বিশ্বায়ন হচ্ছে বিশ্বের সব দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা।
সরকারি নীতি এবং উৎপাদন ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এক নয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
- অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি নীতি ও উদ্দেশ্যের কোনো পার্থক্য থাকে না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নানা দেশের সরকারের নানা রকম নীতি ও উদ্দেশ্য বাণিজ্যের উপর প্রভাব বিস্তার করে।
- বিভিন্ন দেশের উৎপাদন সংগঠন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এক রকম নয়। উৎপাদনের কলা-কৌশল, কারখানা আইন, শ্রমনীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। এর ফলে বিভিন্ন দেশের মধ্যে একই ধরনের দ্রব্যের উৎপাদন ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয় এজন্য অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পৃথক হয়ে পড়ে।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'Y' দেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকার ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রচলিত এবং অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্যের একটি
তালিকা নিচে তৈরি করা হলো-
বাংলাদেশের প্রচলিত ও অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্যগুলোর তালিকা তৈরি করার পূর্বে প্রচলিত ও অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করা অতীব জরুরি। প্রচলিত রপ্তানি পণ্য বলতে সেসব পণ্যকে বোঝায় যা বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে বিদেশে রপ্তানি করে আসছে। আবার অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য বলতে
বোঝায় যেসব পণ্য পূর্বে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে রপ্তানি হতো না, কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারের সিংহভাগকে প্রতিনিধিত্ব করছে।
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের প্রচলিত ও অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্যের তালিকা হলো-
| প্রচলিত পণ্য | অপ্রচলিত পণ্য |
| ১. কাঁচা পাট | ১. হিমায়িত খাদ্য |
| ২. পাটজাত পণ্য | ২. তৈরি পোশাক |
| ৩. চামড়া | ৩. রাসায়নিক দ্রব্য |
| ৪. চা | ৪. হস্তশিল্পজাত দ্রব্য |
রপ্তানি বাণিজ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত উদ্যোগসমূহ নিচে মূল্যায়ন করা হলো-
⇨ বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে। রপ্তানিকারকদের নগদ সহায়তা প্রদানসহ সরকার নানাবিধ সহায়তা প্রদান করছে; ফলে রপ্তানিকারকদের অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান হচ্ছে।
⇨রপ্তানি পণ্য সম্প্রসারণের জন্য সরকার ৮টি পণ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার 'খাত' ও ১২টি পণ্যকে 'বিশেষ উন্নয়ন খাত' ঘোষণা করে নানাবিধ সুবিধা দিয়েছে; যার ফলে রপ্তানি পণ্যের সম্প্রসারণ হয়েছে।
⇨রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, শুল্ক, বন্দর ও পণ্যমান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর আধুনিকায়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; যার ফলে রপ্তানি বাণিজ্যের উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
⇨নতুন পণ্য রপ্তানি ও আগের পণ্যের নতুন বাজার প্রতিষ্ঠার জন্য রপ্তানি আয়ের উপর বর্ধিত ভর্তুকি (৫%) ৩ বছরের জন্য প্রদান করা হবে, ফলে নতুন পণ্য রপ্তানি ও আগের পণ্যের নতুন বাজার প্রতিষ্ঠিত হবে।
⇨একক Export Development Fund থেকে ঋণগ্রহীতাকে সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে রপ্তানি বাণিজ্যের উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
⇨ জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে রপ্তানি খাতে অবদান রাখার জন্য ৫% নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, ফলে জাহাজ নির্মাণ শিল্প রপ্তানি খাতে অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছে।
⇨ Crust Leather শিল্পকে রপ্তানি খাতে অবদান রাখার জন্য ৫% নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, ফলে এসব শিল্প রপ্তানি খাতে অবদান রাখছে।
⇨ হিমায়িত খাদ্যের চলতি মূলধন ঋণ ৫ বছরে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ হিসেবে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হবে; যার ফলে হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, রপ্তানি বাণিজ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত উদ্যোগসমূহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allকোনো অনুন্নত দেশ উন্নত দেশ বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে পরিশোধ করার শর্তে অথবা বিনা শর্তে যে সাহায্য পায় তা-ই বৈদেশিক সাহায্য।
দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘটিত হলে তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে। বলা হয়, International trade is the exchange of goods or resources among the countries, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হচ্ছে বিভিন্ন দেশের মধ্যে দ্রব্য ও সম্পদের বিনিময়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদেশে পণ্য ও সেবা বিক্রয় করাকে রপ্তানি বলে। অন্যদিকে বিদেশ থেকে পণ্য ও সেবা ক্রয় করাকে আমদানি বলা হয়।
উপরে বর্ণিত বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে, না অর্জিত হবে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
সাধারণত আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্য বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হয়। যখন একটি দেশ অন্যদেশে পণ্য ও সেবা বিক্রি করে তখন তাকে রপ্তানি বলে। আর যে প্রক্রিয়ায় একটি দেশ অন্য দেশে পণ্য ও সেবা বিক্রয় করে, তাকে রপ্তানি বাণিজ্য বলে। রপ্তানি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোনো দেশ তার নিজ দেশে উৎপাদিত পণ্য বিদেশের বাজারে বিক্রি করতে পারে। ফলে রপ্তানি আয় তথা বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ে। উদ্দীপকে মি. ইদ্রিস ময়মনসিংহে মাছ চাষ করে এবং বিক্রি করেন। কিন্তু এ বছর তিনি বেলজিয়ামের বাজারে হিমায়িত মাছ বিক্রির জন্য পাঠাচ্ছেন। অর্থাৎ মি. ইদ্রিস বিদেশের বাজারে মাছ রপ্তানি করছেন। ফলে মি. ইদ্রিসের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।
অতএব বলা যায়, মি. ইদ্রিস বেলজিয়ামে হিমায়িত মাছ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাণিজ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে যেসব পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
⇨ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধি করতে হলে শিল্পজাত দ্রব্যের মান ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। এর ফলে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাবে।
⇨ উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে কম দামে বিশ্ববাজারে রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনবোধে রপ্তানি শুল্ক হ্রাস করে কম দামে বিশ্ববাজারে পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থা নিতে হবে।
⇨ আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের শ্রেণিবিভাগ করতে হবে।
⇨ রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনীতে যোগ দিয়ে পণ্যের গুণাগুণ প্রচার করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে বিশ্ববাজার সৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
⇒ রপ্তানি উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত সকল প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে পারলে এ দেশের রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।
⇒ অল্প কয়েকটি রপ্তানি পণ্যের উপর নির্ভর না করে আরও রপ্তানি আইটেম বাড়াতে হবে।
⇨ রপ্তানি পণ্য বিজ্ঞানসম্মতভাবে গুদামজাত করা এবং যাতে পচে নষ্ট না হয়, তার জন্য যথাযথভাবে প্যাকেটিং করতে হবে।
⇒ সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্য সংগ্রহ করে এবং পরোক্ষভাবে নানা সুবিধাসহ রপ্তানিকারকদের উৎসাহ দিয়ে রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে বাংলাদেশের রপ্তানি ও রপ্তানি আয় উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের রস্তানি আয় ২৭০২৭মিলিয়ন মার্কিন ডলার
ভিন্ন সংস্কৃতির অগ্রাসন বলতে আমরা বুঝি বিদেশি সংস্কৃতি অনেকটা জোরপূর্বক গ্রহণ। বিশ্বায়নের অনিবার্য ফল হিসেবে সংস্কৃতিক আগ্রাসন চলে আসে। যেমন- পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আনক কিছুই আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির সাথে মেলে না।
অরণক্ষত আমরা সেগুলো জন্মভাবে অনুকরণ করার চেষ্টা কার। এ ধারার সংস্কৃতির প্রভাবে আমাদের তরুণ সমাজ অনেকটাই প্রভাবিত হচ্ছে। এর ফলে বাড়ছে মাদকাসক্তি, বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ এবং অপ্রয়োজনীয় বিলাসজাত। দ্রব্যের প্রতি আকর্ষণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!