'The Spirit of Islam' গ্রন্থটি রচনা করেন সৈয়দ আমির আলি।
লাহোর প্রস্তাবের মূল বিষয় ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহকে নিয়ে একাধিক স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র গঠন করা।
১৯৪০ সালে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন। মূলত এ প্রস্তাব ছিল জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে মুসলমানদের জন্য অধিকতর উন্নত ও যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে রচিত একটি প্রস্তাবনা। এর মূল বিষয় ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহ নিয়ে একাধিক স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র গঠন করা। এছাড়াও এ প্রস্তাবে গঠিত রাষ্ট্রসমূহে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সমূহের সব অধিকার ও স্বার্থরক্ষার বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রূপপুর ইউনিয়নকে দুভাগে ভাগ করার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের বঙ্গভঙ্গের সাদৃশ্য রয়েছে।
ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এ বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। এ বিভক্তিতে পূর্ববঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা নিয়ে গঠন করা হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ। অপরদিকে পশ্চিম বাংলা, বিহার, ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ। তৎকালীন বিশাল আয়তনের বাংলা প্রদেশকে একটি প্রশাসনিক ইউনিটে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও শাসনকার্য পরিচালনা ছিল কঠিন কাজ। তাই লর্ড কার্জন এ প্রদেশকে ভেঙে দুটি প্রশাসনিক ইউনিটে পরিণত করেন। তৎকালীন বাংলা প্রদেশে কোলকাতা হয়ে উঠেছিল আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। উন্নতি- অগ্রগতির সব ছিল কোলকাতাকে কেন্দ্র করে। ফলে পূর্ব বাংলার উন্নয়ন ব্যাহত হয়। আর এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যই বঙ্গভঙ্গ প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, জনাব রফিকুল ইসলাম তার বিশাল আয়তনের রূপপুর ইউনিয়নের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও শাসনকার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে এলাকাটিকে দুটি প্রশাসনিক এলাকায় ভাগ করেন। তাই বলা যায়, রূপপুর ইউনিয়নকে দুভাগে বিভক্ত করার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের বঙ্গভঙ্গের সাদৃশ্য রয়েছে।
"এর পিছনে অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গের পিছনে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত ছিল”- এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
লর্ড কার্জন শুধু শাসন সুবিধার জন্য বা পূর্ব বাংলার জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে বঙ্গভঙ্গ করেননি। এর পিছনে ব্রিটিশ প্রশাসনের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক স্বার্থও জড়িত ছিল। লর্ড কার্জন বাংলার রাজনৈতিক সচেতনতা সম্পর্কে সতর্ক ছিলেন। বাঙালি মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ক্রমশ জাতীয়তাবাদ ও রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠছিল। বিষয়টি তার দৃষ্টি এড়ায়নি। কংগ্রেস নেতারা কোলকাতা থেকেই সারা ভারতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতেন। সুতরাং কোলকাতাকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।
হিন্দু ও মুসলমান সম্মিলিত শক্তি, ঐক্যবদ্ধ বাংলা ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য বিপজ্জনক। ফলে বাংলা ভাগ করে একদিকে বাঙালির শক্তিকে দুর্বল করা হলো, অপরদিকে পূর্ব বাংলার উন্নয়নের নামে মুসলমান সম্প্রদায়কে খুশি করা হলো। এভাবেই কার্জন 'বিভেদ ও শাসন নীতি' প্রয়োগ করে ব্রিটিশ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বাংলা ভাগ করেন। তারা কৌশলে ভারতীয় জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করার ব্যবস্থা করে।
পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গভঙ্গের পিছনে প্রশাসনিক ও আর্থ-সামাজিক কারণ থাকলেও রাজনৈতিক কারণটি ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allমুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়।
স্বত্ববিলোপ নীতি লর্ড ডালহৌসি কর্তৃক প্রবর্তিত এক প্রকার নীতি, যাতে দত্তক পুত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে পারে না।
লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করে সাতারা, ঝাঁসি, নাগপুর, সম্বলপুর, ভগৎ, উদয়পুর, করাউলি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। স্বত্ববিলোপ নীতি অনুযায়ী দত্তক পুত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে পারে না। তাছাড়া এ নীতির প্রয়োগ করে নানা সাহেবের ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অপশাসনের অজুহাতে অযোধ্যাকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হয়।
উদ্দীপকে বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক কারণটি ফুটে উঠেছে।
লর্ড কার্জনের শাসনামলে বঙ্গভঙ্গ ছিল একটি প্রশাসনিক সংস্কার। উপমহাদেশের এক-তৃতীয়াংশ লোক বাস করত বাংলা প্রেসিডেন্সিতে । কলকাতা থেকে পূর্বাঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও শাসনকার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা ছিল কঠিন কাজ। যে কারণে লর্ড কার্জন এত বড় অঞ্চলকে একটিমাত্র প্রশাসনিক ইউনিটে রাখা যুক্তিসংগত মনে করেন নি। তাই ১৯০৩ সালে বাংলা প্রদেশকে দুভাগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং ১৯০৫ সালে তা কার্যকর হয়।
উদ্দীপকের সালেহপুর ইউনিয়ন আয়তনে অনেক বড় হওয়ার কারণে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছিল। তাই এটিকে দুটি আলাদা ইউনিটে ভাগ করা হয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের কারণটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকটি বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক কারণের ইঙ্গিত বহন করে। এটি ছাড়াও বঙ্গভঙ্গের পেছনে আরও কারণ ছিল বলে আমি মনে করি।
বঙ্গভঙ্গের অন্যতম কারণ ছিল আর্থ-সামাজিক। তৎকালীন সময়ে শিল্প- কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবকিছুই কোলকাতাকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল। উন্নত সবকিছুই কোলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে পূর্ব বাংলার উন্নতি ব্যাহত হয়। এ অবস্থা বিবেচনা করে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ করেন।
লর্ড কার্জন ছিলেন রাজনৈতিক বিষয় সম্পর্কে সতর্ক। বাঙালি মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ক্রমশ জাতীয়তাবাদ ও রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠেছিল, যা তার দৃষ্টি এড়ায়নি। তাই কোলকাতাকেন্দ্রিক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়া ছিল বঙ্গভঙ্গের অন্যতম কারণ। ব্রিটিশদের Divide and rule policy (বিভেদ ও শাসন নীতি) প্রয়োগ করে ব্রিটিশ স্বার্থকে টিকিয়ে রাখাও বঙ্গভঙ্গের অন্যতম কারণ ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, শুধু প্রশাসনিক কারণেই নয়, উল্লিখিত বিষয়গুলোও বঙ্গভঙ্গের জন্য দায়ী ছিল।
লর্ড ডালহৌসি দিল্লির মুঘল সম্রাটের পদ বিলুপ্ত করেন।
হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহিদের ব্যবহারের জন্য 'এনফিল্ড' রাইফেলের প্রচলন করা হয়। এ রাইফেলের টোটা দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকে প্রবেশ করাতে হতো। সৈন্যদের মাঝে ব্যাপকভাবে এ গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে, এই টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত আছে। ফলে উভয়ই ধর্মনাশের কথা ভেবে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!