রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর ধরে বাংলায় অরাজকতা চলতে থাকে, এ অরাজকতাপূর্ণ সময়কে বলা হয় মাৎস্যন্যায়।
ব্রিটিশ শাসনকালে বাংলার সমাজে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ছিল কৃষক এবং কতিপয় মানুষ কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল। অন্যদিকে, মুষ্টিমেয় জমিদার ছিল সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণি। ব্রিটিশ শাসনে বাংলার অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি ও এককালের সমৃদ্ধ তাঁতশিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায়। সামাজিক অনুশাসনের দাপটে নারীসমাজ ব্যাপকভাবে পিছিয়ে পড়ে। এসব কারণে বাংলার মানুষ ব্রিটিশদের শাসন পছন্দ করেনি।
উদ্দীপকে রহমতগঞ্জে ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় আমার পাঠ্যবইয়ের বাংলায় ইউরোপীয়দের বাণিজ্য বিস্তারের বিষয়টিকে নির্দেশ করে।
ইউরোপের দেশগুলোতে অর্থনীতি বিকাশের ফলে কাঁচামাল ও উৎপাদনসামগ্রীর জন্য বাজারের সন্ধানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে তাদের লক্ষ্যস্থলে পরিণত হয় ভারতবর্ষ, বিশেষ করে বাংলা। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা অঞ্চল ছিল ধনসম্পদে পূর্ণ রূপকথার মতো একটি দেশ। এ অঞ্চলের সিল্ক ও অন্যান্য মিহি কাপড় এবং মসলা বাণিজ্যের প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে। পুঁজির শক্তিশালী প্রভাব আর উন্নত কারিগরি জ্ঞানের সমন্বয় করে ক্রমে বিদেশি বণিকরা এদেশে স্থানীয় শ্রমিকদের খাটিয়ে বড় বড় শিল্পকারখানা স্থাপন করে প্রচুর মুনাফা করতে থাকে। জনাব হাসানের মতো প্রথমে এখানে পর্তুগিজরা আসে। পরবর্তীতে ওলন্দাজ, দিনেমার, ফরাসি ও ইংরেজরা বাংলায় কারখানা স্থাপন করে। বিদেশি বণিকদের বিনিয়োগ ও ব্যবসায় রমরমা হয়ে ওঠে। দেখা গেছে, তখন শুধু কাশিমবাজারে বছরে ২২ হাজার বেল সিল্ক উৎপাদিত হতো। ওলন্দাজরা তাদের ফ্যাক্টরিতে সাতশ-আটশ মানুষ কাজ করত। ক্রমে ব্যবসার ক্ষেত্রে ইংরেজদের ভূমিকা প্রাধান্য পায়। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে তৎপর হয়। স্থানীয় শাসকদের কাজে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করে। ষড়যন্ত্র করে ২২ বছরের নবাবকে পরাজিত করে বাংলায় ইংরেজ কোম্পানির শাসন শুরু করে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত রহমতগঞ্জের ঘটনাটি বাংলায় ইউরোপীয়দের বানিজ্য বিস্তারের বিষয়টি নির্দেশ করা হয়েছে।
উদ্দীপকে জনাব গিবসনের কাজের সঙ্গে আমার পাঠ্যবইয়ের বাংলায় ইংরেজ কোম্পানির শাসন ক্ষমতা দখলের সাথে মিল রয়েছে।
বাংলায় এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়েছিল।
মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ঘটে। তাঁর হত্যার মধ্য দিয়ে মূল ক্ষমতা চলে যায় ধূর্ত ও দুর্ধর্ষ ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের হাতে। ১৭৬৫ সালে ক্লাইন্ড বাংলার দেওয়ানি লাভ করেন। ফলে বাংলায় ইংরেজ কোম্পানি শাসন শুরু হয়। বাংলার মানুষ পরাধীন হয়ে পড়ে। রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসনব্যবস্থার মতো অভিশপ্ত পদ্ধতি চালু করেন। এই অদ্ভুত শাসনব্যবস্থায় ক্লাইভ বাংলার নবাবের ওপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন কোম্পানির ওপর। এর ফলে নবাব পেলেন ক্ষমতাহীন দায়িত্ব আর কোম্পানি লাভ করল দায়িত্বহীন ক্ষমতা। এটা ছিল ইংরেজ কোম্পানির ক্ষমতা দখলের প্রভাব। আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে এর প্রভাব ছিল ভয়াবহ। দ্বৈতশাসনের ফলে অতিরিক্ত করের চাপ ও কর্মচারীদের অর্থের লালসায় বাংলায় দুর্ভিক্ষ নেমে আসে। ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত এ দুর্ভিক্ষে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোকের মৃত্যু হয়। তবে ইংরেজ কোম্পানি শাসন ক্ষমতায় আসায় কিছু ক্ষেক্রো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছিল। শিক্ষার ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন- রেল, ডাক ও তার ইত্যাদি ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যায়, যা পরবর্তীতে নবজাগরণের সূত্রপাত ঘটেছিল।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে জনাব গিবসনের কাজের বহুমাত্রিক প্রভাব বাংলায় পড়েছিল।
Related Question
View Allউপনিবেশিকরণ হলো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একটি দেশ অন্য দেশকে অর্থনৈতিক শোষণ এবং লাভের উদ্দেশ্যে নিজের দখলে আনে। দখলকৃত দেশটি দখলকারী দেশের উপনিবেশে পরিণত হয়। বাংলাও প্রায় দুইশ বছর ইংরেজদের অধীনে উপনিবেশ ছিল।
বাংলায় মানব বসতি প্রাচীনকাল থেকেই শুরু হয়। এই অঞ্চল ধনসম্পদে ভরপুর থাকায় বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে এসে বসতি গড়ে তোলে। বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই ছিল বহিরাগতদের আকর্ষণের প্রধান কারণ।
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় দীর্ঘ সময় ধরে কোনো শক্তিশালী শাসক না থাকায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই সময়কে মাৎস্যন্যায় যুগ বলা হয়। এটি সংস্কৃত ভাষায় 'বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে' এমন অরাজকতার সময় নির্দেশ করে। এ সময়ে বাংলা বহু রাজ্য বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।
বাংলার স্বাধীন সুলতানি শাসনের সূচনা হয় ১৩৩৮ সালে। সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন।
সুলতানি আমলে বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন সুলতান - শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। তিনি বাংলার বৃহদাংশ অধিকার করে 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' উপাধি গ্রহণ করেন। তার শাসনকালে বাংলার ঐক্য, 'স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়
সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ বাংলার ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বাংলার শিল্প-সাহিত্য এবং সংস্কৃতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর শাসনকালে বাংলার অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধি লাভ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!