ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনের অনিশ্চয়তাই হলো ব্যবসায়িক ঝুঁকি।
যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা হলো রাজনৈতিক অস্থিরতা।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়। এতে ব্যবসায়ের প্রসার সম্ভব হয় না। ফলে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তারা নতুন কিছু করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। অন্যদিকে, এ ধরনের সমস্যা দেশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকে অনুৎসাহিত করে। এসব কারণে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে।
জনাব শিফাতের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে অধ্যবসায়, সৃজনশীলতা, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা প্রভৃতি গুণগুলো ভূমিকা রেখেছে।
একজন উদ্যোক্তাকে অধ্যবসায়ী হতে হয়। কারণ কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কোনো কাজে সফলতা আসে না। আবার, তার সৃজনশীলতার গুণ তাকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্রভাবে উপস্থাপন করে। আর, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা উদ্যোক্তাকে সব বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে জনাব শিফাত লেখাপড়া শেষ করে ঢাকার অদূরে গাজীপুরে খেলনা তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। এ ধরনের কাজে ঝুঁকি থাকে। এটি জেনেও তিনি ব্যবসায় স্থাপনে এগিয়ে গিয়েছেন। আবার, খেলনা তৈরিতে নিত্য-নতুন ধারণা ও ডিজাইন প্রয়োজন হয়। আর সৃজনশীলতার মাধ্যমে তিনি এ কাজটি করেন। অন্যদিকে, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্যবসায় পরিচালনা করে সফল হন। এটি তার অধ্যাবসায়ের গুণটি প্রকাশ করে। তাই বলা যায়, জনাব শিফাতের চরিত্রের অধ্যবসায়, সৃজনশীলতা, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা প্রভৃতি গুণগুলো তাকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করেছে।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জনাব শিফাতের মতো উদ্যোক্তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে বলে আমি মনে করি।
উদ্যোক্তারা ব্যবসায় উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে শিল্প কারখানা স্থাপন করেন। এতে তার নিজের পাশাপাশি অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়। অন্যদিকে, দেশের ব্যবসায় বাণিজ্যও গতিশীল হয়। উদ্দীপকের জনাব শিফাত লেখাপড়া শেষ করে ৫ বছর আগে গাজীপুরের অদূরে শিশুদের খেলনা তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। ঝুঁকি আছে জেনেও এ কাজে তিনি নিজস্ব পুঁজি বিনিয়োগ করেন। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও সৃজনশীলতার গুণে আজ তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা।
উদ্দীপকের জনাব শিফাত তার পুঁজিকে উৎপাদনমুখী কাজে লাগিয়েছেন এর মাধ্যমে তার সম্পদের যথাযথ ব্যবহার সম্ভব হয়েছে। আবার, এ কারখানায় তার পাশাপাশি অন্যদেরও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে তাদের বেকারত্ব দূর হয়েছে এবং জীবনযাত্রার মনোন্নয়ন হয়েছে। আবার তার সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আরও অনেকেই এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসবে। ফলে নতুন করে বিপুল পরিমাণে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আর এটি দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় এবং জাতীয় আয় বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে। ফলে সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
সুতরাং, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জনাব শিফাতের মতো উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অপরিসীম।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
