বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নে সহায়তা করা ইউএনডিপি-র প্রধান কাজ।
বাংলাদেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গুরুত্ব রয়েছে গেছে। ইতিমধ্যে এ সংস্থা সংক্রামক ব্যাধি দূর করতে সাহায্য করছে। শিশুদের ৬টি ঘাতক রোগ প্রতিরোধেও এর অবদান আছে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও এ সংস্থা তার অবদানের জন্য বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ।
জনাব রহমান জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্পা বা United Nations Educational Scientific and Cultural Organization (UNESCO)-তে কর্মরত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব রহমান একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেন। তিনি বলেন, তারা দেশের ছাত্রদের বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশুনার - ক্রমাগত উন্নতি ও এদেশের অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। যা ইউনেস্কোর কাজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ইউনেস্কো ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদরদপ্তর হলো প্যারিসে। বর্তমানে ১৯৫টি রাষ্ট্র ইউনেস্কোর সদস্য। ইউনেস্কোর প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জাতির মধ্যে সহযোগিতা সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পৃথিবীর সব মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে ইউনেস্কো কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে ২৭ অক্টোবর ইউনেস্কোতে যোগ দেয়। ১৯৭৩ থেকে বাংলাদেশে ইউনেস্কো তার কার্যক্রম শুরু করে। নিরক্ষরতা দূরীকরণ, বয়স্ক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাংলাদেশে (UNESCO) কাজ করে যাচ্ছে।
উদ্দীপকে জনাব কায়সার বিশ্ব খাদ্য সংস্থা বা Food and Agriculture Organization (FAO)-তে কর্মরত। জামান 'সাহেব জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল বা United Nations Population Fund- UNFPA তে কর্মরত।
বাংলাদেশের উন্নয়নে উভয় সংস্থারই ভূমিকা রয়েছে। একটির ভূমিকা ছাড়া অন্যটির সফলতা আসবে না। UNFPA উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করে। অন্যদিকে FAO এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার ক্ষুধা দূর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করে। FAO দেশে একটি খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তৎপর। অন্যদিকে UNFPA দেশের জনসংখ্যাকে কাম্য জনসংখ্যায় রূপান্তর করতে অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সুতরাং এ কথা স্পষ্ট, শুধু UNFPA বা FAO এককভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারবে না, উভয়ের যৌথ প্রচেষ্টা বাংলাদেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
Related Question
View Allপৃথিবীতে মোট ১৯৫টি দেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম হলেও, আজকের বিশ্বে কোনো দেশের পক্ষেই অন্যের সহযোগিতা ছাড়া একা চলা সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এমন কি রাজনৈতিক দিক দিয়েও দেশগুলো একে অপরের উপর কমবেশি নির্ভরশীল। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিজেদের উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের পরস্পরের সহযোগিতা নিতে হয়।
পৃথিবীর কোনো দেশের পক্ষেই অন্যের সহযোগিতা ছাড়া একা চলা সম্ভব নয়। এজন্য অন্য দেশ ও সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান ও একটি শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে পৃথিবীতে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।
নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলের দেশগুলোকে নিয়ে যে সংস্থা গড়ে ওঠে তাকে আঞ্চলিক সংস্থা বলে। কয়েকটি আঞ্চলিক সংস্থা হলো- সার্ক, আসিয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকান ইউনিয়ন প্রভৃতি।
পুরো পৃথিবীকে কেন্দ্র করে যে সংস্থার বিস্তৃতি ঘটেছে তাকে আন্তর্জাতিক সংস্থা বলে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো- জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ওআইসি, ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, ফাও, ইউএনএফপিএ, ন্যাটো, ইউএনডিপি, হু প্রভৃতি।
UNICEF-এর পূর্ণরূপ হলো- United Nations International Children's Emergency Fund. (জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক জরুরি শিশু তহবিল)।
ইউনিসেফ জাতিসংঘের একটি বিশেষ সংস্থা যা বিভিন্ন দেশের বিশেষ করে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের শিশুদের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করে। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও রোগপ্রতিরোধ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, মৌলিক শিক্ষা, স্যানিটেশন ও নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!