ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ।
যাটের দশকে আইয়ুব শাসনবিরোধী আন্দোলনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন এক জ্বালাময়ী কণ্ঠ। তিনি সর্বদাই সাম্যের কথা বলেছেন। কৃষক-শ্রমিকের মুক্তি ও জনঅধিকার প্রতিষ্ঠায় মাওলানা ভাসানী এক বলিষ্ঠ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তার সুযোগ্য নেতৃত্বের কথা সর্বজনবিদিত। পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র ধারা তথা জনগণভিত্তিক রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। শোষিত ও নিপীড়িত মানুষদের স্বার্থ নিয়ে তিনি আজীবন আন্দোলন-সংগ্রাম করে গেছেন। এ কারণে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে মজলুম জননেতা বলা হয়।
লাউদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব রহমত আলীর কার্যক্রমের সাথে উপমহাদেশের অন্যতম সংস্কারক শহিদ তিতুমীরের সাদৃশ্য রয়েছে।
বীর যোদ্ধা, বিপ্লবী নেতা ও সফল সংগঠক সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর ১৭৮২ সালে চব্বিশ পরগণা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮২৪ সালে তিতুমীর মক্কা থেকে ফিরে এসে নীলকর ইংরেজ বণিক এবং এদেশের সামন্ত জমিদারদের অত্যাচারের মাত্রা দেখে খুবই ব্যথিত হন এবং কৃষক ও গরিব-দুঃখী মানুষকে মুক্ত করতে সচেষ্ট হন। মূলত তার আন্দোলন গড়ে ওঠে কৃষকদেরকে সাথে নিয়ে। দলে দলে হাজার হাজার কৃষক তার আন্দোলনে যোগ দেয়। কৃষকদের নিয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে তিনি বিদ্রোহ শুরু করেন। এটি ইতিহাসে বারাসাত বিদ্রোহ নামে পরিচিত। ১৮৩১ সালে তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সংগ্রামে লিপ্ত হন। এ উদ্দেশ্যে নারিকেল বাড়িয়ায় তার বিখ্যাত বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। কিন্তু তিনি যুদ্ধে কর্নেল স্টুয়ার্টের আধুনিক সমরাস্ত্রের মুখে টিকে থাকতে ব্যর্থ হন এবং এক পর্যায়ে যুদ্ধে শাহাদাৎ বরণ করেন।
উদ্দীপকের জনাব রহমত আলী হজব্রত পালন শেষে দেশে ফিরে সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। তিনি কৃষকদেরকে জমিদার ও মহাজনদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন করে তোলেন। সরকার তাকে দেশদ্রোহী হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং তাকে প্রতিহত করার উদ্যোগ নেয়। তার এসব কর্মকান্ডের সাথে শহিদ তিতুমীরের সংস্কার ও সংগ্রামের সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
শহিদ তিতুমীর এমন একজন সংস্কারক যিনি অত্যাচারী জমিদার ও ইংরেজ নীলকরদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, যার আত্মত্যাগ বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।
বাংলার মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে শহিদ তিতুমীরের আত্মত্যাগ এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তার আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল সমাজের শোষিত নিপীড়িত মানুষের পক্ষে। ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি কৃষকদের জমিদার, নীলকরদের অত্যাচার ও শোষণ থেকে মুক্ত করাই ছিল তিতুমীরের উদ্দেশ্য।
শহিদ তিতুমীর অত্যাচারী জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করেন। মূলত তার আন্দোলন গড়ে ওঠে কৃষকদেরকে সাথে নিয়ে দলে দলে হাজার হাজার কৃষক তার আন্দোলনে যোগ দেয়। কৃষকদের নিয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বারাসাত বিদ্রোহ শুরু করেন। ১৮৩১ সালে তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সংগ্রামে লিপ্ত হন এবং একপর্যায়ে শাহাদাত বরণ করেন।
যেকোনো নিপীড়নমূলক শাসনের বিরুদ্ধে তিতুমীর বাঙালিকে অনুপ্রেরণ যুগিয়েছেন। পাকিস্তানি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন বাঙালির সাহসের উৎস। তার আত্মত্যাগের আদর্শ মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরণা জোগায়, যার ফলে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয়েছিল।
Related Question
View Allবেজাল প্যাক্ট' স্বাক্ষরিত হয় ১৯২৩ সালে
বেজাল প্যাক্ট হলো বাংলার হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক বিভেদ সমাধানের লক্ষ্যে সম্পাদিত চুক্তি।
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ অনুভব করেছিলেন যে, বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দাবি অগ্রাহ্য করে স্বাধীনতা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এ দিক বিবেচনা করে চিত্তরঞ্জন দাশ মুসলমানদের সমর্থন ও হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। বাংলার মুসলিম নেতারাও তাঁর সাথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এ.কে. ফজলুল হক, মৌলবি আবদুল করিম এবং হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী। তাদের উদ্যোগে ১৯২৩ সালে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' স্বাক্ষরিত হয়।
উদ্দীপকের শামসুল হুদার সাথে আমার পঠিত মহান নেতা শহিদ তিতুমীরের সাদৃশ্য রয়েছে।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক শহিদ তিতুমীরের আসল নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী। তিনি দেশের মানুষকে ইংরেজ, জমিদার এবং নীলকরদের অত্যাচার ও শোষণের হাত থেকে রক্ষার প্রচেষ্টা চালান। তিনি কৃষকদেরকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলেন এবং তাদেরকে সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। শোষকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিনি কৃষকদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। এ লক্ষ্যে তিনি কলকাতার নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়া নামক স্থানে একটি বাঁশের কেল্লা বা দুর্গ নির্মাণ করেন।
উদ্দীপকের শামসুল হুদার ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, তিনি একজন সৎ ও সাহসী ব্যক্তি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সব সময় সোচ্চার। অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের হাত থেকে জনগণকে রক্ষায় তিনি একটি বাহিনী গড়ে তোলেন এবং তাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেন। তার এ লক্ষ্য ও কার্যক্রমের সাথে আমার পঠিত শহিদ তিতুমীরের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অর্থাৎ তিতুমীরের আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন গতি লাভ করেছিল।
তিতুমীরের কৃষক আন্দোলন ও বারাসাত বিদ্রোহ ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিদ্রোহ। এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে, রক্তদান ব্যতীত স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব নয়। তাঁর পরিচালিত এ বিদ্রোহ ছিল জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। তিনি নারিকেলবাড়িয়ার আশপাশের জমিদারদের পরাজিত করে চব্বিশ পরগনা, নদীয়া এবং ফরিদপুর জেলার কিছু অংশ নিয়ে একটি স্বাধীন রাজ্য গঠন করেন এবং কোম্পানি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি ইংরেজ সরকারের আক্রমণ মোকাবিলার জন্য নারিকেলবাড়িয়ায় একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। ১৮৩১ সালে ইংরেজ বাহিনীর সাথে যুদ্ধে তিতুমীরও শহিদ হন।
ইংরেজদের গোলাবারুদ এবং নীলকর ও জমিদারদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ছিল সাহস আর দেশপ্রেমের প্রতীক। যা যুগে যুগে বাঙালিকে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হতে সাহস যুগিয়েছে। প্রেরণা যুগিয়েছে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে। উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে তিতুমীরের আন্দোলনের কারণেই পরবর্তী সময়ের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনগুলো গতি লাভ করেছে।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর উত্থাপিত ছয় দফা কর্মসূচিকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
ফরায়েজি আন্দোলন বলতে হাজী শরীয়তউল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত ফরজভিত্তিক আন্দোলনকে বোঝায়।
১৮১৮ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহ মক্কা থেকে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি দেখলেন মুসলমানরা নানা প্রকার কুসংস্কারে লিপ্ত। তারা কবরপূজা, পীরপূজা, ওরস ও মানত করে পরিত্রাণ পাবে বলে মনে করত। এ অবস্থা দেখে হাজী শরীয়তউল্লাহ ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন। এতে ইসলাম ধর্মের পাঁচটি ফরজ পালনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়। এই আন্দোলনই ইতিহাসে ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!