পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
৬ দফা কর্মসূচির প্রধান দাবি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন।
এ ৬ দফা শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত ৬টি দাবিসংবলিত একটি কর্মসূচি। এ দাবি ছিল অধিকার বঞ্চিত বাঙালির অধিকার আদায়ের দাবি। এ দাবির মূল বিষয় ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন।
উদ্দীপকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভের পর রাষ্ট্রের নীতি ও আদর্শ নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। এ সময় পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে, বাংলা না উর্দু এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। পূর্ব পাকিস্তানের সচেতন ও শিক্ষিত জনগণ তাদের মায়ের ভাষা বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার মর্যাদাদান করার দাবি জানায়, কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তান সরকার পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মাতৃভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এ সময় বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এক সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে ওঠে, যা বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নামে পরিচিত। এ আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সূচনা হয় যা পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই, ইতিহাসের শিক্ষক জনাব রশীদ শিক্ষার্থীদের পঞ্চাশের দশকের যে আন্দোলনের কথা বলেছেন তা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকেই নির্দেশ করে। আর মূলত উপরিউক্ত কারণেই এ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব রশীদ বলেন, আমাদের স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল পঞ্চাশের দশকে ভাষাকে কেন্দ্র করে। সেই আন্দোলন অর্থাৎ ভাষা আন্দোলনের প্রেরণা আজও যেকোনো বিপ্লবে শক্তি যোগায়- বক্তব্যটি আমি যথার্থ বলে মনে করি।
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সফল হয়ে বাঙালির মনে জাতীয় চেতনা জোরদার হয়। এ চেতনা বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয়, যা বাঙালির রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত করে। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই বাঙালি জাতি অধিকার সচেতন হয়ে ওঠে। ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে সংঘটিত প্রতিটি আন্দোলনে মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। এ আন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা কর্মসূচি এবং পরিশেষে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। যার মাধ্যমে আমরা মহান স্বাধীনতা অর্জন করেছি। উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, "ভাষা আন্দোলনের প্রেরণা আজও আমাদের যেকোনো বিপ্লবে শক্তি যোগায়।"
Related Question
View All১৯৫৮ সালে তদানীন্তন পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন ইস্কান্দার মির্জা।
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগ রাজনৈতিক দুর্বলতা ও দুঃশাসনের কারণে পরাজিত হন। এছাড়া মুসলিম লীগের অপশাসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শোষণ, দলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব, দুর্নীতি, পাকিস্তানের দুই অংশে বৈষম্য ইত্যাদি মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা অনেক হ্রাস করে। ফলে যুক্তফ্রন্টের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় এবং মুসলিম লীগের পরাজয় ঘটে।
কাশিমপুরের মানুষের আন্দোলনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন উপায়ে তাদের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকে এবং স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। তাদের কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে বাঙালি জনগোষ্ঠী বারবার রাজপথে নেমেছে। যার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবি ঘোষণার পর থেকে। সরকার এ আন্দোলনকে দমন করার জন্য পুলিশি নির্যাতন শুরু করে। এ সময় ঢাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র আসাদুজ্জামান (আসাদ) নিহত হয়। আসাদ নিহত হওয়ার পর এ আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। জনগণের ঐক্য, জাগরণ যে স্বৈরাচারী শাসকদের বুলেটের চেয়ে শক্তিশালী তা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের উল্লিখিত তথ্যসমূহের সাথে কাশিমপুরের মানুষের আন্দোলনের মিল পাওয়া যায়।
তাই বলা যায়, কাশিমপুর অঞ্চলের মানুষের আন্দোলনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
কাশিমপুরের চেয়ারম্যানের পরিণতি যেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের পরিণতিরই প্রতিচ্ছবি- উক্তিটি যথার্থ।
তদানীন্তন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খানের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তার স্বৈরাচারী মনোভাব ও কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে পূর্ব-পাকিস্তানের সুবিধাবঞ্চিত জনগণ দুর্বার গণআন্দোলন শুরু করে। জেনারেল আইয়ুব খান এ আন্দোলন দমন করার জন্য পুলিশি নির্যাতন শুরু করেন। পুলিশের গুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদ শহিদ হওয়ার পর এ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়। আন্দোলনের তীব্রতায় ভীত হয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে ১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ জেনারেল আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। একইভাবে কাশিমপুর অঞ্চলের মানুষ তাদের চেয়ারম্যানের স্বৈরাচারী মনোভাব ও কার্যকলাপে অতিষ্ট হয়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। চেয়ারম্যান পেশিশক্তি ও রক্তপাত ঘটিয়েও এ আন্দোলন স্তিমিত করতে পারেনি। এক পর্যায়ে উক্ত 'চেয়ারম্যান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যেমনটি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের ক্ষেত্রে ঘটেছে।
সুতরাং বলা যায়, কাশিমপুরের চেয়ারম্যানের পরিণতি তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের পরিণতিরই প্রতিচ্ছবি।
শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য) দায়ের করা হয়।
৬ দফা পূর্ব বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরে। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। এ ছয় দফার পথ ধরে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। তাই ছয় দফাকে বাংলার মানুষের মুক্তির দলিল বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!