ই. এম. হোয়াইট যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।
সমাজস্বীকৃতভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্বামী-স্ত্রীর একত্রে বসবাস করাকে পরিবার বলে। অর্থাৎ বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এক বা একাধিক পুরুষ ও নারী, তাদের সন্তান, পিতামাতা এবং অন্যান্য ঘনিষ্ঠ পরিজন নিয়ে গঠিত সংগঠনকে পরিবার বলে।
আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় সাধারণত মা-বাবা, ভাই-বোন ছাড়াও দাদা- দাদি, চাচা-চাচি একটি বড় পরিবারে বা পাশাপাশি বাস করে। আবার শুধু স্বামী-স্ত্রীর ছোট পরিবারও আছে যাতে শুধু তাদের অবিবাহিত সন্তানরা থাকে। মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের মতে, 'পরিবার হলো ক্ষুদ্র ও স্থায়ী বর্গ, যার উদ্দেশ্য সন্তান-সন্ততির জন্মদান ও লালন পালন করা'।
শিক্ষার্থীদের মতামতগুলো সম্পূর্ণরূপে সঠিক নয়।
পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি পাঠের মাধ্যমে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জানা যায়। তাছাড়া সুনাগরিকতার বৈশিষ্ট্য, সুনাগরিকতা অর্জনের প্রতিবন্ধকতা এবং তা দূর করার উপায় পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যেমন- পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, নির্বাচন, রাজনৈতিক দল ইত্যাদির উৎপত্তি, প্রকৃতি ও কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে। তাছাড়া সামাজিক মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য, সংবিধান, জনমত প্রভৃতি পৌরনীতি ও নাগরিকতার আলোচ্য বিষয়। এছাড়া স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গঠন, কার্যাবলি, অবদান এবং নাগরিকের সাথে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নিয়ে পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি পাঠের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে শিক্ষকের প্রশ্নের জবাবে আবরার বলে, নাগরিকদের অধিকার সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য। মাশরুর বলে, মূল্যবোধ সম্পর্কে জানার জন্য। ইরফান বলে, রাষ্ট্রের কাঠামো সম্পর্কে জানার জন্য এবং তিতলী বলে, স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গঠন, কার্যাবলি ও অবদান জানার জন্য। শিক্ষার্থীদের এসব বক্তব্যে পৌরনীতি ও নাগরিকতার আলোচ্য বিষয়ের অনেক দিক প্রকাশিত হলেও সম্পূর্ণ বিষয়গুলো প্রকাশিত হয়নি। তাই বলা যায়, শিক্ষার্থীদের মতামতগুলো সম্পূর্ণরূপে যথার্থ নয়।
পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি পাঠের মাধ্যমে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গঠন, কার্যাবলি ও অবদান জানার পাশাপাশি আরও অনেক বিষয়ে জ্ঞান লাভ করা যায় বলে তিতলীর মন্তব্যের সাথে আমি একমত নই।
পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি পাঠের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিতলীর মতামত হলো স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গঠন, কার্যাবলি ও অবদান জানার জন্য পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি পাঠ করা প্রয়োজন। তবে এসব বিষয়ের পাশাপাশি পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি পাঠের মাধ্যমে আরও অনেক বিষয়ে জ্ঞান লাভ করা যায়।
পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি পাঠের মাধ্যমে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জানা যায়। তাছাড়া সুনাগরিকতার বৈশিষ্ট্য, সুনাগরিকতা অর্জনের প্রতিবন্ধকতা এবং তা দূর করার উপায় পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান যেমন- পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, নির্বাচন, রাজনৈতিক দল ইত্যাদির উৎপত্তি, প্রকৃতি ও কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে। সামাজিক মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য, সংবিধান, জনমত প্রভৃতি পৌরনীতি ও নাগরিকতার আলোচ্য বিষয়। এছাড়া পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করে। যেমন- অতীতে নাগরিকতা কীভাবে নির্ণয় করা হতো, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য কেমন ছিল, বর্তমানে নাগরিকের মর্যাদা কীরূপ এসবের ওপর ভিত্তি করে পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি ভবিষ্যৎ নাগরিক জীবনের দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
পরিশেষে বলা যায়, পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি পাঠের মাধ্যমে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গঠন, কার্যাবলি ও অবদান সম্পর্কে জানার পাশাপাশি উল্লিখিত বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। আর এ কারণেই তিতলীর মন্তব্যের সাথে আমি একমত নই।
Related Question
View Allফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ জ্যাক রুশো (Jean Jacques Rousseau) রাষ্ট্র সৃষ্টির সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রবর্তক ছিলেন।
রাষ্ট্রের চরম ক্ষমতা হলো সার্বভৌমত্ব।
রাষ্ট্র গঠনের চারটি মৌলিক উপাদানের (জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার, সার্বভৌমত্ব) মধ্যে সার্বভৌমত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সার্বভৌমত্ব শব্দটি ল্যাটিন 'Superanus' শব্দ থেকে উদ্ভব হয়েছে। যার ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Sovereignty'। এর অর্থ চরম ক্ষমতা। সার্বভৌম ক্ষমতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা বিধান করা হয়। অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বলেই রাষ্ট্র দেশের ভেতরে বিভিন্ন আদেশ-নির্দেশ জারির মাধ্যমে সকল সংঘ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কর্তৃত্ব আরোপ এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। আর বাহ্যিক ক্ষমতা বলে রাষ্ট্র সকল প্রকার বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে মুক্ত রাখে।
সার্বভৌম শক্তির ওপর রাষ্ট্রের স্থিতি নির্ভরশীল।
'ক' রাষ্ট্র কর্তৃক 'গ' রাষ্ট্রকে দখল করে নেওয়া রাষ্ট্র সৃষ্টির বল বা শক্তি, প্রয়োগ মতবাদকে সমর্থন করে।
বল প্রয়োগ মতবাদের মূল বক্তব্য হলো- বল বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে এবং শক্তির জোরে রাষ্ট্র টিকে আছে। এ মতবাদে বলা হয়, সমাজের বলশালী ব্যক্তিরা যুদ্ধ-বিগ্রহ বা বল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্বলের ওপর নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্র সৃষ্টি এবং শাসনকাজ পরিচালনা করে। স্কটিশ দার্শনিক ডেভিড হিউম (David Hume), ইংরেজ আইনজীবী এডওয়ার্ড জেংকস (Edward Jenks) প্রমুখ বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদের সমর্থক। এ সম্পর্কে এডওয়ার্ড জেংকস বলেন- 'ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেখা যায় যে, আধুনিক সকল রাষ্ট্রব্যবস্থা সার্থক রণকৌশলের ফলশ্রুতি'।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' তার পার্শ্ববর্তী দুর্বল রাষ্ট্র 'গ'-কে যুদ্ধে পরাজিত করে দখল করে নেয়, যা রাষ্ট্র সৃষ্টির বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কাজেই বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্র কর্তৃক 'গ' রাষ্ট্রকে দখল করে নেওয়া রাষ্ট্র সৃষ্টির বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদকে সমর্থন করে।
'খ' শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পেছনে ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদের প্রতিফলন ঘটেছে, যা রাষ্ট্র সৃষ্টির মতবাদগুলোর মধ্যে অধিক যৌক্তিক এবং গ্রহণযোগ্য।
ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদের মূল বক্তব্য হলো রাষ্ট্র কোনো একটি বিশেষ কারণে হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি, বরং দীর্ঘদিনের বিবর্তনের মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরে বিভিন্ন শক্তি ও উপাদান ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে হতে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে। যেসব উপাদানের কার্যকারিতার ফলে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে সেগুলো হলো- সংস্কৃতির বন্ধন, রক্তের বন্ধন, ধর্মের বন্ধন, যুদ্ধবিগ্রহ, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চেতনা এবং কার্যকলাপ ইত্যাদি। রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত ঐতিহাসিক মতবাদটিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ প্রসঙ্গে আমেরিকার ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক ড. গার্নার (Dr. James Wilford Garner) বলেন, 'রাষ্ট্র বিধাতার সৃষ্টি নয়, বল প্রয়োগের মাধ্যমেও সৃষ্টি হয়নি; বরং ঐতিহাসিক ক্রমবিবর্তনের ফলে রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে'।
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, 'খ' তার পার্শ্ববর্তী দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে। এর ফলে পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় হয় এবং এক সময় সবগুলো রাষ্ট্র মিলে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন করে। এর দ্বারা বোঝা যাচ্ছে 'খ' রাষ্ট্রের শক্তিশালী হওয়ার দিকটি ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদকে ইঙ্গিত করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন মতবাদের মধ্যে ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য। আর এ মতবাদের মধ্যেই রাষ্ট্রের উৎপত্তির সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
পারিবারিক কাঠামো অনুযায়ী পরিবার দুই প্রকার। যথা- ১. একক ও ২. যৌথ পরিবার।
আত্মসংযমের শিক্ষা পরিবারের শিক্ষামূলক কাজ।
পরিবারকে সমাজজীবনের শাশ্বত বিদ্যালয় বলা হয়। পরিবারেই একটি শিশু বর্ণমালার সাথে পরিচিত হয়। মা-বাবা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের পারস্পরিক সহায়তায় সততা, শিষ্টাচার, উদারতা, আত্মসংযম, নিয়মানুবর্তিতা, বড়দের প্রতি সম্মান ও ছোটদেরকে ভালোবাসা ইত্যাদি মানবিক গুণ শিক্ষা লাভের প্রথম সুযোগ ঘটে পরিবারে। এর মাধ্যমে একজন নাগরিক নিজেকে সব ধরনের লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে রেখে সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন, সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, রাষ্ট্রের আইন মান্য করা প্রভৃতি করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!