কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে স্থানীয় পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, রাজস্ব আদায় এবং সরকারি নীতি, আদর্শ ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকে স্থানীয় শাসন বলে।
মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকা এবং সুস্থ, সুন্দর জীবন পরিচালনার জন্য মৌলিক অধিকার প্রয়োজন।
যেসব অধিকার পূরণ ব্যতীত মানুষের বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে তাই মৌলিক অধিকার। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার। এসব অধিকার পূরণ ছাড়া নাগরিকরা সুস্থ, স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারে না। তাই বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫নং অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার পূরণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নীতিমালা প্রণয়ন ও সংশোধনের দিক বিবেচনায় উদ্দীপকের নীতিমালার সাথে বাংলাদেশ সংবিধানের পদ্ধতিগত মিল রয়েছে।
১৯৭১ সালে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি পরিচালনার মূল দলিল হিসেবে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি সংবিধান প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পরে গণপরিষদ আদেশ জারি ও সংবিধান কমিটি গঠন করা হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। এ সংবিধানে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছিল। উদ্দীপকের নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এ ধরনের কর্মতৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সংগঠনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে জনাব রশিদ সংগঠনটি পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেন। এক্ষেত্রে সদস্যদের সাথে আলোচনা, অন্যান্য সংগঠনের নীতিমালা পর্যালোচনা প্রভৃতি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া লক্ষ করা যায়। সংবিধান রচনার জন্য ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ রাষ্ট্রপতি 'গণপরিষদ আদেশ' জারি করেন। এ আদেশবলে গণপরিষদ প্রথম অধিবেশনে আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করে। সংবিধান প্রণয়ন কমিটির কয়েকজন সদস্য যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ সফর করে তাদের সংবিধান পর্যালোচনা করেন। ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদে তারা একটি খসড়া সংবিধান বিল উত্থাপন করেন। এটি প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় পাঠ শেষে সর্বসম্মতিক্রমে ৪ নভেম্বর গৃহীত হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সাথে সংগতি রেখে এটি এ পর্যন্ত ১৭ বার সংশোধিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের নীতিমালা প্রণয়নের সাথে বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়নের সুস্পষ্ট প্রতিফলন রয়েছে।
উক্ত নীতিমালাটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক- উক্তিটি যথার্থ।
সরকারের বিভিন্ন কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মনোভাব, আইনের শাসন, শাসনকার্যে জনগণের অংশগ্রহণ এসব সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক। সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়, আইনের শাসন নিশ্চিত হয় এবং মানুষের মৌলিক অধিকার একটি নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আসে। এজন্য সংবিধানকে গতিশীল ও যুগোপযোগী করা আবশ্যক। সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্যতম সহায়ক শক্তি হচ্ছে একটি উত্তম সংবিধান। সমাজ ও রাজনীতি যেমন পরিবর্তনশীল তেমনি সংবিধানও নিয়ত পরিবর্তনশীল। গতিশীল রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থার সাথে রাষ্ট্রীয় নীতিমালাকে খাপখাওয়াতে কখনো কখনো দেশের সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সমাজ ও রাজনীতির অগ্রগতি ও প্রগতির সাথে সাথে যদি সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিবর্ধন সূচিত না হয় তাহলে সমাজ স্থবির হয়ে পড়ে এবং বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়; রাষ্ট্রীয় কল্যাণ ব্যাহত হয়। সর্বোপরি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হয়। কাজেই সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবিধানে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশের সংবিধানে সংশোধনী এসেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি সমানভাবে প্রযোজ্য। পরিশেষে বলা যায়, সংবিধান সংশোধন যদি জনগণের কল্যাণে হয় তবে সংবিধান সংশোধন সুশাসন বয়ে আনে।
Related Question
View Allবাংলাদেশ সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হলো চারটি।
মৌলিক অধিকার বলতে রাষ্ট্রপ্রদত্ত সেসব সুযোগ-সুবিধাকে বোঝায় যা ব্যতীত নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ সম্ভব নয়।
মানুষের ব্যক্তিত্ব ও মেধা বিকাশের জন্য একান্তভাবে অপরিহার্য যে সকল অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক বলবৎ হয় সেইগুলোই মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। মৌলিক অধিকার ব্যতীত সভ্য জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই জনগণের মৌলিক অধিকারসমূহ তাদের শাসনতন্ত্রে সন্নিবেশিত থাকে। গণতান্ত্রিক সমাজের মূলভিত্তি হলো মৌলিক অধিকার।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের সংবিধানের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের সংবিধানের সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্রেরই একটি সংবিধান থাকে। কারণ সংবিধানের ভিত্তিতেই একটি রাষ্ট্রের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। এ কারণেই স্বাধীনতার পর পরই বাংলাদেশের একটি সংবিধান প্রণীত হয়। এই সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলনই 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রটি স্বাধীনতা লাভের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন করে। এর মূলনীতি হিসেবে যে বিষয়গুলোকে পণ্য করা হয় সেগুলো হলো জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। বাংলাদেশের সংবিধানের ক্ষেত্রেও এ বিষয়গুলো দৃষ্টিগোচর হয়। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। আর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। এরপর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর পরই তিনি স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অনতিবিলম্বে সংবিধান প্রণয়নে মনোনিবেশ করেন। ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর এটি গণপরিষদ কর্তৃক চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়। এই সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ৪টি বিষয়কে নির্দিষ্ট করা হয়। এগুলো হলো বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাঙালি জাতীয়তাবাদ। শোষণহীন সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার লক্ষ্যে সমাজতন্ত্র। মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান এবং জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে গণতন্ত্র। সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতা বিলোপ ও সকল ধর্মের মানুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ধর্মনিরপেক্ষতা। এ আলোচনা থেকে বাংলাদেশের সংবিধান এবং 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানের সাদৃশ্য প্রমাণিত হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধান অনুযায়ী অর্থাৎ বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী 'জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস'- বক্তব্যটি যথার্থ।
বাংলাদেশ সংবিধানের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এ সংবিধানে জনগণের সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সংবিধানে বলা হয়েছে- 'জনগণই সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস'। জনগণ প্রত্যক্ষভাবে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিচালনা করবে। অর্থাৎ এ সংবিধানে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন রয়েছে। গণতন্ত্রকে রাষ্ট্রের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ঘোষণা করে সংবিধানের ১১নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে। প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশের সংবিধানে জনগণের ক্ষমতায়ন স্বীকার করে নেয়ার পাশাপাশি মৌলিক অধিকারকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। আইন ব্যতীত এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না যাতে ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে। সর্বক্ষেত্রে জনগণের ক্ষমতায়ন হলেও দেশ আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আইনের দ্বারা প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর ও অন্যভাবে বিধিব্যবস্থা করার অধিকার থাকবে। জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে দেশের সর্বত্র অবাধে চলাফেরা, এর যে কোনো স্থানে বসবাস, শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার, শোভাযাত্রায় যোগদান করার অধিকার সকলের থাকবে।
পরিশেষে বলা যায়, গণতন্ত্রের মূল কথাই হচ্ছে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এর প্রতি অদম্য স্পৃহাই বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করেছিল। তাই সংবিধানে গণতন্ত্র তথা জনগণের ক্ষমতায়নকে রাষ্ট্রের অন্যতম মূল স্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রজাতন্ত্রের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্মের শর্তাবলি, নিয়োগ, বদলি, বরখাস্ত বা অবসর, অর্থদণ্ড, কর্মের মেয়াদ ইত্যাদি যে প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করে তাকে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বলে।
তৃনমূল পর্যায়ে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন অত্যন্ত জরুরি। কোনো এলাকার সমস্যা স্থানীয় সরকারই ভালোভাবে উপলব্ধি করতে এবং সে অনুযায়ী সমাধানের ব্যবস্থাও দ্রুততার সাথে গ্রহণ করতে পারে। এমনকি 'স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং কার্যক্রমের মাধ্যমে তৃনমূল পর্যায়ে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটায়। এসব প্রতিষ্ঠান গণতন্ত্রের খুঁটিস্বরূপ এবং এগুলোর মাধ্যমে গণতন্ত্র বিকশিত হয়। তাই বলা যায়, আধুনিককালে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব অপরিসীম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!