জনাব সাইফুল ইসলাম বেশি সওয়াবের আশায় রমজান মাসে তাড়াহুড়া করে কুরআন তিলাওয়াত করতে থাকেন। আর তার বড় ভাই সোহান অর্থসহ বুঝে কুরআন তিলাওয়াত করলেন এবং তা থেকে নীতিমূলক ও নিষেধমূলক কতক বিষয় জানতে পারলেন। সোহানের তিলাওয়াতের পদ্ধতি দেখে মসজিদের ইমাম জনাব আঃ হামিদ বললেন, "কুরআন তিলাওয়াতের এটিই সঠিক পদ্ধতি।"

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

নাযিরা তিলাওয়াত হলো দেখে দেখে কুরআন মজিদ তিলাওয়াত করা।

উত্তরঃ

প্রতারণা একটি গর্হিত কাজ। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ধোঁকা বা প্রতারণা হতে পারে কাজে, কথায়, লেনদেন কিংবা ব্যবসায় বাণিজ্যে। প্রতারণা তা যে কাজেই হোক না কেন, কোনোক্ষেত্রেই পরস্পর ধোঁকা বা প্রতারণার আশ্রয় নেওয়াকে ইসলাম সমর্থন করে না। রাসুল (স.) যারা প্রতারক তাদের উম্মত বলে স্বীকার করেননি। এ বিষয়ে রাসুল (স.) বলেছেন, "যে প্রতারণা করে সে আমার উন্মাত নয়।" (মুসলিম)

উত্তরঃ

সাইফুল ইসলামের তিলাওয়াতে তারতিলের বিধানটি লঙ্ঘিত হয়েছে।
তারতিলের সাথে কুরআন তিলাওয়াত করা ওয়াজিব। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আপনি ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টরূপে কুরআন তিলাওয়াত করুন।" (সূরা আল-মুযাম্মিল ৪) তারতিলের সাথে কুরআন তিলাওয়াতের অর্থ হলো তাজবিদের সাথে কুরআন তিলাওয়াত করা। সহিহ শুদ্ধভাবে কুরআন পাঠের নিয়মকে তাজবিদ বলে। মহাগ্রন্থ আল-কুরআন বিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করা অপরিহার্য। কারণ অসুন্দর ও অশুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করলে নামায শুদ্ধ হবে না। আর নামায না হলে রয়েছে কঠিন শাস্তি। অশুদ্ধ তিলাওয়াতের ব্যাপারে রাসুল (স.) বলেছেন, "অনেকে কুরআন তিলাওয়াত করে আর কুরআন তাকে অভিসম্পাত করে।" তাই পাপ থেকে বেঁচে থাকার জন্য কুরআন শুদ্ধ করে তিলাওয়াত করতে হয়।
উক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় সাইফুল ইসলাম তাড়াহুড়া করে তিলাওয়াত করায় তারতিলের বিধানটি লঙ্ঘিত হয়েছে।

উত্তরঃ

জনাব সোহান কুরআন অর্থসহ বুঝে পড়ে ইলমুল আহকাম বা বিধিবিধান সম্পর্কিত বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেছেন। যার বর্ণনা সাধারণত মাদানি সূরায় এসেছে। এ সম্পর্কে ইমামের মন্তব্যটি যথার্থ।
যুগে যুগে মানুষ যখনই পাপাচারের অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে, তখনই আল্লাহ পাক তাদের আলোর দিশা হিসেবে আসমানি কিতাব নাযিল করেছেন। আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নবুয়তপ্রাপ্তির পূর্বেও গোটা বিশ্ব তথা আরবের মানুষের জীবন ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন। মূর্তিপূজা, মারামারি, মানুষ হত্যার মতো জঘন্য পাপাচারে তারা লিপ্ত ছিল। অতঃপর আল্লাহ পাক তাদের সৎপথ নির্দেশনার জন্য পবিত্র কুরআন নাযিল করেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক বলেন, "রমযান মাস, যে মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে যা মানুষের জন্য হিদায়েতস্বরূপ।"
সোহানের তিলাওয়াত সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ইমাম সাহেব বলেন- "কুরআন তিলাওয়াতের এটিই সঠিক পদ্ধতি।" অর্থাৎ কুরআনের আয়াতের অর্থ বুঝে তিলাওয়াত করতে হবে। আল-কুরআন মানবজাতির হিদায়েতের প্রধান উৎস।
তাই কুরআনকে বুঝেশুনে পড়তে হবে। কুরআন বুঝেশুনে না পড়লে ভুল পথে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর এ কারণেই ইমাম সাহেবের বক্তব্যটি সঠিক।

133

কুরআন ও হাদিস ইসলামি শরিয়তের প্রধান দুটি উৎস। ইসলামি শরিয়তের সকল বিধি-বিধান ও নিয়ম পদ্ধতি মূলত এ উৎসদ্বয় থেকেই গৃহীত। কুরআন মজিদ ও হাদিস শরিফে মানব জীবনের সকল সমস্যার মৌলিক নীতিমালা বর্ণনা করা হয়েছে। এসব মূলনীতির আলোকেই ইসলামের সকল বিধি-বিধান প্রণীত হয়েছে। কুরআন ও হাদিসের নীতিমালার বাইরে কোনো কিছু ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে হলে কুরআন মজিদ ও হাদিস শরিফ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এ অধ্যায়ে আমরা আল-কুরআন ও হাদিসের কতিপয় বিষয় সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-
■ আল-কুরআনের পরিচয়, গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব।
■ তাজবিদের নুন সাকিন ও তানবিন, মীম সাকিনের নিয়ম বর্ণনা করতে পারব।
■ বিশুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াতে আগ্রহী হব ও পাঠ করতে পারব।
■ নির্বাচিত পাঁচটি সূরার পটভূমি (শানে নুযুল) বর্ণনা করতে পারব । নাযিরা তিলাওয়াতের আদব ব্যাখ্যা করতে পারব।
■ বিশুদ্ধ উচ্চারণে কুরআনের সূরা আল-কাদর, আল-যিলযাল, আল-ফিল, কুরাইশ এবং আন-নাস্অ র্থসহ মুখস্থ বলতে ও মূল বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
■ আয়াতুল কুরসি ও সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত মুখস্থ বলতে এবং অর্থ লিখতে পারব । নৈতিক ও আদর্শ জীবন গঠনের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব।
■ মোনাজাতমূলক তিনটি হাদিস অর্থসহ বর্ণনা করতে পারব।
■ নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে হাদিসের গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব।
■ কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা অনুযায়ী সামাজিক ও নৈতিক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ হব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

লাইলাতুল কদর বা কদর রাত অত্যন্ত মর্যাদাবান ও মহিমান্বিত রাত। আল্লাহ তায়ালা এ রাতে পবিত্র কুরআন নাযিল করেন। এ রাতের ইবাদত হাজার মাস একাধারে ইবাদত করার চাইতে উত্তম। আমাদের আয়ুষ্কাল খুবই সীমিত। এ অবস্থায় এ রাতে ইবাদত করলে আমাদের নেকির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এটি আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নিয়ামতস্বরূপ। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদেরকে রহমত, বরকত ও শান্তির সওগাত দিয়ে প্রেরণ করেন। এ রাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুখ-শান্তি ও রহমত বিরাজ করতে থাকে।

157
উত্তরঃ

মুহিবের দাদা বিশ্বজগৎ ধ্বংসের তথ্য সূরা আল-যিলযালে পেয়েছেন।
সূরা যিলযালে কিয়ামত বা মহাপ্রলয়ের অভিনব বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ যখন সমগ্র দুনিয়া ধ্বংস করে দেবেন তখন সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাবে। কবর থেকে মানুষ বের হয়ে আসতে থাকবে। সমস্ত মানুষ সেই মহান দিনে নিজ নিজ কৃতকর্মের হিসাব প্রদান করতে থাকবে। প্রত্যেকে দুনিয়াতে করা তার প্রতিটি সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম পাপপুণ্যের হিসাব দিতে থাকবে এবং তা অনুযায়ী প্রতিদানস্বরূপ পুরষ্কার অথবা তিরষ্কারে ভূষিত হবে। উক্ত অবস্থার সাথে মুহিবের দাদার বক্তব্যের মিল রয়েছে। তিনি বলেছেন, "কোনো এক সময় এমন এক ভূমিকম্প সংঘটিত হবে, তখন গাছপালা খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে, পাহাড়গুলো তুলোর মতো উড়বে; সব কিছু চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।" সুতরাং বলা যায়, মুহিবের দাদা বিশ্বজগৎ ধ্বংস সংক্রান্ত তথ্য সূরা আল-যিলযালে পেয়েছেন।

138
উত্তরঃ

মুহিবের দাদা 'মুক্তির সনদ' বলতে আল-কুরআনকে বুঝিয়েছেন। কেননা আল-কুরআনই বিশ্ববাসীকে হিদায়েতের সুপথ দেখাতে পারে।
মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সার্বিক দিক ও বিভাগের একটি সুসংহত ও সুসমন্বিত বিধান কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। এ মর্মে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- "এ হচ্ছে সমগ্র মানুষের বিধান, মুত্তাকিদের জন্য উপদেশ ও পথনির্দেশনা।" (সূরা আলে-ইমরান: ১৩৮) আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, "আমি এ কিতাবে কিছুই বর্ণনা করা বাদ রাখিনি।" (সূরা আন-আম ৩৮) অন্যত্র আল্লাহ বলেন, "হে বিশ্বমানবতা তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে এসেছে উপদেশ ও তোমাদের অন্তরে যা আছে তার প্রতিকার এবং বিশ্ববাসীদের জন্য পথনির্দেশস্বরূপ।" (সূরা ইউনুস: ৫৭) তিনি আরও

বলেন, "আমি তোমার প্রতি (হে মুহাম্মদ) এ কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা আত্মসমর্পণকারীগণের জন্য সবকিছুর বিশদ বিবরণ সুস্পষ্ট পথনির্দেশক ও সুসংবাদ।" (সূরা আন-নাহল: ৮৯) আল্লাহ তায়ালা আরও বর্ণনা করেন- "এ কিতাব এটি তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানুষদেরকে তাদের পালনকর্তা নির্দেশক্রমে বের করে নিয়ে আসতে পারে অন্ধকার থেকে আলোকময় জীবনে, তাঁর পথে যিনি পরাক্রমশালী, প্রশংসিত।" (সূরা ইবরাহিম: ১) উদ্দীপকের মুহিবের এক প্রশ্নের জবাবে তার দাদা বলেন, আমাদেরকে মুক্তির সনদ হিসেবে যে নির্ভুল গ্রন্থটি দেওয়া হয়েছে, তা অনুসরণ করা উচিত।
অতএব উক্ত আলোচনা হতে বোঝা যায়, আল-কুরআনই বিশ্বমানবতার মুক্তির সনদ। তাই এ গ্রন্থের গুরুত্ব অপরিসীম।

139
উত্তরঃ

আবাবিল এক ধরনের ছোট ছোট পাখি। যা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে চলে।

164
উত্তরঃ

আয়াতুল কুরসি অত্যন্ত বরকতময় আয়াত। রাসুল (স.) এ আয়াতকে সবচেয়ে উত্তম আয়াত বলে অভিহিত করেছেন। নবি (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পাঠ করে, তার জন্য বেহেশতে প্রবেশের পথে একমাত্র মৃত্যু ব্যতীত আর কোনো বাধা থাকে না। (নাসাই) অর্থাৎ মৃত্যুর সাথে সাথেই সে বেহেশতের আরাম-আয়েশ উপভোগ করতে শুরু করবে।

172
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews