দেশের আমদানি ও রপ্তানিকৃত দ্রব্যের ওপর যে কর ধার্য করা হয় তা হলো বাণিজ্য শুল্ক।
সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য আয়কর প্রদান করা হয়।
সরকার জনকল্যাণ সাধন, প্রশাসন পরিচালনা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। এ ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে প্রচুর অর্থ আয় করতে হয়। ফলে আয়করসহ বিভিন্ন উৎস মারফত সরকার জনগণের নিকট হতে কর আদায় করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'Y' আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ব্যাংকটি নানা ধরনের কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। দেশের কাগজি মুদ্রার প্রচলন ও মুদ্রা ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটি মূলত সরকারি ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সকল ব্যাংকের ব্যাংক, মূলধনের অর্থ জমা রাখার মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। ঋণ নিয়ন্ত্রণ করাও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাজ। মুদ্রা সংকোচন ও মুদ্রাস্ফীতি এড়ানোর লক্ষ্যে এ ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংকটকালীন মুহূর্তে এ ব্যাংক সর্বশেষ পর্যায়ের ঋণদাতা হিসেবে কাজ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকের পারস্পরিক দেনা- পাওনার ক্লিয়ারিং হাউস বা নিকাশঘর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। এছাড়াও মুদ্রার বিনিময় হার রক্ষা বিশ্ব ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডারের সহযোগী হিসেবে কর্মকান্ড পরিচালনা করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে জনাব রাজু Y নামক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। যে প্রতিষ্ঠানটি দেশের আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে এবং তথ্যের আলোকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক গবেষণায় সরকারকে সহায়তা করে। এ সকল কাজই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসকল কাজ ছাড়াও নানাবিধ কাজ সম্পাদন করে থাকে। অতএব বলা যায়, 'Y' আর্থিক প্রতিষ্ঠান তথা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।
উদ্দীপকে 'Z' নামক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক। এ ব্যাংক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
বাণিজ্যিক ব্যাংক নিরাপদে এবং দ্রুত টাকা স্থানান্তর করে। এসব ব্যাংক চেক, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার, ভ্রমণকারীর চেক, টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার (টিটি) প্রভৃতি উপায়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে টাকা প্রেরণ করে জনগণকে সহায়তা করে। ব্যবসায় বাণিজ্যের প্রাণই হলো বাণিজ্যিক ব্যাংক। এ ব্যাংকগুলোর প্রধান ভূমিকা হলো জনসাধারণের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করা। যা চলতি, সঞ্চয়ী এবং স্থায়ী যেকোনো প্রকারের আমানত হতে পারে। ঋণ প্রদান বাণিজ্যিক ব্যাংকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। জনসাধারণের কাছ থেকে গৃহীত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ গচ্ছিত রেখে অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংক ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের ঋণ হিসেবে প্রদান করে থাকে। বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করার মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ চেক, ব্যাংক ড্রাফট, হুন্ডি, ভ্রমণকারীর ঋণপত্র ইত্যাদি বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে। উন্নত দেশগুলোতে অধিকাংশ লেনদেনই এসব বিনিময়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বাট্টা ধার্য করে বিনিময় বিল ভাঙিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ভূমিকা রয়েছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বেই টাকার প্রয়োজন হলে বিনিময় বিলের মালিক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে উক্ত বিল ভাঙিয়ে নগদ টাকা পেতে পারে। বাণিজ্যিক ব্যাংক অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দেনা-পাওনা নিষ্পত্তিতে সাহায্য করে। বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমেই বৈদেশিক বাণিজ্যের অধিকাংশ কাজ পরিচালিত হয়। উদ্দীপকে রাজু সাহেব 'Z' নামক একটি প্রতিষ্ঠানে ছেলের জন্য টাকা পাঠান। তার ছেলে ওই প্রতিষ্ঠানের অন্য একটি শাখা থেকে সহজে টাকা উত্তোলন করে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটিতে টাকা জমা ও উত্তোলন কার্যক্রম ফুটে উঠেছে। যা বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যাবলিকে নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত 'Z' নামক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
Related Question
View Allব্যাংকসমূহকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা- ১. কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ২. বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ৩. বিশেষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক প্রচলিত মুদ্রাই দেশের 'চিহ্নিত মুদ্রা'। দেশের কাগজি মুদ্রার প্রচলন ও মুদ্রাব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ মুদ্রার অভ্যন্তরীণ ও বহির্মূল্য যাতে স্থিতিশীল থাকে তার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর ন্যস্ত থাকে।
মামুন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। দারিদ্র্য নিরসনে এর বহুবিধ কার্যক্রম রয়েছে।
মামুন তার পৈতৃক সম্পত্তি চাষাবাদের কাজে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য যে ব্যাংক থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন সেটি হচ্ছে 'বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক'। ব্যাংক কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করে থাকে। হালের বলদ, বীজ, সার, কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়, পানি সেচের জন্য শক্তিচালিত পাম্প, গভীর ও অগভীর নলকূপ স্থাপন প্রভৃতি কাজের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ঋণ প্রদান করে। বর্তমানে কৃষিকার্য ছাড়াও হাঁস-মুরগি ও পশুপালন, মৎস্য উৎপাদন, গুটি পোকার চাষ, ফলের চাষ, ফুলের চাষ ও কুটির শিল্পের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ঋণ প্রদান করে যাচ্ছে।
উদ্দীপকে মামুন তার পৈতৃক সম্পত্তি চাষাবাদের কাজে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য বিশেষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেছে। আর এ ধরনের ঋণ প্রদান করে বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। আর মামুনের নলকূপের পানি দিয়ে যেমন গ্রামের কৃষকেরা অধিক ফসল উৎপাদন করছে তেমনিভাবে এ থেকে অনেক কৃষক লাভবান হচ্ছে।
অতএব, দারিদ্র্য নিরসনে কৃষি ব্যাংকের কার্যক্রম অপরিসীম গুরুত্বের দাবিদার।
নাফিজ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। আর বাণিজ্যিক ব্যাংক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বর্তমান সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ চেক, ব্যাংক ড্রাফট, হুন্ডি, ভ্রমণকারীর ঋণপত্র ইত্যাদি বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি করে। এছাড়া বাট্টা ধার্য করে হুন্ডি বা বিনিময় বিল ভাঙিয়ে দেওয়া বাণিজ্যিক ব্যাংকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বাণিজ্যিক ব্যাংক নিরাপদে এবং দ্রুত টাকা স্থানান্তর করে। এসব ব্যাংক চেক, ব্যাংক ড্রাফট, পে- অর্ডার, ভ্রমণকারীর চেক, টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার প্রভৃতি সহজ উপায়ে একস্থান থেকে অন্যস্থানে অর্থ প্রেরণে জনগণকে সহায়তা করে। এ এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংক মূল্যবান অলংকার ও দলিলপত্র গঞ্ছিত রাখার কাজ করে থাকে। উদ্দীপকের বর্ণনায় দেখা যায়, নাফিজ বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে বাড়ি বন্ধক রেখে বিশ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে পোশাক উৎপাদন কারখানা স্থাপন করেছে। ফলে নাফিজের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে। পাশাপাশি সে গ্রামের প্রায় একশত লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। অর্থাৎ নাফিজ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে টাকা পাওয়ায় তাদের গ্রামের অর্থনীতিতে উন্নয়ন এসেছে। বাণিজ্যিক ব্যাংক এভাবেই অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা দ্বারা প্রশ্নোক্ত উক্তিটির যথার্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
কৃষি ও পল্লি উন্নয়নের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বার্ষিক ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার ন্যূনতম হার শতকরা ২৫ ভাগ।
বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো শিক্ষা।
শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশকে অশিক্ষার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকারকে সাম্প্রতিককালে এ খাতে প্রচুর ব্যয় করতে হচ্ছে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসার জন্য অনুদান, উপবৃত্তি, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিস্তারের নতুন নতুন কার্যক্রমে যথেষ্ট ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!