ কার্যাদি অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ দক্ষতা ও কার্যকরভাবে সাংগঠনিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংগঠনের সম্পদসমূহের ওপর প্রয়োগকৃত একসেট কাজই হলো ব্যবস্থাপনা।
জনাব মিজান ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় পরিকল্পনা, সংগঠন, প্রেষণা, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
ব্যবস্থাপনার কার্যাবলি ধারাবাহিকভাবে আবর্তিত হওয়াই হচ্ছে ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া। ব্যবস্থাপক তার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য পূর্বপরিকল্পনা করে থাকেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে সব কাজ সম্পন্ন করেন এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সফলতা লাভ করেন।
প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অনুযায়ী সকল মানবীয় ও বস্তুগত উপকরণাদি একত্র করেন, কর্মীসংস্থানের ব্যবস্থা করেন এবং কোন কর্মী কী কাজ করবে তা ভাগ করে দেন। এছাড়া কর্মীদের কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করেন। জনাব মিজান কর্মীদের কাজে উৎসাহিত করার জন্য প্রেষণার ব্যবস্থা করেন। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের কার্যাবলিকে একসাথে গ্রথিত, সংযুক্ত ও সুসংবদ্ধ করেন।। এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করেন। অর্থাৎ জনাব মিজান প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ব্যবস্থাপকীয় কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করেন।
প্রতিষ্ঠানে কার্যকর ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা অতি জরুরি।
ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা, সংগঠন, প্রেষণা, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি কাজ সঠিকভাবে সম্পাদন করতে পারলে প্রতিষ্ঠান তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। তাই এগুলো অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য নির্ধারণের উদ্দেশ্যে তিনি একটি উত্তম পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য তিনি প্রতিষ্ঠানের সকল উপায়-উপকরণকে একত্রে সংগঠিত করেন এবং কর্মীদের সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেন। কাজের ক্ষেত্রে কর্মীরা যে সমস্যায় পড়ে, সে সমস্যাগুলো সমাধানের দ্রুত পদক্ষেপ নেন। এমনকি প্রেষণাদানের মাধ্যমে তিনি কাজের প্রতি কর্মীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার ব্যবস্থা নেন। এতে কর্মীর কার্যসন্তুষ্টি বাড়ে এবং কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুগত হয়। এছাড়াও তিনি কর্মীদের মধ্যে একতা সৃষ্টির জন্য চেষ্টা করেন যা প্রাতিষ্ঠানিক অন্তর্দ্বন্দ্ব এড়াতে সহায়তা করে। এভাবে জনাব মিজান প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি বিভাগ ও কর্মীর কাজের মধ্যে সুসমন্বয়ের ব্যবস্থা করেন। ফলে সকল বিভাগের মিলিত প্রচেষ্টা প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনকে সহজ করে।
জনাব মিজান প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের কাজ যেমন- উৎপাদন, বিক্রয়, ক্রয় ইত্যাদি সম্পাদনের জন্য আলাদা আলাদা বিভাগ এবং প্রত্যেক বিভাগের জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেন। বিভাগীয় ব্যবস্থাপকের অধীনে থেকে প্রত্যেক কর্মীই তার দায়িত্ব, কর্তব্য ও কাজ সম্পর্কে অবগত থাকে এবং ব্যবস্থাপকগণও তার কর্মীদের কাজ সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এর ফলে স্বল্প সময়ে অধিক কাজ করা যায়, যা প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে সহজ হয়। অর্থাৎ জনাব মিজান দূরদর্শিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংগঠন, প্রেষণা, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত কার্যাদি সফলভাবে পরিচালনা করেন।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!