রাষ্ট্র হলো একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান; যার জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলতে একাধিক অঞ্চল বা প্রদেশ মিলে গঠিত সরকারব্যবস্থাকে বোঝায়।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এতে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার কিছু অংশ প্রদেশ বা আঞ্চলিক সরকারের এবং জাতীয় বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকে। ফলে প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় উভয় সরকারই মৌলিক ক্ষমতার অধিকারী হয় এবং স্ব স্ব ক্ষেত্রে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র থেকে দেশ পরিচালনা করে।
উদ্দীপকের হেমায়েতের সংস্থাটির কর্মকাণ্ডের সাথে একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মিল রয়েছে।
একনায়কতন্ত্র এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা। এতে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা একজন স্বেচ্ছাচারী শাসক বা একক দল বা শ্রেণির হাতে ন্যস্ত থাকে। এতে নেতাই দলের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। একনায়কের আদেশই আইন বলে গৃহীত হয়। একনায়কতান্ত্রিক শাসককে সহায়তা করার জন্য নামমাত্র মন্ত্রী বা উপদেষ্টা পরিষদ থাকে। কিন্তু তারা শাসকের আদেশ ও নির্দেশ মেনে চলে। একনায়ক তার শাসনকাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে কারো কাছে জবাবদিহি করেন না। রাষ্ট্রের শাসনকার্যের ব্যাপারে তিনি তার ইচ্ছা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, হেমায়েত একটি বেসরকারি এনজিওতে কর্মরত। তিনি তার অফিস প্রধানের কাছে বজ্রপাতের হাত থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য রাস্তার দু'ধারে তালগাছ রোপণ করার প্রস্তাব পেশ করেন। কিন্তু অফিস প্রধান এতে রেগে যান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রস্তাব না দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। হেমায়েতের প্রস্তাবটি জনকল্যাণমুখী হলেও অফিস প্রধান তাকে আদৌ গুরুত্ব না দিয়ে প্রস্তাবটি বাতিল করে দেন। অফিস প্রধানের কাজটি একনায়কতান্ত্রিক শাসকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা একনায়কও অন্য কারো প্রস্তাব এবং উপদেশকে গুরুত্ব না দিয়ে স্বেচ্ছাচারীভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সুতরাং বলা যায়, হেমায়েতের সংস্থাটির কর্মকান্ডের সাথে একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মিল রয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি নান্নার সংস্থাটির কাজের প্রকৃতির সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আর গণতন্ত্র হলো জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত একটি শাসনব্যবস্থা। গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে। এই শাসনব্যবস্থায় জনগণ শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সকলে মিলে সরকার গঠন করে। গণতন্ত্র জনগণের সম্মতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে জনগণের মত প্রকাশের সুযোগ থাকে। সরকার জনগণের কল্যাণার্থে শাসনকার্য পরিচালনা করে। বাংলাদেশ যেহেতু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, তাই এই দেশের সরকার জনমতকে গুরুত্ব দিয়ে জনগণের কল্যাণার্থে শাসনকার্য পরিচালনা করে।
উদ্দীপকের নান্না এনজিওর অন্যান্য কর্মকর্তাকে নিয়ে অফিসের কিছু জিনিস মেরামত করার জন্য সংস্থাটির প্রধানের কাছে প্রস্তাব পেশ করেন। অফিস প্রধান তাদের কথাগুলো ধৈর্যসহকারে শোনেন এবং সকলের মতামতের ভিত্তিতে কাজটি করার নির্দেশ দেন। অফিস প্রধানের কাজে মতপ্রকাশের সুযোগ, জনমতের ওপর প্রাধান্য দেওয়া ও সকলের কল্যাণ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। আর এগুলো বাংলাদেশের মতো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালনার বৈশিষ্ট্যগুলো উদ্দীপকের নান্নার সংস্থাটির কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায় উদ্দীপকের নান্নার সংস্থাটির সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার মিল রয়েছে।
Related Question
View Allউত্তরাধিকারসূত্রে গঠিত সরকারব্যবস্থার নাম হলো রাজতন্ত্র।
যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় সম্পত্তির ওপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয় তাই পুঁজিবাদী রাষ্ট্র।
পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। এর ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এখানে অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সম্পদ ভোগ ও এর মালিকানা লাভ করে থাকে। বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই পুঁজিবাদী। যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ভারত প্রভৃতি।
'ক' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে সেই সরকারকে বোঝায় যেখানে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না। রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নন। মন্ত্রীগণ তাদের কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দায়ী থাকেন। রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির ওপর মন্ত্রীদের কার্যকাল নির্ভর করে। 'ক' রাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থায়ও এমন বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের শাসক আইনসভার নিকট দায়ী নন। এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় জাতীয় স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারেরও এ ধরনের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এ ধরনের সরকারে রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনিই প্রকৃত শাসক ও সরকার প্রধান। তিনি কোনো কাজে মন্ত্রীদের পরামর্শ গ্রহণ করতেও পারেন আবার নাও পারেন। ছকের 'ক' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থাটিও পাঠ্যবইয়ের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ছকে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী 'খ' রাষ্ট্রে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জনমতের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় সাধারণ নির্বাচনে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী দল মন্ত্রিসভা গঠন করে। দলের আস্থাভাজন ব্যক্তি হন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দল আইনসভায় বিভিন্ন দল-মতের প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন আইন পাস করে।
সংসদীয় সরকারের আইনসভা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য আইন পরিষদের নিকট দায়ী থাকে। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভার পতন ঘটে। সংসদীয় সরকারের সদস্যগণ বিশেষ করে বিরোধী দলের সদস্যগণ সংসদে বসে সরকারের কাজের সমালোচনা করার সুযোগ পায়। তাছাড়া সংসদীয় সরকার জনমতের দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় জনমতকে অনুকূলে রাখার জন্য সরকারি ও বিরোধী দল সবসময় তৎপর থাকে।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জনমতের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়- উক্তিটি যথার্থ।
এক দলের শাসন কায়েম হয় একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায়।
উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় শাসনক্ষমতা বংশ পরম্পরা অনুযায়ী হয়ে থাকে।
বিশ্বের কোনো কোনো রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানগণ উত্তরাধিকারসূত্রে শাসনক্ষমতা লাভ করেন। এ ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রাজতন্ত্র বলা হয়। এ ব্যবস্থায় রাজার ছেলে বা মেয়ে উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রের রাজা বা রানি হয়ে থাকেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!