সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দলিল।
বর্তমান বিশ্বে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য সরকারব্যবস্থা হলো গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা। গণতান্ত্রিক সরকারকে পরিচালনার জন্য সর্বাধিক জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হলো সুশাসন। কারণ সুশাসনে সুস্পষ্টভাবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব-কর্তব্য, রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পর্ক, জনগণের দায়িত্ব-কর্তব্য ইত্যাদি বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে স্থান পায়।
জনাব রাজিয়া সরকারের শাসন বিভাগে কাজ করেন।
রাষ্ট্রের শাসনসংক্রান্ত কার্যাবলি পরিচালনার দায়িত্ব শাসন বিভাগের। ব্যাপক অর্থে শাসন বিভাগ বলতে রাষ্ট্রের শাসন কাজে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিকে বোঝায়। তবে প্রকৃত অর্থে রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, মন্ত্রিপরিষদ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়েই শাসন বিভাগ গঠিত। শাসন বিভাগ আইন বিভাগ কর্তৃক প্রণীত আইন বাস্তবায়ন করে এবং সে অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করে। দেশের অভ্যন্তরে, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে এবং বিদেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জনাব রাজিয়া সরকারের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। যেখানে জনাব সোবাহানের প্রতিষ্ঠানের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা হয়। যা শাসনবিভাগের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। অতএব বলা যায়, জনাব রাজিয়া সরকারের শাসন, বিভাগে কাজ করেন।
"জনাব সোবাহানের কর্মরত প্রতিষ্ঠানটি অর্থাৎ আইন বিভাগ তথা জাতীয় সংসদ দেশের জনমতকে প্রকাশ করে।"- উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকে জনাব সোবাহান সরকারের আইনসভার স্পিকার। জাতীয় সংসদের অধিবেশন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম তিনি পরিচালনা করেন। এ আইনসভার মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা জনমতের প্রকাশ ঘটিয়ে থাকেন।
বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ। জাতীয় সংসদ পুরো দেশের জনগণকে, প্রতিনিধিত্ব করে। জনগণের ভোটে ৩০০ জন সদস্য এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৫০ জন নিয়ে এ সংসদ গঠিত। ফলে যার যার নির্বাচনি আসনের জনগণের মতের প্রতিনিধিত্ব করেন তারা।
জাতীয় বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতের প্রতিফলন ঘটিয়ে এই সভা আইন তৈরি ও পরিবর্তন করে; জনমতকে প্রকাশ করে; সরকারের আয়-ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে; সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন করে। দেশের জাতীয় তহবিলের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে; জনগণের চাহিদা অনুসারে বাজেট অনুমোদন ও কর ধার্য করে।
যেহেতু জাতীয় সংসদে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা গঠিত তাই এখানে দেশের জনমত প্রকাশ পায়।
Related Question
View Allসরকার রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। এটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অপরিহার্য এবং সকল কাজ সরকারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ইঞ্জিন ছাড়া গাড়ি যেমন চলতে পারে না, তেমনি সরকার ছাড়া রাষ্ট্র চলতে পারে না। রাষ্ট্রের আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ভূমিকা অপরিসীম।
সরকারব্যবস্থার পরিবর্তন যুগে যুগে ঘটেছে। রাষ্ট্রের শুরু থেকেই সরকারের ধরন ও ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান যুগে সরকার বিভিন্ন নীতি ও কাঠামোর ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এ কারণে সরকারের শ্রেণিবিভাগও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে।
সরকারকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- গণতন্ত্র এবং একনায়কতন্ত্র। গণতন্ত্রে জনগণই ক্ষমতার উৎস এবং তারা ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে। অন্যদিকে, একনায়কতন্ত্রে এক ব্যক্তি বা দলের শাসন চলে এবং জনগণের মতামতের কোনো পুরুত্ব থাকে না।
গণতন্ত্র হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতে থাকে। জনগণ তাদের পছন্দের রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরকার গঠন করে এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করে। এটি পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে প্রচলিত।
একনায়কতন্ত্র হলো এক ব্যক্তির বা এক দলের শাসনব্যবস্থা। এতে জনগণের অধিকার ও মতামতের কোনো স্বীকৃতি থাকে না। শাসকের ইচ্ছাই আইন হিসেবে কার্যকর হয়। এটি গণতন্ত্রের বিপরীত একটি শাসনব্যবস্থা।
একনায়কতন্ত্রে, ক্ষমতা এক ব্যক্তির বা এক দলের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। এতে জনগণের অধিকার ও মতামতের গুরুত্ব থাকে না। একনায়ক বা দল ইচ্ছামতো রাষ্ট্র পরিচালনা করে। এই শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকে না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!