যেসব প্রতিষ্ঠান সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধি মোতাবেক নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে তাদের কার্য পরিচালনা করতে পারে সেসব প্রতিষ্ঠানকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলা হয়।
সরকারি কর্মকমিশন পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে।
কর্মকমিশন সরকারি কাজে জনবল নিয়োগের জন্য উপযুক্ত লোকদের মনোনয়নের উদ্দেশ্যে পরীক্ষা পরিচালনা করে। কর্মকমিশন যোগ্য প্রার্থীর কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে যোগ্য চাকরিপ্রার্থী বাছাই করে নিয়োগের সুপারিশ করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব মিলনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা দায়ের করেছে। এ প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতি দমনে বহুবিধ কার্যাবলি পরিচালনা করে থাকে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় যে, জনাব মিলন অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে অনেক ধনসম্পদের মালিক হন। সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্তের ভিত্তিতে মামলা দায়ের ও পরিচালনা করে। এখানে প্রতিষ্ঠান বলতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে বোঝানো হয়েছে। কেননা দুর্নীতি দমনে উপর্যুক্ত কার্যাবলিসমূহ দুর্নীতি দমন কমিশনই পরিচালনা করে থাকে।
দুর্নীতি দমন কমিশন 'দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪' এর তফসিলে উল্লিখিত অপরাধসমূহের অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনা করে। অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনার ভিত্তিতে এই আইনের অধীনে মামলা দায়ের ও পরিচালনা করে। দুর্নীতি সম্পর্কিত কোনো অভিযোগ স্ব উদ্যোগে বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তার পক্ষে অন্য ব্যক্তির দাখিলকৃত আবেদনের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে। দুর্নীতি বিষয়ে আইনদ্বারা কমিশনকে অর্পিত যে কোনো দায়িত্ব পালন করে। দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য কোনো আইনের অধীন স্বীকৃত ব্যবস্থাদি পর্যালোচনা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট সুপারিশ করে। এ কমিশন দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়ে গবেষণা পরিকল্পনা তৈরি করা এবং গবেষণালব্ধ সুপারিশ পেশ করে। এ কমিশনের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি হলো- দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য সততা ও নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টি করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা; কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে এমন সকল বিষয়ের ওপর সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা ইত্যাদি অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা এবং দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে তদনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির গৃহীত পদক্ষেপ দুর্নীতি দমনে অনেকাংশে সহায়ক বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় যে, জনাব মিলনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান অনুসন্ধান ও তদন্তের ভিত্তিতে মামলা দায়ের ও পরিচালনা করে। বিচার শেষে বিজ্ঞ আদালত তাকে ঐ অপরাধের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে। এখানে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি হলো দুর্নীতি দমন কমিশন। এ প্রতিষ্ঠানের তৎপরতার কারণেই দুর্নীতির বিচার হয়েছে। এ কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্রে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। দুর্নীতি দমন কমিশনের উদ্দেশ্য হলো দুর্নীতির বেড়াজাল থেকে দেশকে রক্ষা করা। এ কমিশনের গৃহীত ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের দুর্নীতি অনেকটা হ্রাস করা সম্ভব। দুর্নীতি দমন কমিশনকে আইনানুযায়ী সাক্ষী তলব করা, অভিযোগ সম্পর্কে অভিযুক্তকে জেরা করা, বেসরকারি দলিলপত্র উপস্থাপন করা এবং গ্রেফাতারি পরোয়ানা জারি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এ বলা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন অথবা প্রধান দুর্নীতি দমন কমিশনার যেকোনো স্থানে তার ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবেন এবং দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারবেন। এর ফলে যে কোনো ব্যক্তিই দুর্নীতিতে জড়িত হওয়ার ক্ষেত্রে ভয় পায় এবং দুর্নীতি করা থেকে নিজেকে বিরত রাখে। ২০০৪-এর আইনে দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরও ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে যে, তার অধস্তন যেকোনো অফিসার দুর্নীতি বিষয়ে তদন্ত করতে পারবেন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে বলা হয়েছে, অবৈধ সম্পদ অর্জনকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা যাবে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কেননা এ আইনের বলে কমিশন দুর্নীতিগ্রস্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করলে অন্যরাও দুর্নীতি করার ক্ষেত্রে শাস্তির ভয় পাবে এবং নিজেকে দুর্নীতি মুক্ত রাখতে উদ্বুদ্ধ হবে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, দুর্নীতি দমন কমিশন তার ক্ষমতা ও কার্যাবলি যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর এ কারণেই দুর্নীতি দমন কমিশনের পদক্ষেপসমূহ দেশের দুর্নীতি হ্রাসে অনেকটা সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allনির্বাচন হলো ভোটদানের মাধ্যমে প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া।
সর্বজনীন ভোটাধিকার বলতে ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে প্রাপ্তবয়স্ক সকল নাগরিকের ভোটদানের অধিকারকে বোঝায়।
ভোটদানের অধিকার নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার। রাষ্ট্রের সংবিধান এবং সরকারি বিধিবিধানের মাধ্যমে স্বীকৃত পন্থায় নাগরিকদের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষমতাকে ভোটাধিকার বলা হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটদানের অধিকার সর্বত্র স্বীকৃত এবং সংরক্ষিত।
উদ্দীপকের উল্লিখিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সাদৃশ্য আছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কাজের জন্য মেধাবী ও যোগ্য নাগরিকদের বাছাইয়ের কাজ করে। এজন্য সংস্থাটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কর্মকমিশন বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন সার্ভিস বা পদে নিয়োগকৃতদের পদোন্নতি এবং বদলি সংক্রান্ত বিষয়েও নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ প্রদান করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিধান সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত আছেন। উক্ত প্রতিষ্ঠান প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদানের জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন, মেধাবী ও দক্ষ লোক বাছাইয়ের কাজ করে। বাংলাদেশে এরূপ কাজ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের ভূমিকার উপর রাষ্ট্রের উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভরশীল।
আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার কাঠামোয় মেধাবী ও দক্ষ কর্মকতা-কর্মচারীর গুরুত্ব অপরিসীম। এজন্য বিশ্বের প্রায় সকল রাষ্ট্রে মেধার ভিত্তিতে কর্মকর্তা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া লক্ষ করা যায়। মেধা যাচাইয়ের ভিত্তিতে যোগ্যতাসম্পন্ন লোক বাছাইয়ের জন্য একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশের এমন একটি প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন।
বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্মকমশিন গঠনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও সংবিধানে কর্মকমিশনের কার্যাবলি সম্পর্কে বিধানাবলি সন্নিবেশিত আছে। এ বিধানাবলি অনুসারে কমিশন প্রজাতন্ত্রের কাজে দক্ষ ও উপযুক্ত কর্মচারী নিয়োগের উদ্দেশ্যে প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা, ডাক্তারি পরীক্ষা, পুলিশি তদন্ত প্রভৃতি কার্যক্রম পরিচালনা করে। সততা ও নিরপেক্ষতার সাথে তারা প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাছাই করে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেন। কর্মকমিশন যেহেতু নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেয়, তাই প্রকৃত মেধাবীরাই নিয়োগ পেয়ে থাকেন। আর সৎ, যোগ্য ও মেধাবীদের নিয়ে গড়ে ওঠা প্রশাসন সুষ্ঠু রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সুষ্ঠুভাবে, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং এর সার্বিক উন্নয়নে উদ্দীপকে বর্ণিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের ভূমিকা অনেক।
বাংলাদেশের সংবিধানের অভিভাবক হলো- জাতীয় সংসদ।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সংবিধান কর্তৃক সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়।
প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তার কাজের গতিশীলতার জন্য কতগুলো প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। যার ক্ষমতা ও কার্যাবলি সংবিধান অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ও সুনিয়ন্ত্রিত। এগুলোই হলো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে। বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন, নির্বাচন কমিশন, অ্যাটর্নি জেনারেল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!