বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইনটি গৃহীত হয় ২০০৯ সালে।
একজন ব্যক্তির একই সঙ্গে দুটি রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জনকে দ্বৈত নাগরিকতা বলে।
সাধারণত একজন ব্যক্তি একটি রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জনের সুযোগ পায়। তবে জন্মসূত্রসহ নাগরিকতা অর্জনের একাধিক নীতি থাকায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- বাংলাদেশ নাগরিকতা নির্ধারণে জন্মনীতি অনুসরণ করে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জন্ম ও জন্মস্থান উভয় নীতি অনুসরণ করে। কাজেই বাংলাদেশি কোনো পিতা-মাতার সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী সে ঐ রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করবে। আবার জন্মনীতি অনুযায়ী সে বাংলাদেশের নাগরিকতাও অর্জন করবে। বিনিয়োেগ, অভিবাসন ইত্যাদি উপায়ে অনুমোদনসূত্রেও এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করতে পারে। এভাবে দ্বৈত নাগরিকতার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের জনাব সালেক নাগরিকের নৈতিক কর্তব্যটি পালন করেন।
মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে, তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে। যেমন: নিজে শিক্ষিত হওয়া এবং সন্তানদের শিক্ষিত করা, সততার সাথে ভোট দান, রাষ্ট্রের সেবা করা, দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দেওয়া ইত্যাদি।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, জনাব সালেক একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যবসায়ী। তিনি নিজে উচ্চশিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি ছেলেমেয়েদেরকেও উচ্চশিক্ষিত
করে গড়ে তুলেছেন। পরিবারের ভোটার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যান এবং যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেন। তিনি দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো পণ্য আমদানি-রপ্তানি করেন না এবং দেশের যেকোনো দুর্যোগে আর্থিক সহযোগিতা করেন। জনাব সালেকের এসব কর্মকাণ্ড নৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং আমরা বলতে পারি, তিনি নাগরিকের নৈতিক কর্তব্যটি সঠিকভাবে পালন করেন।
হ্যাঁ, উদ্দীপকের জনাব সালেকের মধ্যে সুনাগরিকের গুণাবলি বিদ্যমান থাকায় তাকে সুনাগরিক বলা যায়।
রাষ্ট্রের সকল নাগরিককে সুনাগরিক বলা যায় না। এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট গুণাবলির অধিকারী হতে হয়। ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদ লর্ড ব্রাইস (Lord James Bryce; ১৮৩৮-১৯২২) 'The Hindrances to Good Citizenship' (১৯০৯) গ্রন্থে সুনাগরিকের তিনটি মৌলিক গুণের কথা উল্লেখ করেছেন। যথা: বুদ্ধি (Intelligence), বিবেক (Conscience) ও আত্মসংযম (Self-Control)। অর্থাৎ একজন ব্যক্তিকে সুনাগরিক হতে হলে এ তিনটি গুণের অধিকারী হতে হবে।
জনাব সালেকের মধ্যে সুনাগরিকের এ তিনটি গুণ রয়েছে। বুদ্ধিমান বলেই তিনি নিজে উচ্চশিক্ষিত হয়েছেন এবং ছেলেমেয়েদেরকেও উচ্চশিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন। একজন বিবেকবান নাগরিক হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকার ভোগ করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেন। পরিবারের অন্য ভোটারদের সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যান, যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেন এবং দেশের যেকোনো দুর্যোগে আর্থিক সহযোগিতা করেন। অর্থাৎ তিনি দেশ ও মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। এছাড়া সকল লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে ব্যবসায় পরিচালনা করেন এবং দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো পণ্য আমদানি-রপ্তানি করেন না। এর মাধ্যমে তার আত্মসংযমের প্রকাশ ঘটে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সুনাগরিক হতে হলে একজন ব্যক্তিকে বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম- এ তিনটি গুণের অধিকারী হতে হয়। আর জনাব সালেকের মধ্যে সুনাগরিকের এ গুণাবলি রয়েছে। তাই তিনি একজন সুনাগরিক।
Related Question
View Allপ্রায় ২৫০০ বছর পূর্বে প্রাচীন গ্রিসে নাগরিক ধারণার উদ্ভব হয়।
একজন ব্যক্তির একই সঙ্গে দুটি রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জনকে দ্বৈত নাগরিকতা বলে। সাধারণত একজন ব্যক্তি একটি রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জনের সুযোগ পায়।
তবে জন্মসূত্রসহ নাগরিকতা অর্জনের একাধিক নীতি থাকায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- বাংলাদেশ নাগরিকতা নির্ধারণে জন্মনীতি অনুসরণ করে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জন্ম ও জন্মস্থান উভয় নীতি অনুসরণ করে। কাজেই বাংলাদেশি কোনো পিতা-মাতার সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী সে ঐ রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করবে। আবার জন্মনীতি অনুযায়ী সে বাংলাদেশের নাগরিকতাও অর্জন করবে। বিনিয়োগ, অভিবাসন ইত্যাদি উপায়ে অনুমোদনসূত্রেও এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করতে পারে। এভাবে দ্বৈত নাগরিকতার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' ইউনিয়নের নাগরিকদের মধ্যে নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য পালনের বিষয়টি লক্ষ করা যায়।'
অধিকার ভোগ করতে হলে রাষ্ট্রের নাগরিকদের যেসব দায়িত্ব পালন করতে হয় সেগুলোই কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত। নাগরিকের কর্তব্য প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত। যথা- নৈতিক ও আইনগত কর্তব্য। ব্যক্তির বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে, তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে। যেমন: নিজে শিক্ষিত হওয়া এবং সন্তানদের শিক্ষিত করা, সততার সাথে ভোট দেওয়া, রাষ্ট্রের সেবা করা, বিশ্বমানবতার সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া ইত্যাদি।
উদ্দীপকের 'ক' ইউনিয়নের নাগরিকরা নৈতিক কর্তব্য পালন করেছেন। কেননা তারা ইউনিয়নের নির্বাচনে 'X' ও 'Y' ব্যক্তির মধ্য থেকে 'X' ব্যক্তিকে সৎ ও যোগ্য বলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। তাদের এই কাজের সাথে নাগরিকের অন্যতম নৈতিক কর্তব্য সততার সাথে ভোট দেওয়ার সাদৃশ্য রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, 'ক' ইউনিয়নের নাগরিকদের মধ্যে নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য পালনের প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকের 'ক' ইউনিয়নের চেয়ারম্যান 'X' ব্যক্তি যে সততা ও কর্তব্যপরায়ণতা দেখিয়েছেন তার আলোকে তাকে সুনাগরিক বলা যুক্তিসঙ্গত।
রাষ্ট্রের সব নাগরিককে সুনাগরিক বলা যায় না। এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট গুণের অধিকারী হতে হয়। ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদ লর্ড ব্রাইস (Lord James Bryce) 'The Hindrances to Good Citizenship' (১৯০৯) গ্রন্থে সুনাগরিকের তিনটি মৌলিক গুণের কথা উল্লেখ করেছেন। যথা: বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম। খ্যাতিমান এ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে, একজন ব্যক্তিকে সুনাগরিক হতে হলে এ তিনটি গুণের অধিকারী হতে হবে। একজন নাগরিক বুদ্ধিমান, বিবেকবান ও সংযমী হলেই কেবল রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে এর উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
উদ্দীপকের 'ক' ইউনিয়নের চেয়ারম্যান 'X' ব্যক্তির মধ্যে বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম এ তিনটি গুণই উপস্থিত। বুদ্ধিমান বলেই স্কুলের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি যোগ্য লোককে বেছে নিয়েছেন। পাশাপাশি বিবেকবোধসম্পন্ন হওয়ার কারণে তিনি নিজের ভাইয়ের ছেলে প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তার আত্মসংযমেরও প্রমাণ পাওয়া যায়। কেননা চেয়ারম্যান ইচ্ছা করলেই নিজের ভাইয়ের ছেলেকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে উপেক্ষা করে বৃহত্তর স্বার্থে যোগ্য প্রার্থীকেই নিয়োগ দেন। সুতরাং আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকের 'X' ব্যক্তি একজন সুনাগরিক।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত তথ্য অধিকার আইনটি ৫ এপ্রিল, ২০০৯ তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে।
নাগরিকের অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা, যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
অধিকার ব্যতীত মানুষ তার ব্যক্তিত্বকে উপলব্ধি করতে পারে না। অধিকারের মূল লক্ষ্য ব্যক্তির সর্বজনীন কল্যাণ সাধন। রাষ্ট্রের নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য অধিকার অপরিহার্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!