প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের প্রচেষ্টাবলিকে একসাথে গ্রথিত, সংযুক্ত ও সুসংহত করার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় বলে।
চিন্তা, কাজ ও পদ্ধতিতে প্রয়োজনে পরিবর্তন এনে প্রচেষ্টাকে চিন্তা, লক্ষ্যাভিমুখী করার নীতিকেই নমনীয়তার নীতি বলে।
সমন্বয় কার্যকে ফলদায়ক করার জন্য এ কাজে প্রয়োজনীয় নমনীয়তার সুযোগ থাকা উচিত। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সমন্বয় কৌশল পরিবর্তন করতে হতে পারে। তাই প্রয়োজনে যাতে সমন্বয়ের পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করা যায়, সেদিকে নজর দেওয়া আবশ্যক। প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিক নিয়মনীতিকে এড়িয়ে যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের সাথে দ্রুত সমন্বয়সাধন করতে পারে তার ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক।
নির্বাহীর সাথে জনাব শাকিব ও জনাব রুবেলের মধ্যে নিম্নগামী সমন্বয়সাধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যে সমন্বয়সাধন প্রক্রিয়ায় উর্ধ্বতন নির্বাহী তার অধস্তন নির্বাহীর কাজের নির্দেশনা প্রদান করেন তাকে নিম্নগামী সমন্বয়সাধন বলে। নিম্নগামী সমন্বয়সাধন প্রক্রিয়ায় অধস্তনরা নির্বাহীর দেওয়া কার্য নির্দেশনা মেনে তাদের কার্যাবলি সম্পাদন করেন।
উদ্দীপকের জনাব রাসেল একজন ঊর্ধ্বতন নির্বাহী। তিনি উৎপাদন ব্যবস্থাপক জনাব শাকিবকে বার্ষিক ২০,০০০ ইউনিট পণ্য উৎপাদন করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিক্রয় ব্যবস্থাপক রুবেলকে একই সময়ে ঐ পণ্য বিক্রয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। জনাব রুবেল ও জনাব সাকিব বিভাগীয় ব্যবস্থাপক। জনাব রাসেল তাদের উর্ধ্বতন নির্বাহী।
নির্বাহীর আদেশ নির্দেশ অনুসারে শাকিব ও রুবেল কাজ করেন। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্বাহী নির্দেশ প্রদান করেছেন। এ জন্য নির্বাহী সরবরাহকারী এবং বিক্রেতাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করেন। উদ্দীপকের সমন্বয় কাঠামো থেকে বোঝা যায় যে জনাব শাকিব ও রুবেলের সাথে নির্বাহীর নিম্নগামী সমন্বয়সাধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জনাব রাসেল কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাহ্যিক সমন্বয়সাধন করেছেন।
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানের বাইরের ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় সংঘটিত হলে তাকে বাহ্যিক সমন্বয়সাধন বলে। বাহ্যিক সমন্বয় সংঘটিত হয় সরবরাহকারী, পণ্য বিক্রেতা বাইরের বিভিন্ন ব্যক্তি বা সংগঠনের সাথে।
জনাব রাসেল উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী। তিনি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকারী ও বিক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকারী ও বিক্রেতারা প্রতিষ্ঠানের বাইরের ব্যক্তি বা সংগঠন। প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য এ সমন্বয়ের প্রয়োজন।
জনাব রাসেল প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রাতিষ্ঠানের বাইরের এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয়সাধন করেছেন। এ ধরনের কার্য সম্পাদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বাহ্যিক পক্ষের সাথে সুসম্পর্কের সৃষ্টি হয়। সরবরাহকারীরা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যের দিকে খেয়াল রেখে তাদের মানসম্মত পণ্য সরবরাহ করেন। বিক্রেতারা পণ্যের গুণাগুণ বর্ণনা করে বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধিতে কাজ করে। তাই বলা যায়, প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য জনাব রাসেল সরবরাহকারী এবং বিক্রেতাদের সাথে সমন্বয়সাধন করেছেন।
Related Question
View Allপূর্বনির্ধারিত ফল লাভের উদ্দেশ্যে যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, তাকে লক্ষ্য বলে।
উদ্দেশ্যের ঐক্য নীতি হলো প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের আলোকে বিভিন্ন বিভাগ ও উপবিভাগের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করা।
উদ্দেশ্যের ঐক্য নীতিতে মূল লক্ষ্যের আলোকে উপবিভাগীয় পর্যায়ে উদ্দেশ্য নিরূপিত হয় এবং সেই সাথে সমান্তরাল বিভাগ ও উপরিভাগের উদ্দেশ্যে একে অপরের সাথে সমন্বিত হয়। এভাবে বিভাগ এবং সার্বিকভাবে প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য অর্জনে সমন্বিত প্রয়াস তৈরি হয়। তাই কার্যকর সমন্বয়ে উদ্দেশ্যের ঐক্য স্থাপন জরুরি।
উদ্দীপকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ফেওলের বিকেন্দ্রীকরণের নীতি অনুসৃত হয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিচের পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলে তাকে বিকেন্দ্রীকরণ বলে।
উদ্দীপকের সিলভার এন্টারপ্রাইজের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা পর্যায়ক্রয়ে ব্যবস্থাপনার নিচের স্তরে প্রদান করেন। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত উচ্চস্তরের ব্যবস্থাপকরা নিয়ে থাকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ভার পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থাপনার নিচের স্তরে প্রদান করে। সুতরাং উদ্দীপকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ফেওলের বিকেন্দ্রীকরণের নীতি অনুসৃত হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের প্রচেষ্টাবলিতে একসাথে গ্রথিত, সংযুক্ত ও সুসংহত করার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় বলে।
সুষ্ঠু সমন্বয় ছাড়া বর্তমানকালে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই বৃহদায়তন উৎপাদন সম্ভব নয়। কারণ সমন্বয় প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের কাজের মধ্যে সেতুবন্ধ সৃষ্টি করে- যার ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মপ্রয়াস স্বাচ্ছন্দ্যে একক লক্ষ্যপানে ধাবিত হয় এবং লক্ষ্যার্জন নিশ্চিত করে।
উদ্দীপকের সিলভার এন্টারপ্রাইজের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থাপনার নিচের স্তরে প্রদান করেন। আবার প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের কর্মীর কার্যসম্পাদনে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য তিনি একে অন্যের সাথে যোগসূত্র স্থাপনে সহায়তা করেন। ফলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হয়। মূলত প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু সমন্বয় ব্যবস্থার ফলে সকল স্তরের কর্মীর মধ্যে যোগসূত্র তৈরি হয়েছে, যা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ সহজ করেছে। তাই বলা যায়, সুষ্ঠু সমন্বয় ব্যবস্থা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের প্রচেষ্টাবলিকে একসাথে গ্রথিত, সংযুক্ত ও সুসংহত করার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় বলে।
চিন্তা, কাজ ও পদ্ধতিতে প্রয়োজনে পরিবর্তন এনে প্রচেষ্টাকে চিন্তা, লক্ষ্যাভিমুখী করার নীতিকেই নমনীয়তার নীতি বলে।
সমন্বয় কার্যকে ফলদায়ক করার জন্য এ কাজে প্রয়োজনীয় নমনীয়তার সুযোগ থাকা উচিত। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সমন্বয় কৌশল পরিবর্তন করতে হতে পারে। তাই প্রয়োজনে যাতে সমন্বয়ের পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করা যায়, সেদিকে নজর দেওয়া আবশ্যক। প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিক নিয়মনীতিকে এড়িয়ে যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের সাথে দ্রুত সমন্বয়সাধন করতে পারে তার ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!