মোট উৎপাদনের পরিমাণকে মোট উপকরণ বা উপাদান দ্বারা ভাগ করলে যা পাওয়া যায় তাই গড় উৎপাদন।
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ডের কারণে যদি সমাজের অধিকাংশ মানুষের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয় তখন উক্ত ব্যয়কে সামাজিক ব্যয় (Social cost) বলে।
ধরি, সমগ্র কুষ্টিয়া জেলায় তামাক চাষাবাদ বাবদ ১৬ কোটি টাকা ব্যক্তিগত ব্যয় হয়। বছর শেষে দেখা যায় উক্ত জেলায় তামাক চাষ ও তামাক থেকে সিগারেট উৎপাদন করার কারণে ২০ জন লোক ক্যান্সার ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। তাদের জন্য পরিবার ও সরকারের মোট ব্যয় হয় ২ কোটি টাকা। এই ২ কোটি টাকা ব্যয়কে সামাজিক ব্যয় বলে।
একজন সফল সংগঠকের গুণাবলি অনুসরণের মাধ্যমে জনাব শামীম সফল সংগঠক হতে পেরেছেন।
যে ব্যক্তি মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে উৎপাদনের সমস্ত উপকরণকে একত্রিত করে উদ্যম, কর্মস্পৃহা, উদ্ভাবনী শক্তির সাহায্যে সংগঠনকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসার লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করেন তাকে সংগঠক বলে সংগঠকের যোগ্যতা ও গুণাবলির ওপর সংগঠনের সফলতা ও বিফলতা নির্ভর করে। তাই একজন সংগঠকের যেসব গুণাবলি থাকা আবশ্যক তা হলো সাংগঠনিক সক্ষমতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা, সততা, সময়ানুবর্তিতা, ঝুঁকি গ্রহণ, দূরদর্শিতা প্রভৃতি। তাছাড়া সিন্ধান্ত গ্রহণে সঠিকতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অধ্যবসায়, পূর্ব অভিজ্ঞতা ইত্যাদি গুণাবলি একজন সফল ও আত্মবিশ্বাসী সংগঠকের মধ্যে থাকা প্রয়োজন।
জনাব শামীম তার ব্যবসায়িক জীবনের সকল ক্ষেত্রে সততার সাক্ষর রাখতে সমর্থ হয়েছেন। তিনি ব্যবসায়িক লেনদেন ও কথাবার্তায় সৎ ও নির্ভরযোগ্য। তাছাড়া সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েই তিনি সফলকাম হয়েছেন। এজন্য বলা যায়, ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে উপযুক্ত
সংগঠনই হলো ব্যবসায়ের মৌলিক ও প্রধান বিষয়।
তাই সংগঠন ব্যবস্থাপনা যত সুন্দর ও সুষ্ঠু হবে, ব্যবসায়ের সাফল্য তত বেশি হবে। সংগঠন ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি। যার ওপর ব্যবসায়ের সাফল্য বহুলাংশে নির্ভর করে। এজন্যই বলা হয়ে থাকে, সংগঠন ব্যবস্থাপনা যাত সুন্দর হবে ব্যবসায়ের সাফল্য তত বেশি হবে। একটি ভালো সংগঠনের নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো থাকা আবশ্যক সংগঠনের প্রথম ধাপে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য কী হবে তা নির্ধারণ করতে হয় এবং এই উদ্দেশ্য ও প্রকৃতি অনুযায়ী ব্যবসায়ের সাংগঠনিক রূপ তৈরি করতে হবে। ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য ও প্রকৃতি ঠিকমতো নির্ধারণ করার পরবর্তী ধাপে ব্যবসায়ের সমগ্র কার্যাবলি বিশ্লেষণ করতে হয়। পাশাপাশি কার্যাবলি বিশ্লেষণের পর কাজের ধরন ও উদ্দেশ্যের মিল অনুযায়ী কাজগুলোকে কয়েকটি বিভাগে বিভক্ত করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একই বিভাগের কাজগুলোকে উপ-বিভাগে ভাগ করা হয়। অভিজ্ঞতা, ক্ষমতা ও দক্ষতা অনুসারে প্রতি বিভাগ ও উপবিভাগের প্রতিটি কর্মীর সুনির্দিষ্ট কর্তব্য শিার করা হয়। তাছাড়া, প্রতিটি কর্মীকে স্বাধীনভাবে নির্বিঘ্নে এবং যথাযথভাবে কাজ করার অধিকার দিতে হয়। উপরের বৈশিষ্ট্যগুলো যে সংগঠনের মধ্যে পরিলক্ষিত হবে, সেই সংগঠনের
Related Question
View Allউৎপাদন কাজে নিয়োজিত মানুষের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম, যার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করা যায় তাকেই অর্থনীতিতে শ্রম বলে।
অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত রেখে উৎপাদন ক্ষেত্রে ক্রমাগতভাবে অধিক হারে শ্রম ও মূলধন নিয়োগ বৃদ্ধি করা হলে উৎপাদন যদি উপকরণ নিয়োগের হার অপেক্ষা কম হারে বৃদ্ধি পায়, তাহলে তাকে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি বলে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উৎপাদন কৌশল ও অন্যান্য উপকরণ স্থির রেখে একটি উপকরণ বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন প্রাথমিকভাবে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ে। এক পর্যায়ে উপকরণটির ব্যবহার আরও বাড়ালে উৎপাদন ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ে। মনে করি, ভূমি ও শ্রম দুটি উপকরণ আছে। উৎপাদনক্ষেত্রে ভূমিকে স্থির রেখে শ্রমের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হলে মোট উৎপাদন প্রথম পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পায় এবং পরে ঐ জমিতে আরও শ্রম নিয়োগ করা হলে মোট উৎপাদন ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ে। উপকরণ ব্যবহারের সাথে উৎপাদন বাড়ার এ নিয়মকে অর্থনীতিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি বলা হয়।
কবিরের উপযোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি দ্বারা রূপগত ও স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
কোনো বস্তুর আকৃতি বা রূপ পরিবর্তনের মাধ্যমে যে নতুন উপযোগ সৃষ্টি হয় তা হলো রূপগত উপযোগ। আবার, কোনো দ্রব্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করলে যে উপযোগ সৃষ্টি হয়, তা স্থানগত উপযোগ নামে পরিচিত। যেমন- কাঠকে সুবিধামতো পরিবর্তন করে আসবাবপত্র তৈরি করলে রূপগত উপযোগের সৃষ্টি হয়। আর এইসব আসবাবপত্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে বিক্রি করলে স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি হয়। কবির একজন আসবাবপত্র ব্যবসায়ী। তিনি কাঠ সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র তৈরি করেন। কাঠ থেকে আসবাবপত্র তৈরি হলে নতুন উপযোগ সৃষ্টি হয়। আর এটিই হলো রূপগত উপযোগ। তাছাড়া কবিরের তৈরি করা আসবাবপত্র দেশের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হয় এবং তিনি আসবাবপত্রের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে থাকেন। এভাবে বিভিন্ন এলাকায় আসবাবপত্র পাঠানোর মাধ্যমে এগুলোর স্থানগত উপযোগও বৃদ্ধি পায়। তাই বলা যায়, কবিরের তৈরি আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে রূপগত ও স্থানগত উপযোগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘ হ্যাঁ, কবিরকে একজন সফল সংগঠক বলা যায়।
উৎপাদন ব্যবস্থায় যে ব্যক্তি সংগঠনের কাজ করেন তাকে সংগঠক বলে। একজন সফল সংগঠক নিজেই উৎপাদনের সকল পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ করেন এবং সে অনুযায়ী কারবার গঠন ও পরিচালনা করেন। এছাড়াও তিনি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ সংগ্রহ এবং সেগুলোর সমন্বয় করে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত করেন। একজন সংগঠক কারবার প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে উৎপাদিত দ্রব্য বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সকল দায়িত্ব ও ঝুঁকি বহনের কাজটিও করে থাকেন।
উদ্দীপক অনুসারে কবির নিজেই ব্যবসায়ের সকল নীতি নির্ধারণ ও ব্যবসায় পরিচালনা করেন। তাছাড়া সে উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণ তথা ভূমি, শ্রম ও মূলধনের সুষ্ঠু সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে নিজের আসবাবপত্রের ব্যবসায় সম্প্রসারণ করেন। তিনি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে তার উৎপাদিত দ্রব্যের নতুন বাজার অনুসন্ধান করেন, যার ফলে দ্রব্যের চাহিদা এবং মুনাফা বৃদ্ধি পায়।
এছাড়াও কবির তার দোকানে অধিক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করেন।
কাজেই, কবির তার ব্যবসায়ের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে একজন সফল সংগঠক হতে পেরেছেন বলে আমি মনে করি।s
বিভিন্ন উপকরণ নিয়োগের দ্বারা যে পরিমাণ উৎপাদন পাওয়া যায় তাকে মোট উৎপাদন বলে।
ব্যক্তিগত ব্যয় হচ্ছে (ব্যক্তিমালিকানাধীন ফার্মের) উৎপাদনের সাথে জড়িত সব ধরনের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ব্যয়ের যোগফল।
কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভাড়া বা উপকরণ ক্রয়ের জন্য দৃশ্যমান যে ব্যয় করে তাকে প্রকাশ্য ব্যয় বলে। যেমন- ফার্মে কর্মরত মানুষের বেতন ও ভাতাদি, কাঁচামাল, মাধ্যমিক দ্রব্য ক্রয়ের জন্য ব্যয়, বাড়ি ভাড়া, মূলধনের সুদ ইত্যাদি হলো প্রকাশ্য ব্যয়। আর উদ্যোক্তার নিজের শ্রমের মূল্য, স্ব-নিয়োজিত সম্পদের ব্যয় ও উদ্যোক্তার আনুষঙ্গিক ব্যয় ইত্যাদি হলো অপ্রকাশ্য ব্যয়। এই সকল প্রকাশ্য ও অ-প্রকাশ্য ব্যয়ের সমষ্টিই হলো ব্যক্তিগত ব্যয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!