কোনো একটি মূলসূত্রের উপর ভিত্তি করে একটি জাতি বা উচ্চতর শ্রেণিকে তার অন্তর্গত উপজাতি বা নিম্নতর উপশ্রেণিসমূহে মানসিক দিক থেকে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াই যৌক্তিক বিভাগ।
দ্বিকোটিক বিভাগ হলো একটি শ্রেণিকে দুটি উপশ্রেণিতে ভাগ করা, যারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন এবং একত্রিতভাবে পরিপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে একটি জাতিকে এমন দুটি উপজাতিতে ভাগ করা বোঝায়, যে দুটি উপজাতির একটি উপজাতির মাঝে কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য উপস্থিত, অন্যটিতে অনুপস্থিত অর্থাৎ দ্বিকোটিক বিভাগে একটি জাতিকে মোট দুটি বিরুদ্ধ উপজাতিতে ভাগ করা হয়। এ দুটি উপজাতির একটি সদর্থক এবং অন্যটি নঞর্থক। দ্বিকোটিক বিভাগ একটি সহজ-সরল আকারগত প্রক্রিয়া। যৌক্তিক বিভাগের সবগুলো নিয়মই মোটামুটিভাবে এখানে অনুসরণ করে
যৌক্তিক বিভাগের বিভাজন প্রক্রিয়ায় প্রয়োগ করা যায় না, এমন কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় এখানে তুলে ধরা হলো-
⇨ অপরতম উপজাতির ক্ষেত্রে যৌক্তিক বিভাগ প্রয়োগযোগ্য নয়। কারণ অপরতম উপজাতি হচ্ছে সর্বনিম্ন উপজাতি, যার আর কোনো উপজাতি নেই।
⇨ ব্যক্তর্থহীন পদের যৌক্তিক বিভাগ করা যায় না। কারণ যৌক্তিক বিভাগ হচ্ছে ব্যক্তর্থের বিশ্লেষণ। সুতরাং যেসব পদের ব্যক্তর্থ নেই, তাদের ক্ষেত্রে বিভাজন প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা সম্ব হয় না।
⇒ মৌলিক ও সরল বিষয়ের যৌক্তিক বিভাগ সম্ভব নয়। কারণ মৌলিক ও সরল বিষয়ের কোনো অংশ থাকে না। এ জন্য এগুলোকে বিশ্লেষণ করা যায় না। আর বিশ্লেষণ করা যায় না বলে এদের বিভক্ত করার প্রয়োজন হয় না।
⇨ বিশিষ্ট সমষ্টিবাচক পদের ক্ষেত্রে যৌক্তিক বিভাগ প্রযোজ্য নয়। কারণ বিশিষ্ট সমষ্টিবাচক পদগুলো একক ও নির্দিষ্টবিধায় এরূপ পদের কোনো উপশ্রেণি থাকে না।
⇒ একক ব্যক্তি বা বস্তুর যৌক্তিক বিভাজন সম্ভব নয়। কারণ যৌক্তিক বিভাগ কেবল জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়। একক ব্যক্তি বা বস্তুর ক্ষেত্রে নয়।
উল্লেখ্য, উপরে আলোচিত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে বিভাগের নিয়মসমূহ প্রয়োগযোগ্য নয় বলে এগুলোর ক্ষেত্রে বিভাজন। প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা যায় না। আর এসব ক্ষেত্রেই যৌক্তিক বিভাগের পরিধি সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
যৌক্তিক বিভাগের নিয়মসমূহ এবং নিয়ম লঙ্ঘনজনিত অনুপপত্তিসমূহ উপস্থাপন করা হলো-
নিয়ম-১ : যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে সর্বদা একটি জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদকে তার অন্তর্গত বিভিন্ন উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়। এ নিময়টি লঙ্ঘন করে একক কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর বিভাজন করা হলে অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।
নিয়ম-২: যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে একই নিয়মে একটিমাত্র মূলসূত্র ব্যবহার করে একটি পদকে বিভক্ত করতে হয়। কিন্তু বিভাজন প্রক্রিয়ায় একই সময় একাধিক গুণকে মূলসূত্র হিসেবে গ্রহণ করে কোনো জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদকে বিভক্ত করা হলে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।
নিয়ম-৩ : যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলোর মিলিত ব্যক্তর্থ বিভাজ্য জাতি বা শ্রেণির ব্যক্তর্থের সমপরিমাণ হবে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলোর, মিলিত ব্যক্তর্থ বিভাজ্য জাতি বা শ্রেণির ব্যক্তর্থের চেয়ে কম হলে অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে এবং ব্যক্তর্থের চেয়ে বেশি হলে অতিব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।
নিয়ম-৪ : যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলো পরস্পর বিচ্ছেদক হবে। এ নিয়ম লঙ্ঘন করে বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলোর প্রকৃতি যদি পরস্পর বিচ্ছেদক না হয়ে পরস্পর মিশ্রিত অবস্থায় থাকে তরে পরস্পরাঙ্গী বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।
নিয়ম-৫ : যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে বিভাগ জাতি বা শ্রেণির নাম বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিসমূহের প্রত্যেকের উপর প্রযোজ্য হবে। আর বিভাগকরণ প্রক্রিয়ায় যদি একক ব্যক্তি বা বস্তুকে তার অন্তর্গত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বা বিশিষ্ট গুণাবলিতে বিভক্ত করা হয়, তবে যথাক্রমে অঙ্গগত বিভাগ ও গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।
নিয়ম-৬ : বিভাগকরণ প্রক্রিয়ায় উচ্চতর জাতি বা শ্রেণি থেকে ক্রমানুসারে নিম্নতর উপজাতি বা উপশ্রেণির দিকে অগ্রসর হতে হয়। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে বিভাজন প্রক্রিয়ায় যদি উচ্চতর জাতি বা শ্রেণি থেকে নিম্নতর উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিভক্ত করা হলে যৌক্তিক বিভাগে উল্লম্ফন বা উৎক্রান্তি বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।
Related Question
View Allকোনো নীতি বা সূত্রের ভিত্তিতে একটি জাতি বা উচ্চতর শ্রেণিকে তার অন্তর্গত উপজাতি বা নিম্নতর উপশ্রেণিসমূহে বিভক্ত করার মানসিক প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ বলে।
যৌক্তিক বিভাগের প্রয়োজনীয়তার কিছু ক্ষেত্র এখানে তুলে ধরা হলো-
⇨ জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদের ব্যক্তর্থ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাই।
⇨ বৃহত্তর জাতির অন্তর্গত বিভিন্ন উপজাতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা পাই।
⇨ সহজেই কোনো বিষয়ের সংজ্ঞা নির্ণয় করা সম্ভম্ব হয়।
⇨ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
⇨ মানুষের মননশীল ক্ষমতার প্রকাশ ঘটে।
উদ্দীপকে বাবা যৌক্তিক বিভাগের যেসব নিয়মের কথা ইঙ্গিত করেছেন তা হলো-
⇨ জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদকে তার অন্তর্গত বিভিন্ন উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়।
⇨ একই সময় একটি মাত্র মূলসূত্র ব্যবহার করে একটি পদকে বিভক্ত করতে হয়।
⇨ বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণির মিলিত ব্যক্তর্থ বিভাজ্য জাতি বা শ্রেণির ব্যক্তর্থের সমপরিমাণ হবে।
⇨ বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলো পরস্পর বিচ্ছেদক হবে।
⇨ বিভাজ্য জাতি বা শ্রেণির নাম বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিসমূহের প্রত্যেকের উপর প্রযোজ্য হবে।
⇨ বিভাগকরণ প্রক্রিয়ায় উচ্চতর জাতি বা শ্রেণি থেকে ক্রমানুসারে নিম্নতর উপজাতি বা উপশ্রেণির দিকে অগ্রসর হতে হবে।
উদ্দীপকে বাবার বক্তব্য যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘনজনিত অনুপপত্তিসমূহকেই ইঙ্গিত করছে। বিভাজন প্রক্রিয়ায় যে নিয়মসমূহ রয়েছে, তা লঙ্ঘন করলে যেসব অনুপপত্তির সৃষ্টি 'হয় তা হলো-
অঙ্গগত বিভাগ ও গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি : জাতি বা শ্রেণিবাচক পদের পরিবর্তে একক কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বিভক্ত করা হলে উপশ্রেণির উপর প্রযোজ্য না হলে এই অনুপপত্তিগুলো ঘটে। যেমন: একটি গাছকে মূল, কাণ্ড, পাতা ইত্যাদি অংশে বিভক্ত করা হলে একে অঙ্গগত বিভাগ এবং যদি ফুলকে গন্ধ, বর্ণ, সৌন্দর্য ইত্যাদি বিশিষ্ট গুণে বিভক্ত করা হয়, তাহলে একে গুণগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।
সংকর বিভাগ : একই সময় একাধিক মূলসূত্রের ভিত্তিতে বিভাজন করা হলে এই অনুপপত্তির সৃষ্টি হয়। যেমন: মানুষ শ্রেণিকে একই সাথে বর্ণ ও উচ্চতা-এ দুটি মূলসূত্রের ভিত্তিতে বিভক্ত করা হলে এ ক্ষেত্রে 'লম্বা ও ফর্সা মানুষ' এবং 'বেঁটে ও কালো মানুষ' দুই শ্রেণির উদ্ভব ঘটে, যা সঠিক বিভাজন নয়। কারণ এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা লম্বা কিন্তু ফর্সা নয়; আবার এমন অনেক মানুষ রয়েছে, যারা লম্বা নয় কিন্তু ফর্সা। কাজেই এ ক্ষেত্রে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।
পরস্পরাঙ্গী বিভাগ : জাতি বা শ্রেণিকে যদি একাধিক মূলসূত্রের ভিত্তিতে বিভক্ত করা হয়, তাহলে এর অন্তর্গত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলো পরস্পর স্বতন্ত্র বা বিচ্ছিন্ন না থেকে বরং একে অপরের সাথে মিশে যায়। আর এ ক্ষেত্রে পরস্পরাঙ্গী বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে। অব্যাপক বিভাগ ও অতিব্যাপক বিভাগ: যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলোর মিলিত ব্যক্তর্থ বিভাজ্য জাতি বা শ্রেণির ব্যক্তর্থের সমপরিমাণ না হয়ে যদি কম হয়, তাহলে অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি এবং যদি ব্যক্তর্থ বেশি হয় তবে অতিব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে। উল্লম্ফন বা উৎক্রান্তি বিভাগ: বিভাজন প্রক্রিয়ায় উচ্চতর জাতি বা শ্রেণি থেকে ক্রমানুসারে নিম্নতর উপজাতি বা উপশ্রেণির দিকে অগ্রসর না হয়ে যদি মধ্যবর্তী কোনো স্তরকে বাদ দিয়ে বিভাজন করা হয়, তবে এ ক্ষেত্রে উল্লম্ফন বা উৎক্রান্তি বিভাগ অনুপপত্তি ঘটে।
যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে জাতি বা শ্রেণির পরিবর্তে কোনো একক ব্যক্তি বা বস্তুকে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে এবং বিভিন্ন গুণে বিভক্ত করা হলে সৃষ্ট অনুপপত্তির নাম হচ্ছে অঙ্গগত বিভাগ ও গুণগত বিভাগ।
যৌক্তিক বিভাগ অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ভিন্নধর্মী বিভাগ প্রক্রিয়া; কারণ এরা হচ্ছে যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘনজনিত অনুপপত্তি। এদের সাথে যৌক্তিক বিভাগের পার্থক্য হলো-
⇨ যৌক্তিক বিভাগ কেবল জাতি বা শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য, কিন্তু অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগ একক ব্যক্তি বা বস্তুর ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য।
⇨ যৌক্তিক বিভাগ একটি বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়া। আর অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগ লৌকিক পদ্ধতি।
⇨ যৌক্তিক বিভাগে নির্দিষ্ট একটি মূলসূত্রের ভিত্তিতে বিভাজন করা হয়। কিন্তু অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগে নির্দিষ্ট কোনো মূলসূত্র ব্যবহার করে না।
⇨ যৌক্তিক বিভাগ কতগুলো বিধিবদ্ধ নিয়ম পালন করে। কিন্তু অঙ্গগত ও গুণগত বিভাগে কোনো নিয়ম নেই।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!