রাজনৈতিক দল হচ্ছে একটি দেশের জনগোষ্ঠীর সেই অংশ যারা একটি আদর্শ বা কিছু নীতি বা কর্মসূচির ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানে সংগঠিত হয়।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ওপর গণতন্ত্র নির্ভর করে বলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনমত। আর নির্বাচনের মাধ্যমেই জনমত প্রকাশ পায়। নির্বাচনের মাধ্যমেই ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করে। নির্বাচিত দল সঠিকভাবে জনগণের জন্য কাজ না করলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ সেই দলকে আর নির্বাচিত করে না। অর্থাৎ নির্বাচন সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত করে। তাই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
উদ্দীপকের জনাব হাসান সাহেবের রাজনৈতিক দলটি হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এটি ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের ওপর শোষণ-নির্যাতন চলে। এই শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং বাঙালিদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী মুসলীম লীগ নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে 'মুসলীম' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দলটি সংগঠিত হয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয়। উদ্দীপকের জনাব হাসান সাহেবের রাজনৈতিক দলটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকেই নির্দেশ করে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী প্রধান রাজনৈতিক দল হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ প্রথমে পূর্ববাংলার জনগণকে স্বাধিকার আন্দোলনে সংগঠিত করে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়লাভ, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দলটি স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যায়। এরপর ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে জনগণকে স্বাধীনতা অর্জনে উদ্বুদ্ধ করে। অবশেষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নয় মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
উদ্দীপকে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা বলা হয়েছে।
পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালির অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলীম লীগ নামে যে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠিত হয়, বঙ্গবন্ধু শুরু থেকেই সেই দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য ১৯৫৫ সালে দলটির নাম হতে মুসলীম শব্দটি বাদ দেওয়া হয় এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দলটি সংগঠিত হয়। এই দলের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয়। উদ্দীপকে যে রাজনৈতিক দল ও দুঃসাহসী নেতার কথা বলা হয়েছে তা মূলত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুকেই নির্দেশ করে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন দুঃসাহসী ও সংগ্রামী নেতা। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্ব দেন। তার সারাজীবনের কর্মকান্ড, আন্দোলন-সংগ্রাম- নির্দেশিত হয়েছে বাঙালি জাতির মুক্তির লক্ষ্যে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের আইয়ুব খানের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা কর্মসূচি, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ এর নির্বাচনে তিনি একচ্ছত্র ভূমিকা রাখেন। বাঙালির অধিকার আদায়ে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের কারণে তিনি বার বার কারাবন্দি হয়েছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তিনি দমে যাননি। কী সংসদ, কী রাজপথ, সর্বদা বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন সোচ্চার। অবশেষে তার দুঃসাহসিক ও দক্ষ নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। আর বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ ও আপোষহীন নেতৃত্বের কারণেই তাকে দুঃসাহসী নেতা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অবিস্মরণীয়। তার নেতৃত্বেই আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র লাভ করেছি।
Related Question
View Allগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা।
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আদর্শ ও কর্মসূচিভিত্তিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি। রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতায় গিয়ে দলের নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা এবং নির্বাচনি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা। রাজনৈতিক দল একটি আদর্শ বা কিছু নীতি বা কর্মসূচির ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হয়।
'খ' ব্যক্তি প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
নির্বাচন হচ্ছে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া। স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রাপ্ত সব নাগরিক ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বাছাই করে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ এ দুই প্রকার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হন। প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য অথবা গোপন ভোটদান পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। প্রকাশ্য ভোটদান পদ্ধতিতে ভোেটারগণ তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে সকলের সামনে প্রকাশ্যে ভোট দেয়। এতে ভোটাররা প্রকাশ্যে 'হ্যাঁ' ধ্বনি বা 'হাত তুলে' সমর্থন দান করে। অন্যদিকে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে ভোটারগণ গোপনে ব্যালটপত্রে পছন্দকৃত ব্যক্তির নামের পাশে নির্ধারিত চিহ্ন একে বা সিল দিয়ে ভোট প্রদান করে।
উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকার একটি আসনের ভোটাররা 'খ' ব্যক্তিকে সৎ ও যোগ্য মনে করে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন। অর্থাৎ 'খ' ব্যক্তি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েছেন। আর বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় গোপন ভোটদান পদ্ধতির প্রচলন রয়েছে। গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে ভোটাররা গোপনে ব্যালটপেপারে পছন্দের ব্যক্তির নামের পাশে নির্ধারিত চিহ্ন এঁকে বা সিল দিয়ে ভোট দেন। অর্থাৎ উদ্দীপকের 'খ' ব্যক্তিও প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তির কাজগুলোর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলের অন্যতম প্রধান কাজ জনমত গঠনের প্রতিফলন ঘটেছে।
রাজনৈতিক দলের অন্যতম কাজ হচ্ছে দলীয় আদর্শ ও কর্মসূচির পক্ষে জনমত গঠন করা। এই জনমত গঠনে রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সভা, মিছিল ও গণযোগাযোগের কর্মসূচি গ্রহণ করে। এছাড়াও রাজনৈতিক দল জনগণকে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে দলীয় কর্মসূচির ব্যাখ্যা এবং অন্য দলের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তি ঢাকার একটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন। এছাড়াও নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন স্থানে মিটিং, মিছিল কর্মসূচি পালন করে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' ব্যক্তি জনমত গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনে জয়লাভের চেষ্টা চালিয়েছেন।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' ব্যক্তির ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময়, মিটিং, মিছিল প্রভৃতি কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের জনমত গঠনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে।
আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকায় আওয়ামী মুসলীম লীগ নামে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে 'মুসলীম' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ আওয়ামী লীগের মূলনীতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই দল পাকিস্তানে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!