মানুষের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কার্যাবলি এবং সীমিত সম্পদ ও অসীম অভাবের সমন্বয় সাধন সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে অর্থনীতি বলে।
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জনকল্যাণের জন্য পরিচালিত হয় বলে এখানে ব্যক্তিগত মুনাফা অনুপস্থিত।
সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে অধিকাংশ সম্পদ (জমি, কলকারখানা, খনি ইত্যাদি) ও উৎপাদনের উপাদানগুলোর মালিক হলো সরকার। উৎপাদন মূলত সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হওয়ায় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের অবাধ প্রতিযোগিতা থাকে না। এখানে মুনাফা নয়, বরং জাতীয় চাহিদা ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্যই উৎপাদন পরিচালিত হয়। তাই সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফার অনুপস্থিতি দেখা যায়।
জনাব রাহীব যে দেশে বসবাস করেন সে দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ থাকে। এই অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অবাধে ভোগ ও ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে। মিশ্র অর্থনীতিতে ভোক্তার সার্বভৌমত্ব বজায় থাকে। ভোক্তার পছন্দের প্রতি লক্ষ রেখেই দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদিত হয় এবং সে তার রুচি ও পছন্দ মতো দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় ও ভোগ করতে পারে। তবে প্রয়োজনবোধে সরকার কোনো দ্রব্যের উৎপাদন ও ভোগ নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তাছাড়া এ অর্থব্যবস্থায় ধনতন্ত্রের মতো ব্যক্তিগত মুনাফার অস্তিত্ব রয়েছে। তবে সরকার জনস্বার্থে দাম ও মুনাফা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। উদ্দীপকের জনাব রাহীব যে দেশে বসবাস করেন সেই দেশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্যবসা পরিচালনা করা গেলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকার ব্যবসায়ের ওপর হস্তক্ষেপ করে। অর্থাৎ এখানে বেসরকারি ও সরকারি উদ্যোগ বিরাজমান। বিষয়টি মিশ্র অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, জনাব রাহীবের দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা প্রচলিত।
জনাব রাহীব ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার দেশে বসবাস করতে চাচ্ছেন। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার দেশে জনগণের কল্যাণ সাধিত হয় না বলে আমি মনে করি।
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলতে আমরা এমন একটি অর্থব্যবস্থাকে বুঝি যেখানে উৎপাদনের উপাদানগুলো সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া ব্যক্তিমালিকানায় পরিচালিত হয়। এখানে ব্যক্তি উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন ও ভোগের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে। ফলে ব্যক্তি নিজ বিবেচনায় কী, কোথায়, কীভাবে উৎপাদন করা হবে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। উৎপাদনকারী বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করে। ব্যক্তিস্বার্থ ও পছন্দের স্বাধীনতা ধনতান্ত্রিক অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করে। এ অর্থব্যবস্থায় সমাজে আয় ও সম্পদ বণ্টনে চরম বৈষম্য বিরাজ করে। এখানে ধনী শ্রেণি আরও ধনী এবং দরিদ্র শ্রেণি আরও বেশি দরিদ্র হয়ে পড়ে। সম্পদের অসম বণ্টনের ফলে সমাজ প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ হয়ে যায়। এদের একটি হলো বিত্তবান শ্রেণি এবং অপরটি হলো বিত্তহীন শ্রেণি। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, জনাব রাহীব ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার দেশে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেখানে সরকার কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করে না। ফলে প্রত্যেকে নিজ নিজ স্বার্থে অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদন করে।
সুতরাং বলা যায়, ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনকারীরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় উৎপাদন কার্য পরিচালনা করে। ফলে এ অর্থব্যবস্থায় সার্বিক সামাজিক কল্যাণ হ্রাস পায়।
Related Question
View Allভূমিবাদীদের (Physiocracy) মতে, কৃষিই (খনি ও মৎস্য ক্ষেত্রসহ) হলো অন্যতম বা প্রধান উৎপাদনশীল খাত।
দুষ্প্রাপ্যতা বলতে অসীম অভাবের তুলনায় সম্পদের সীমাবদ্ধতাকে বোঝায়।
মানুষ তার অভাব পূরণ করার জন্য যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা ভোগ করতে চায় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। অর্থাৎ মানবজীবনের অসংখ্য অভাবের তুলনায় উৎপাদনের উপকরণ তথা প্রাপ্ত সম্পদের স্বল্পতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে। উদাহরণ- সাকিবের কাছে এক হাজার টাকা আছে। তার শার্ট, প্যান্ট এবং ভালো জুতা দরকার। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তার টাকার পরিমাণ কম। এটি সম্পদের 'দুষ্প্রাপ্যতাকে' নির্দেশ করছে।
সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপাদানের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত। সেখানে প্রায় সব শিল্প- কারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকার এবং সেগুলো সরকারি বা সামাজিক নির্দেশে পরিচালিত হয়ে থাকে। তাছাড়া সমাজতন্ত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তারা সরকার নির্ধারিত দামে দ্রব্যাদি ভোগ করে থাকে। কোনো ভোক্তা চাইলেই নিজের খুশিমতো অর্থ ব্যয় করে কোনো কিছু ভোগ করতে পারে না। এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফা নেই বললেই চলে, কারণ সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলি জনগণের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য পরিচালিত হয়। উদ্দীপকের সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে জমি, কলকারখানা ও খনি প্রভৃতি প্রায় সকল কিছুর মালিকানা থাকে সরকার বা রাষ্ট্রের হাতে। সেখানে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ও বণ্টন প্রক্রিয়া (কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে, কীভাবে এবং কাদের জন্য উৎপাদিত হবে) সম্পর্কে মৌলিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সুমির দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত।
সুমির দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার কিছু পার্থক্য রয়েছে।
যে অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণের। ওপর রাষ্ট্রীয় বা সরকারি মালিকানা থাকে তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। পক্ষান্তরে, যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলা হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তার স্বাধীনতা থাকে না। অপরদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ভোক্তা অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। উদ্দীপকের সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। কারণ সেখানে দাম-সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব কেন্দ্রের হাতে ন্যস্ত। সেখানে কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালিত হয়। অপরদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় চাহিদা- যোগানের স্বয়ংক্রিয় ঘাত-প্রতিঘাতের দ্বারা দাম নির্ধারিত হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কোন কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে ও কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং কীভাবে বণ্টন করা হবে- এসব পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা নির্ধারিত হয়। তাই সেখানে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের কোনো সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা হয়, তাই সেখানে ধনতন্ত্রের মতো সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা ও মুনাফা অর্জনের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। সেই সাথে বেসরকারি পর্যায়ে - অর্থনৈতিক কার্যাবলির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণও বজায় থাকে।
কাজেই বলা যায়, সুমির দেশের অর্থব্যবস্থা তথা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার অনেক পার্থক্য রয়েছে।
ইংল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি হলো- "অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে।"
অর্থনীতির ভাষায় শ্রমিকদেরকে কাজে উৎসাহিত করার জন্য গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থাই হলো প্রণোদনা।
অর্থনীতিতে উৎসাহ বা প্রণোদনা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষ প্রণোদনা পায় বলেই যে কোনো কাজ যত্নের সাথে সম্পন্ন করে। কাজের স্থায়িত্ব, শ্রমিকদেরকে লভ্যাংশ প্রদান, বিনামূল্যে পোশাক, চিকিৎসা, বাসস্থান, বেতনসহ ছুটি, বৃদ্ধ বয়সে পেনশন, কাজের ঝুঁকি হ্রাস ইত্যাদি প্রণোদনার কৌশল ব্যবহার করে শ্রমিকদেরকে অধিক উৎপাদনে উৎসাহিত করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!