রাজনৈতিক দল বলতে এমন একটি জনসংগঠনকে বোঝায়, যার সদস্যরা একটি আদর্শ বা কিছু নীতি বা কর্মসূচির ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানে সংগঠিত হয়।
নির্বাচনের দুইটি ধরনের মধ্যে একটি হচ্ছে পরোক্ষ নির্বাচন।
যে পদ্ধতিতে জনগণ ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি বা একটি মধ্যবর্তী সংস্থা নির্বাচিত করেন এবং এই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি বা সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য নির্বাচিত করেন, তাকে বলা হয় পরোক্ষ নির্বাচন। যেমন- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি মধ্যবর্তী সংস্থা দ্বারা নির্বাচিত হন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত জনাব রকিব আহমেদ নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, জনাব রকিব আহমেদ একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী প্রস্তাব করার চিন্তাভাবনা করছেন। এ থেকে বোঝা যায় যে, তিনি মূলত নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর আওতায় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনারের সংখ্যা রাষ্ট্রপতি নির্ধারণ করবেন। রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগদান করবেন এবং সংসদের বিধান সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাদের কর্মের শর্তাবলি নির্ধারিত হবে। একাধিক নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন কমিশনের সভাপতি হিসেবে কাজ করবেন। আর এভাবেই নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়।
বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে আমি মনে করি।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম উপায়। আর এই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। বাংলাদেশের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ও ভূমিকার কথা উল্লেখ আছে।
নির্বাচন কমিশনের 'দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা, ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ, ভোটারদের পরিচয়পত্র প্রদান, নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ, আইন দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য নির্বাচন পরিচালনা ও আনুষঙ্গিক কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা। এছাড়াও নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইকরণ, দল সম্পর্কিত নীতিমালা ও নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করাও নির্বাচন কমিশনের কাজ। নির্বাচন কমিশনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা। এর ফলে নির্বাচনের দিন জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে। এছাড়াও নির্বাচনি আইন তৈরি করে নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের দুর্নীতির পথকে রুদ্ধ করে দেয়। আবার নির্বাচনকালীন নির্বাচনি আচরণবিধি প্রণয়ন ও তা ভঙ্গ করলে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। এসব কারণে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়ে থাকে। সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, কোনো নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণেই একটি সুষ্ঠু ও বস্তুনিষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশে স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের কোনো বিকল্প নেই।
Related Question
View Allগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা।
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আদর্শ ও কর্মসূচিভিত্তিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি। রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতায় গিয়ে দলের নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা এবং নির্বাচনি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা। রাজনৈতিক দল একটি আদর্শ বা কিছু নীতি বা কর্মসূচির ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হয়।
'খ' ব্যক্তি প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
নির্বাচন হচ্ছে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া। স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রাপ্ত সব নাগরিক ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বাছাই করে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ এ দুই প্রকার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হন। প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য অথবা গোপন ভোটদান পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। প্রকাশ্য ভোটদান পদ্ধতিতে ভোেটারগণ তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে সকলের সামনে প্রকাশ্যে ভোট দেয়। এতে ভোটাররা প্রকাশ্যে 'হ্যাঁ' ধ্বনি বা 'হাত তুলে' সমর্থন দান করে। অন্যদিকে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে ভোটারগণ গোপনে ব্যালটপত্রে পছন্দকৃত ব্যক্তির নামের পাশে নির্ধারিত চিহ্ন একে বা সিল দিয়ে ভোট প্রদান করে।
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকার একটি আসনের ভোটাররা 'খ' ব্যক্তিকে সৎ ও যোগ্য মনে করে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন। অর্থাৎ 'খ' ব্যক্তি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েছেন। আর বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় গোপন ভোটদান পদ্ধতির প্রচলন রয়েছে। গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে ভোটাররা গোপনে ব্যালটপেপারে পছন্দের ব্যক্তির নামের পাশে নির্ধারিত চিহ্ন এঁকে বা সিল দিয়ে ভোট দেন। অর্থাৎ উদ্দীপকের 'খ' ব্যক্তিও প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তির কাজগুলোর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলের অন্যতম প্রধান কাজ জনমত গঠনের প্রতিফলন ঘটেছে।
রাজনৈতিক দলের অন্যতম কাজ হচ্ছে দলীয় আদর্শ ও কর্মসূচির পক্ষে জনমত গঠন করা। এই জনমত গঠনে রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সভা, মিছিল ও গণযোগাযোগের কর্মসূচি গ্রহণ করে। এছাড়াও রাজনৈতিক দল জনগণকে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে দলীয় কর্মসূচির ব্যাখ্যা এবং অন্য দলের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তি ঢাকার একটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন। এছাড়াও নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন স্থানে মিটিং, মিছিল কর্মসূচি পালন করে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তি জনমত গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনে জয়লাভের চেষ্টা চালিয়েছেন।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' ব্যক্তির ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময়, মিটিং, মিছিল প্রভৃতি কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের জনমত গঠনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে।
আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকায় আওয়ামী মুসলীম লীগ নামে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে 'মুসলীম' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ আওয়ামী লীগের মূলনীতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই দল পাকিস্তানে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!