যে দলিলে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা সংক্রান্ত নিয়ম-নীতি লেখা থাকে, তাকে পরিমেল নিয়মাবলি বলে।
সহজে বিলুপ্ত হয় না এমন অস্তিত্ব হলো চিরন্তন অস্তিত্ব।
কোম্পানি সংগঠন অন্যান্য ব্যবসায়ের (একমালিকানা, অংশীদারি) মতো সহজে বিলুপ্ত হয় না। তাই আইন অনুযায়ী এ ব্যবসায় চিরন্তন অস্তিত্বের মর্যাদা লাভ করে। পৃথক ও স্বাধীন সত্তার কারণে শেয়ারহোল্ডারদের মৃত্যু, দেউলিয়াত্ব, শেয়ার হস্তান্তর প্রভৃতি এ ব্যবসায়ের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে না। আইনগত আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমেই এ ধরনের ব্যবসায়ের বিলোপ হয়। তাই কোম্পানিকে চিরন্তন অস্তিত্বের অধিকারী বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম পর্যায়ের ব্যবসায়টি একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।
এ ধরনের কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জন। এর পরিচালক থাকেন দু'জন। এটি জনগণের কাছে শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি করতে পারে না। আবার, এ কোম্পানির শেয়ারও হস্তান্তরযোগ্য নয়।
উদ্দীপকের জনাব রাফসান তার ছয়জন বন্ধু নিয়ে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এ প্রতিষ্ঠানটি আইনগত সত্তাবিশিষ্ট ও সীমিত দায়সম্পন্ন হবে। এতে পরিচালক হিসেবে আছেন জনাব রাফসান ও তার বন্ধু রিপন। এটি নিবন্ধনপত্র পাওয়ার পরপরই ব্যবসায় শুরু করে। এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হস্তান্তরযোগ্য নয়। এটি জনগণের কাছে শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে না। এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সাথে সম্পর্কিত। তাই বলা যায়, রাফসান ট্রেডার্স একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।
উদ্দীপকের ২য় পর্যায়ের পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি দেশের অর্থনীতিতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে বলে আমি মনে করি। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ৭ জন এবং সর্বোচ্চ শেয়ার সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকে। এ ধরনের কোম্পানি জনগণের কাছে শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। এজন্য ব্যবসায় সম্প্রসারণ করা সহজ হয়।
উদ্দীপকের জনাব রাফসান ও তার ছয় বন্ধু প্রথমে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়েই প্রচুর মুনাফা অর্জন করে। তাই তারা এটি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এর কাঠামো পরিবর্তন করেন। ফলে তারা জনগণের কাছে শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেন। তারা পরিচালক সংখ্যাও বাড়ান।
বেশি পরিমাণে মূলধন সংগ্রহ করে তারা ব্যবসায়টি সম্প্রসারণ করলে এ প্রতিষ্ঠানে অনেক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। এতে দেশের বেকার সমস্যা কমবে। এটি জনগণের মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সহায়ক হবে। তারা আগের চেয়ে বেশি পণ্যদ্রব্য উৎপাদন করে বিদেশেও রপ্তানি করতে পারবেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে। এসব কারণে আমি মনে করি, পাবলিক লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটি দেশের অর্থনীতিতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
Related Question
View Allএকমালিকানা ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা।
একমালিকানা ও অংশীদারি ব্যবসায়ের একটি পার্থক্য হলো:
এ ব্যবসায়ের মালিক একাই ব্যবসায় পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। অপরদিকে, অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারগণ যৌথভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করে থাকেন।
আবিরের ব্যবসায়টি একমালিকানা সংগঠন হওয়ায় এর স্থায়িত্বের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এ ব্যবসায় একক ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়। মালিক কোনো কারণে ব্যবসায় পরিচালনায় ব্যর্থ হলে এ ব্যবসায়ের বিলোপ ঘটে। এজন্য এ ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়।
উদ্দীপকের আবির কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের কাছে ছোট একটি চায়ের দোকান খুলে কর্মজীবন শুরু করেন। দোকানটি তিনি নিজেই পরিচালনা করেন। কোনো অংশীদার কিংবা কর্মচারী না থাকায় সব কিছু তাকেই তত্ত্বাবধান করতে হয়। কোনো কারণে দোকান খুলতে না পারলে সেদিন তাকে ব্যবসায় বন্ধ রাখতে হয়। দোকানটি খোলা কিংবা বন্ধ রাখা তার ব্যক্তিগত সুবিধা-অসুবিধার ওপর নির্ভরশীল। তাই আবিরের চায়ের দোকানের স্থায়িত্ব সবসময়ই অনিশ্চিত থাকে।
সাংগঠনিক ধরন বিবেচনায় আবিরের ব্যবসায়টি একমালিকানা ব্যবসায়; যা কম ঝুঁকিপূর্ণ অথচ অসীম দায়সম্পন্ন।
এ ব্যবসায় স্বল্প পুঁজি ও দৈনন্দিন চাহিদা আছে এমন পণ্য নিয়ে সহজেই গঠন করা যায়। তাই এ ব্যবসায় কম ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এ ব্যবসায়ের লাভ হলে মালিক সম্পূর্ণ মুনাফা পায়। আবার লোকসান হলেও সম্পূর্ণটাই তাকে বহন করতে হয়। এজন্য এ ব্যবসায়ের ঝুঁকি কম হলেও মালিকের দায় অসীম হয়।
উদ্দীপকের আবিরের চায়ের দোকানটি একটি একমালিকানা ব্যবসায়। এ ব্যবসায়টি কম ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ব্যবসায়টির পুঁজি স্বল্প। ব্যবসায়ের সব লাভ তিনি একাই ভোগ করেন। তবে লোকসান হলে সব দায়- দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে। কারণ ব্যবসায়ে লাভ-লোকসান যা-ই হোক তার কারণেই হয়।
ব্যবসায়ে ক্ষতি হলে প্রয়োজনে আবিরকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও দায় পরিশোধ করতে হবে। এ কারণেই ব্যবসায়ের ধরন বিবেচনায় আবিরের চায়ের দোকানে ঝুঁকি কম থাকলেও দায় অসীম হয়।
ব্যবসায় সংগঠন পাঁচ প্রকার।
একক ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ব্যবসায়ই হলো একমালিকানা ব্যবসায়।
একমালিকানা ব্যবসায়ের মালিক নিজেই এর নিয়ন্ত্রক। ব্যবসায়ে অন্য কোনো অংশীদার না থাকায় যাবতীয় দায়-দেনার জন্য মালিক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও তাকে ব্যবসায়ের দায়-দেনা পরিশোধ করতে হয়। এ জন্যই বলা হয়, একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিকের দায় অসীম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
