প্রতিবছর ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত হয়।
গ্রামীণ ব্যাংকের সম্প্রসারণশীল চক্র' বলতে সংস্থাটির অন্যতম একটি নীতিকে বোঝায়।
গ্রামীণ ব্যাংকের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রকে উৎপাদনশীল ও সম্প্রসারণশীল ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করা। এ লক্ষ্যে "নিম্ন আয়, নিম্ন সঞ্চয়, নিম্ন বিনিয়োগ, নিম্ন আয়” এ দুষ্টচক্রকে "নিম্ন আয়, ঋণ বিনিয়োগ, অধিক আয়, অধিক ঋণ, অধিক বিনিয়োগ, অধিক আয়” সম্বলিত সম্প্রসারণশীল ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হয়।
উদ্দীপকের 'এস এস চট্টগ্রামের' কার্যক্রমের সাথে আমার পঠিত বেসরকারি সংস্থা ইউসেপ এর কার্যক্রমের মিল রয়েছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু অথবা কিশোর-কিশোরীর ভাগ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচির প্রতিচ্ছবি লক্ষ করা যায় উদ্দীপকের 'এস এস চট্টগ্রামের' কার্যক্রমে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'এস এস চট্টগ্রাম' নামের সংস্থাটি অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি শহরের কর্মজীবী শিশুদের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা করে। সম্প্রতি এটি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করেছে। স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউসেপও শহর এলাকায় বসবাসরত শ্রমজীবী শিশু, কিশোর-কিশোরী যাদের বয়স ১০-১৪ বছর এবং যাদের অধিকাংশই বিভিন্ন বস্তিতে বাস করে তাদের নিয়ে। কাজ করে। যেসব শ্রমজীবী ছেলেমেয়েদের বয়স ১০-১১ বছরের বেশি তাদের চার বছর মেয়াদী সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রমে ভর্তি করাহয়। সাধারণ শিক্ষা পাঠ্যক্রমকে শ্রমজীবী ছেলেমেয়েদের জীবন উপযোগী করার জন্য বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত পাঠ্যসূচিকে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানো হয়। নিজস্ব স্কুল ভবনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে তাদের শিক্ষা দেওয়া হয়। এছাড়া ইউসেপ শ্রমজীবী বালক-বালিকাদের বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেছে। সাধারণ স্কুলের সাড়ে চার বছর সাধারণ শিক্ষা শেষ করার পর তার ভিত্তিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীদের কারিগরি স্কুলে ভর্তি করানো হয়। এ লক্ষ্য অর্জনে ইউসেপ ৩টি কারিগরি বিদ্যালয় পরিচালনা করছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের সংস্থাটির কার্যক্রমের সাথে ইউসেপের কার্যক্রমের মিল বিদ্যমান।
মানবসম্পদ উন্নয়নে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংস্থাটির অর্থাৎ ইউসেপের যথেষ্ট কার্যকারিতা রয়েছে।
ইউসেপ একটি সেবামূলক সংগঠন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভাগ্য উন্নয়নে এ সংগঠনটি নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। শহরাঞ্চলে জীবিকার তাগিদে অনেক শিশু-কিশোর ছোটোখাটো কাজ করে।' কাজ করতে গিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে তারা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি দেশও পিছিয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তাদেরকে নিয়ে ইউসেপের উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
ইউসেপ শ্রমজীবী ছেলেমেয়েদের জন্য সাধারণ শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে। এতে মাত্র ৪ বছরে একজন শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষ করে। স্কুলগুলোতে ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদেরকে কর্ম উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারে। আবার শ্রমজীবী বালক-বালিকাদের জন্য ইউসেপ বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। ইউসেপের টেকনিক্যাল স্কুলগুলোতে যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তা শিক্ষার্থীদের কাজের জন্য দক্ষ হিসেবে তৈরি হতে সাহায্য করে। যেমন- আশা ওয়েল্ডিং এবং ফেব্রিকেশন, অটোমেকানিক্স, টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেসমেকিং ইত্যাদি।
ইউসেপ বাংলাদেশ কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি উন্নয়নের লক্ষ্যে ট্রেনিং সেল স্থাপন করেছে। এছাড়া সংস্থাটি মনে করে সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করার পর শিক্ষার্থীরা দরিদ্র অবস্থা থেকে বের হয়ে নাও আসতে পারে। এজন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ শেষে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়। এতে শ্রমজীবী বালক-বালিকাদের আর কারও বোঝা হয়ে থাকতে হয় না। তারা নিজের এবং পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন আনতে পারে। এভাবে তারা দক্ষ মানবশক্তিতে পরিণত হয় এবং দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে। এ আলোচনা থেকে বোঝা যায়, মানবসম্পদ উন্নয়নে ইউসেপ অসাধারণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allগ্রামীণ সমাজসেবা কার্যক্রম সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত হয়।
বিবাহ সমাজে বংশের ধারা বজায় রাখে।
বিবাহিত পিতা-মাতার সন্তান বংশ সুরক্ষায় সক্ষম হয়। সন্তান পিতা-মাতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হয়। বিবাহই সন্তানকে অবৈধ সন্তানের পরিচয়ের গ্লানি থেকে রক্ষা করে এবং পিতৃ পরিচয় দান করে। সন্তানের সামাজিক পরিচিতির নিয়ামক হলো বিবাহ। বিবাহ সমাজে সন্তানের পিতৃত্ব তথা অভিভাবকত্ব নির্ধারণ করে।
রঞ্জ মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
বর্তমান যুগে মানুষকে সভ্য সমাজে সমাজে টিকে থাকতে হয় সমাজে ভালোভাবে টিকে থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন তা পূরণ করাই হলো মৌলিক মানবিক চাহিদা। অন্যভাবে বলা যায়, একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যে সকল চাহিদা পূরণ করতে হয় সেসব চাহিদাকে বলা হয় মৌলিক মানবিক চাহিদা। এ চাহিদাগুলো পূরণ ব্যতীত পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা। প্রতিটি মানুষের এ চাহিদাগুলো পূরণ করা আবশ্যক। যদি কেউ এগুলোর বেশিরভাগ পূরণ করতে না পারে তাহলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
রঞ্জুর ক্ষেত্রেও দেখা যায়, সে প্রায়ই খাদ্যের অভাবে না খেয়ে থাকে এবং স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায় না। এগুলো সবই মৌলিক মানবিক চাহিদার অন্তর্ভুক্ত। তাই বলা যায়, রঞ্জু মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত এনজিওটি হচ্ছে ইউসেপ। ইউসেপের সকল কার্যক্রমে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ করে এর সফলতা আরো বৃদ্ধি করা হয়।
সমাজকর্ম একটি স্বীকৃত পেশা। এ পেশায় একজন সমাজকর্মী তার কর্মক্ষেত্রে সমাজকর্মের বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করে সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চালায়। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকে। ইউসেপ বাংলাদেশে একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থা। এটি দরিদ্র ও দুস্থ ছেলে-মেয়েদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে থাকে। এজন্য নানা ধরনের কর্মসূচি এখানে পরিচালিত হয়ে থাকে। ইউসেপে এর কার্যক্ষেত্রে সমাজকর্মের প্রায় সব কয়টি পদ্ধতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। প্রথমত এখানে দল সমাজকর্মের পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। কেননা সাধারণ স্কুল ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দলগতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। দলীয় গতিশীলতা এখানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া সাধারণ শিক্ষার পর শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে তাদের কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে স্থানান্তর করা হয়।
ব্যক্তি সমাজকর্মের মনো-সামাজিক অনুধ্যানের প্রক্রিয়ায় এটি করাহয়ে থাকে। সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি ইউসেপে এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেননা শহরের বিশেষ একটি গোষ্ঠী বা সমষ্টির ভাগ্য উন্নয়নে ইউসেপে কাজ করে থাকে। এছাড়া ইউসেপের লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে নানা ধরনের গবেষণামূলক কাজ করা হয়ে থাকে। সমাজকর্মের বিভিন্ন কৌশলও ইউসেপে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। মূলত সমাজকর্ম একটি সাহায্যকারী পেশা। এ পেশার প্রতিটি পদ্ধতি প্রণীত হয়েছে সাহায্যার্থীর কল্যাণে। এ জন্য মানবকল্যাণধর্মী সব প্রতিষ্ঠানেই কোনো না কোনোভাবে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ হয়ে থাকে। ইউসেপের কার্যক্রমেও তাই সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহার করা যেতে পারে।
The History of Human Marriage' গ্রন্থের লেখক ফিনল্যান্ডের সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক এডভার্ড ওয়েস্টারমার্ক (Edvard Westermarck) |
পুলিশ সমাজকর্ম সমাজকর্মের একটি বিশেষায়িত শাখা।
সমাজকর্মের এ শাখা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশদের বিভিন্ন মনো-সামাজিক সমস্যা এবং প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান ও মৌলিক চাহিদা পূরণে সাহায্য করে থাকে। বাংলাদেশে পুলিশ সমাজকর্ম বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!