হালাল রুজি অন্বেষণ মৌলিক করা ফরজের পরও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ।
মাসুদি ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে নবযুগের সূচনা ঘটান। তাই তাকে প্রাচ্যের হেরোডেটাস বলা হয়, তিনি একজন কিংবদন্তী ইতিহাসবিদ।
তিনি 'বুরুষ আল যাহাব' নামক ভূগোল বিষয়ক গ্রন্থ লেখেন। তিনি ইতিহাসক্ষেত্রে তার অনন্য প্রতিভার বিকাশ ঘটান।
ইসলাম শিক্ষা মানুষের চারিত্রিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য একমাত্র জীবনব্যবস্থার নাম 'ইসলাম'। মানবজাতির সার্বিক কল্যাণ ও বরকত নিহিত রয়েছে ইসলামে। ইসলামি শিক্ষা অর্জন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি অর্জিত হতে পারে। ইসলাম ধর্মের জ্ঞান অর্জন ব্যতীত এ ধর্মের কোনো বিধি-বিধানই পালন করা সম্ভব নয়।
ইসলামি শিক্ষা মানুষের চরিত্রে আমূল পরিবর্তন সাধন করে। যেমনটি উদ্দীপকের আব্দুল খালেকের চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে। এ শিক্ষা ব্যবস্থা একটি পরিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা। এ শিক্ষা মানুষের বাহ্যিক-আচার আচরণকে যেমন সুন্দর ও নমনীয় করে তোলে, তেমনি মানসিক দিককেও পরিশুদ্ধ করে তোলে। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য একটি মানুষকে নিষ্ঠাবান করে তোলার পাশাপাশি, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলে। এ শিক্ষা খোদাভীতি জাগ্রত করে। তাই বলা যায়, ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির জন্য ইসলামি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
হ্যাঁ, ইসলামি শিক্ষা অর্জন করার ব্যাপারে আমি আব্দুল খালেকের সাথে একমত। ইসলাম আরবি শব্দ। এর অর্থ আনুগত্য করা, আত্মসমর্পণ করা। ইসলাম শিক্ষা হচ্ছে কুরআন, হাদিস, তাওহিদ ও রিসালাতভিত্তিক শিক্ষা। এ শিক্ষা লাভের ফলে একজন শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি, চরিত্র ও আচরণ এমনভাবে তৈরি হবে। যার ফলে তার জীবনের সকল কর্মকাণ্ড ইসলামি আদর্শ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
এ শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের চরিত্রে অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়। যেমন- পাপী পাপাচার ত্যাগ করে, বেনামাজি নামাজ আদায় করে, মুনাফিক নেফাকি ত্যাগ করে, ব্যভিচারী ব্যভিচার ছেড়ে দেয়। সর্বোপরি মানুষ সকল অনাচার থেকে বিরত থেকে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকে। এই শিক্ষার অনুশীলনের দ্বারাই আল্লাহর নির্দেশ পালন করা হয়, অর্জিত হয় তাকওয়া। আর এ তাকওয়ার বলেই উদ্দীপকের আব্দুল খালেক তার চরিত্রকে করেছেন মাধুর্যময়। তিনি ঠিক সময়মতো অফিসে আসেন, কাজেও মনোযোগী, নামাজেও গাফিলতি করেন না।
ইসলাম শিক্ষা অর্জন করে বাস্তব জীবনে তা চর্চা করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। তাই আব্দুল খালেকের কর্মকাণ্ড আমি সমর্থন করি।
Related Question
View Allকযে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয় তাকে ইসলাম শিক্ষা বলে। বলে
ইসলাম শিক্ষা আল্লাহর একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় একে তাওহিদভিত্তিক শিক্ষা বলা হয়।
'তাওহিদ' শব্দের অর্থ একত্ববাদ। ইসলাম শিক্ষার মূলকথা হলো- لا اله الا الله অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা এবং ইবাদত ও আনুগত্যের যোগ্য এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে মুখে স্বীকার ও অন্তরে বিশ্বাস করার নাম তাওহিদ। পৃথিবীতে যত নবি- রাসুল এসেছেন তাদের প্রত্যেকেই এই তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন। তাওহিদে বিশ্বাস ছাড়া কোনো ব্যক্তিই মুমিন বা মুসলমান হতে পারে না। এজন্যই ইসলাম শিক্ষা তাওহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ছকে 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলো ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যকে বোঝায়।
ইসলাম শিক্ষায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয়। এ শিক্ষার সাধারণত দুই ধরনের উদ্দেশ্য রয়েছে। যথা- ধর্মীয় ও সামাজিক। ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলো হলো- আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করা, তাঁর ওপর ইমান আনা এবং ইবাদতের পদ্ধতি ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানা। যথাযথভাবে আল্লাহর ইবাদত করা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। ছকে 'ক' 'দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় এ বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে।
ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো ইসলামকে সঠিকভাবে জানা এবং বাস্তব জীবনে তা মেনে চলার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা, আইন প্রণেতা এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র সত্তা। তিনি অনাদি এবং অনন্ত। আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ এবং তার পূর্ণ আনুগত্যের শিক্ষা দেওয়াও ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলোই বোঝানো হয়েছে।
'খ' দলের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার দু'ধরনের উদ্দেশ্যের মধ্যকার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আর আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে মানুষের বিশেষ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ সেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করতে পারে। যা ছকের 'খ' দলের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর দীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করা। তাছাড়া এ শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া, ভালো কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা মুসলমানদের পবিত্র দায়িত্ব। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, 'তোমরা উত্তম জাতি। মানুষের কল্যাণের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে ও মন্দকাজে নিষেধ করবে' (সুরা আলে ইমরান: ১১০)। ইসলাম শিক্ষার অন্যতম সামাজিক উদ্দেশ্য হলো হালাল-হারাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন করা। এর ফলে ব্যক্তি হালাল উপার্জন করতে উৎসাহিত হবে এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকবে। কেননা হালাল উপার্জন, ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত। ইসলামের শিক্ষা সঠিকভাবে মেনে চলার মাধ্যমে পরকালীন মুক্তির পাশাপাশি দুনিয়ার জীবনেও কল্যাণ লাভ করা যায়।
উদ্দীপকের 'খ' দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় উপরের বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, তাদের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে।
ইসলামি সংস্কৃতির উৎস হলো- কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস।
দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতের মুক্তির জন্য ইসলামে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম।
ইসলামে জ্ঞানার্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত মানুষ ও পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হওয়ার জন্য জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই। আল-কুরআনের বহু আয়াতে এবং রাসুলুল্লাহ (স)-এর বিভিন্ন হাদিসে জ্ঞানার্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ। সৃষ্টির শুরুতে ফেরেশতাদের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার মূলেও ছিল জ্ঞান। ইসলামের সঠিক জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে পাপমুক্ত করে জান্নাতের উপযুক্ত করে গড়ে তোলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!