নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে 'মাদককে না বলুন'- এ প্রতিজ্ঞায় জনগণ বিশেষ করে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
অপসংস্কৃতির প্রভাব মাদকাসক্তির পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করে। চলচ্চিত্র, টিভি চ্যানেল, ইন্টারনেট প্রভৃতির মাধ্যমে আজকাল একদেশের সংস্কৃতি সহজেই অন্যদেশের সংস্কৃতি ও জনজীবনকে প্রভাবিত করে। দুই ভিন্ন সংস্কৃতির টানাপোড়নে পড়ে যুব সমাজের একটা অংশ বিভ্রান্ত ও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মাদকে আকৃষ্ট হচ্ছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব সাঈদ 'কিশোর অপরাধ' সমস্যার কারণে চিন্তিত। সাঈদ সাহেবের মেয়ে কয়েক মাস যাবৎ বিদ্যালয়ে একা যেতে সংকোচবোধ করে। কারণ ১৫-১৬ বছরের কয়েকজন ছেলে তাকে স্কুলে যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করে। এ ১৫-১৬ বছরের কয়েকজন ছেলে এরা সবাই কিশোর। অর্থাৎ, তারা যে কাজটি করছে তা কিশোর অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট। ইদানীং বাংলাদেশের শহর ও গ্রামাঞ্চল সর্বত্র কিশোর অপরাধীদের দ্বারা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনা বেড়ে চলেছে। তারা মেয়েদের প্রতি অশ্লীল ও অশোভন উক্তি করে। তাদের কারণে মেয়েরা নিরাপদে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে পারে না।
বখাটে কিশোরদের অন্যায় প্রস্তাবে সাড়া না দিলে তারা মেয়েদের অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন বা তাদের ওপর এসিড নিক্ষেপ করে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় অভিভাবকরাও তাদের আক্রমণের শিকার হন। এসব বখাটের উৎপাতে কখনও কখনও ছাত্রীদের পড়ালেখাও বন্ধ হয়ে যায়।
তাই এসব কিশোর অপরাধীদের কারণে যাতে সাঈদ সাহেবের মেয়ের স্কুলে যাওয়া এবং পড়ালেখা বন্ধ হয়ে না যায় এ চিন্তায় সাঈদ সাহেব চিন্তিত।
জনাব সাঈদ সাহেব বর্তমান কিশোর অপরাধের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এ সমস্যা সমাধানের জন্য অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করলেন। কিশোর অপরাধ সমস্যার সমাধানে সচেতনতা সৃষ্টির গুরুত্ব অনেক। তাই অভিভাবকদের সাথে আলোচনা করে যদি অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এ ব্যাপারে সচেতন করে তোলেন এবং নৈতিকতার শিক্ষা দেন তাহলে কিশোররা এ ধরনের অপরাধ করা থেকে বিরত থাকবে। সুতরাং অভিভাকেরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে যদি তাদের নিজ নিজ সন্তানদের ব্যাপারে সজাগ হন এবং তাদের সম্পর্কে যথেস্ট খোঁজখবর রাখেন তাহলে এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কিশোর অপরাধ প্রবণতার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে পিতামাতা ও পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা যদি সচেতন থাকেন তবে তারা সহজেই কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে বা সে পথ থেকে সরিয়ে আনতে পারবেন। অভিভাবকরা আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। যেমন- সন্তানদের সুস্থ মানসিক বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তাদের চলাফেরার ওপর নজর রাখতে হবে। তাদের বন্ধু ও সাথিদের সম্পর্কে খোঁজখবর রাখতে হবে। সন্তানদের সঙ্গে সহজ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ শেখালে এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা থেকে তারা দূরে থাকবে। সুতরাং বলা যায় জনাব সাইদ সাহেবের গৃহীত উদ্যোগের কার্যকারিতা আশাব্যঞ্জক ও ফলপ্রসূ।
Related Question
View Allসামাজিক সমস্যা হলো সমাজে বিরাজিত একটি অবস্থা, যা জনগণের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে এবং এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালায়। বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে।
বাংলাদেশে নানা সামাজিক সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে কিশোর অপরাধ ও মাদকাসক্তি দুটি বড়ো সমস্যা। বর্তমানে এ দুটি সমস্যা সবার জন্যই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণভাবে রাষ্ট্র বা সমাজ স্বীকৃত নয় এমন কজকে অপরাধ বলে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোরদের দ্বারা সংগঠিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধকেই বলা হয় কিশোর অপরাধ। কিশোর বয়সে এরা রাষ্ট্র ও সমাজের আইন ও নিয়ম ভাঙে বলেই তারা কিশোর অপরাধী।
বিভিন্ন দেশের সমাজবিজ্ঞানী ও আইনবিদদের মধ্যে কিশোর অপরাধের বয়স নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কাজকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে কিশোর অপরাধীর বয়স ৭ থেকে ১৮ বছর। আর জাপানে এ বয়সীমা ১৪ থেকে ২০ বছর।
আমাদের দেশে কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ দারিদ্র্য। দরিদ্র পরিবারের কিশোরদের অনেক সাধ বা ইচ্ছাই অপূর্ণ থেকে যায়। এর ফলে তাদের মধ্যে বাড়ে হতাশা এবং এ হতাশাই তাদের অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়।
বাড়ির বাইরে বা কর্মস্থলে অতি ব্যস্ততার কারণে মাতাপিতার পক্ষে তাদের সন্তানদের যথেষ্ট সময় বা মনোযোগ দিতে না পারা, আদর-যত্নের অভাব, মাতাপিতার অকালমৃত্যু বা বিবাহবিচ্ছেদ এমনকি অভিভাবকদের অতিরিক্ত শাসনের কারণেও অনেক কিশোর ধীরে ধীরে অপরাধী হয়ে ওঠে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!